আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

পশ্চিমবঙ্গে বিপর্যয়ের মুখে স্বাস্থ্যসেবা

মমতার আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান চিকিৎসকদের

কলকাতা প্রতিনিধি
| আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসকদের ধর্মঘটে রাজ্যটির স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এরই মধ্যে রাজ্যের ৯৭৩ চিকিৎসক বিভিন্ন হাসপাতালের দায়িত্ব থেকে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রশাসনিক ভবন নবান্নে ডেকে পাঠিয়েছিলেন আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের। কিন্তু মমতার আহ্বানে সাড়া দিলেন না তারা। শনিবার দুপুরে জিবি বৈঠকের পর নবান্নে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা। কয়েকদিনে মুখ্যমন্ত্রী যে ভাষায় কথা বলেছেন এবং রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে যেভাবে তাদের আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে, তাতে নবান্নে গিয়ে আলোচনা করা কতটা নিরপেক্ষ এবং নিরাপদ, সে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। স্পষ্টভাবে তারা জানিয়ে দিয়েছেন, নবান্নে তাদের কোনো প্রতিনিধিই যাচ্ছেন না।

পশ্চিমবঙ্গের জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে এনআরএস হাসপাতালে এসে তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। উল্লেখ্য, মমতা বলেছিলেন, এনআরএসে বহিরাগতরা ঝামেলা পাকাচ্ছেন এবং চিকিৎসকরা পদবি দেখে চিকিৎসা করান। মূলত মুখ্যমন্ত্রী এ বক্তব্যের নিরিখে তার ক্ষমা চাইতে হবে বলে যেমন অনড় রয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা, তেমনি মমতাও অনড় তার নিজের অবস্থানে। এ পরিস্থিতিতে কবে সমাধান সূত্র মিলবে, তার কোনো গ্যারান্টি নেই। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে জুনিয়র চিকিৎসকদের এ আন্দোলন ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। দিল্লির এইমসের তরফে ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে সাফ জানানো হয়েছে, ৪৮ ঘণ্টায় সমাধান না মিললে অনির্দিষ্টকালের ধরনায় বসবেন চিকিৎসকরা। এদিকে মমতার সঙ্গে শুক্রবার সন্ধ্যায় কথা বলতে যায় রাজ্যের প্রবীণ ও নামি চিকিৎসকদের একাংশ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য প্রশাসনিক ভবন নবান্নে গিয়ে তারা বিষয়টির সমাধান বের করার চেষ্টা করলেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন মমতা। অন্যদিকে জুনিয়র চিকিৎসকরাও তাদের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছেন, মমতা তার বক্তব্যের কারণে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে আন্দোলন থেকে পিছু হঠবেন না তারা। এদিকে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, এনআরএস থেকে সব হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগ খোলা থাকলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন ঘিরে কার্যত অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে হাসপাতালগুলোয়। 

এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে চিকিৎসকদের ইস্তফার সংখ্যা ৯৭৩ জনে পৌঁছে গেছে। এছাড়া অনেক চিকিৎসক ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ফলে ক্রমেই বেড়ে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবার সংকট।