আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

এক্সরে মেশিন বিকল এক যুগ

বড়াইগ্রাম উপজেলা হাসপাতাল

মোহাম্মদ আলী গাজী, বড়াইগ্রাম (নাটোর)
| দেশ

বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র এক্সরে মেশিনটি এক যুগের বেশি সময় ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। একইভাবে টেকনিশিয়ান না থাকায় প্রায় তিন বছর আগে বরাদ্দ দেওয়া অত্যাধুনিক ইসিজি মেশিনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই এখানে আগত রোগীদের রোগ নির্ণয়ে বাইরের ক্লিনিকে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে সরকারিভাবে এ হাসপাতালে একটি ইসিজি মেশিন দেওয়া হয়। তবে ইসিজি টেকনেশিয়ান না থাকায় শোভাবর্ধন করা ছাড়া মেশিনটি কোনো কাজেই লাগছে না। প্রায় ১৪ বছর আগে এ হাসপাতালে একটি এক্সরে মেশিন দেওয়া হলেও সেটি শুরু থেকেই অকেজো অবস্থায় রয়েছে। ফলে একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও) বসে বসে বেতন নিলেও দীর্ঘসময়ে মেশিনটি দিয়ে একজন রোগীরও এক্সরে করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দফায় দফায় চিঠি দিয়েও কোনো কাজ হয়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। একটি অ্যাম্বুলেন্স কোনো রকমে খুঁড়িয়ে চললেও অপরটি প্রায় এক যুগ ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। হাসপাতালের ১৬ স্বাস্থ্য সহকারী, একমাত্র ক্যাশিয়ার, হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট, জুনিয়র মেকানিক্স ও একটি বাবুর্চির পদ শূন্য রয়েছে। হাসপাতালের ডক্টরস কোয়ার্টারের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটি, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী কোয়ার্টারের আটটির মধ্যে ছয়টি ও নার্স কোয়ার্টারের তিনটির মধ্যে একটি ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের টয়লেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় মহিলা রোগীরা বাধ্য হয়ে পুরুষ ওয়ার্ডের টয়লেট ব্যবহার করেন। হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে থাকা আমেনা বেগম বলেন, রাতের বেলা পুরুষ ওয়ার্ডের টয়লেটে যেতে খুবই অস্বস্তি লাগে। তাছাড়া দিনের বেলায়ও পুরুষ ওয়ার্ডের অনেক লোকের সামনে দিয়ে টয়লেটে যাওয়াটা চরম বিব্রতকর। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. পরিতোষ কুমার বলেন, এক্সরে মেশিনটি একেবারেই বিকল, নতুন মেশিন বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। টেকনিশিয়ান পেলে ইসিজি সেবা চালু করা হবে।