আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

গেইল-হোপদের নিয়ে ভিন্ন ছক

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ছিলেন না গেইল ও রাসেল। ওই সিরিজে তিনবার ক্যারিবিয়ানদের হারিয়েছে বাংলাদেশ। গত জুলাইয়ে অবশ্য নিজেদের মাটিতে এ দুইজনকে নিয়েও সিরিজ জিততে পারেনি উইন্ডিজ। রাসেল খেলেছিলেন একটি ম্যাচ, যেটি জিতেছিল বাংলাদেশ। গেইল খেলেছিলেন তিন ম্যাচই। কিন্তু বাংলাদেশ জিতেছিল সিরিজ। গেইল-রাসেলরা সেভাবে ধারাবাহিক না হলেও নিজেদের দিনে ঝড় তুলবেন। ব্যাট হাতে তা-ব চালিয়ে একাই প্রতিপক্ষ শিবিরকে তছনছ করে দেবেন। তাদের মতো বিধ্বংসী না হলেও একই সঙ্গে আক্রমণাত্মক অথচ ধারাবাহিক খেলে রানের চাকা বরাবরই সচল রাখেন শাই হোপ। বাংলাদেশের বোলারদের জন্য এ তিনজনই হতে পারেন ভয়ের কারণ। তাই তাদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ।
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখিতে আগের ফল যেটাই হোক, গেইল-রাসেল এ দুইজনের একজন নিজের মতো খেললেও বাংলাদেশের জয় কঠিন। ওয়ালশের তাই চাওয়া, দুইজনকেই থিতু হতে না দেওয়া। এ দুইজনকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা সংবাদমাধ্যমকে জানান ওয়ালশ, ‘তাদের খেলা দেখেছি। কিছু ভাবনা-পরিকল্পনা তো আছেই। তারা ভীষণ বিপজ্জনক খেলোয়াড়, তাদের আটকে রাখতে হবে, দ্রুত আউট করে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে। এছাড়া তাদের দলে অন্যরাও আছে। তবু আমি নিশ্চিত, দল হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমরা ভালো পারফর্ম করব।’
হোপ যদিও এ দুইজনের মতো বিস্ফোরক নন, তবে কার্যকারিতায় কম যান না। সাম্প্রতিক সময়ে তিনিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান। পারফরম্যান্স দিয়ে বলাই যায় বাংলাদেশই সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষ হোপের। নিজের সেরাটা যেন জমিয়ে রাখেন বাংলাদেশের জন্যই। টাইগারদের বিপক্ষে ৯ ইনিংস খেলে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করেছেন ৩টি করে। ব্যাটিং গড় ৯৪.৫৭! বাংলাদেশের বোলিং কোচ জানান, হোপের জন্যও পরিকল্পনা আছে দলের, ‘হোপ আমাদের বিপক্ষে সবসময়ই ভালো করেছে। বিশ্বকাপের আগে দারুণ একটি টুর্নামেন্ট কাটিয়ে এসেছে। দারুণ ব্যাটসম্যান সে। আমাদের মনোযোগ দিতে হবে নিজেদের কাজে। পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলেই আমরা খুশি থাকব।’
এবার বিশ্বকাপে সবচেয়ে ছোট মাঠ নাকি টন্টন। শুক্রবারই প্রথম টন্টনের মাঠে প্রবেশ করে বাংলাদেশ দল। ফিল্ডিং অনুশীলনের আগে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুশফিকুর রহিমদের মাঠের চারপাশ খুঁটিয়ে দেখতে দেখা যায়। যদিও সমারসেট কাউন্টি ক্লাবের মাঠ অবশ্য সব দিক থেকেই এটা একদম ছোট্ট নয়। বরং সোজা বাউন্ডারি ব্রিস্টলের থেকেও খানিকটা বড়। তবে স্কয়ারের দিকে বাউন্ডারি আসলেই বেশ ছোট। এ মাঠে স্পিনারদের থাকবে তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ। ওয়ালশ জানান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একাদশেও প্রভাব রাখতে পারে মাঠের আকার। মাঠের আকার দেখে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ সংবাদমাধ্যমকে ইঙ্গিত দেন একাদশে বদলের, ‘মাঠের আকৃতির কারণে আমাদের বোলিং আক্রমণ নিয়ে ভাবতে হবে, পরিকল্পনা আর কৌশল সাজাতে হবে। এটা বেশ ছোট মাঠ। আমাদের আরও ধারালো আর ধারাবাহিক হতে হবে। চাপ সৃষ্টি করতে হবে।’ টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অবশ্য বড় রানের ম্যাচই আশা করছেন ওয়ালশ। তাতে নিজেদের ভা-ারে জমা থাকা রসদেই আশাবাদ তার, ‘সাধারণত এখানে বড় রানের ম্যাচ হয়। আমরাও তেমনটা আশা করছি। আমাদের এ পরিস্থিতিতে ভালো করার জন্য পর্যাপ্ত রসদ আছে। উইকেট নিয়ে আমরা ভীত নই। একবার ভালো শুরু পেলে, সব ঠিক হয়ে যাবে।’
প্রথম তিন ম্যাচে তিনজন পেসার খেলিয়ে আসছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চার পেসার খেলানোর কথা থাকলেও বৃষ্টিতে ওই ম্যাচই ভেস্তে যায়। উইন্ডিজের বিপক্ষে উইকেটের কন্ডিশন আর মাঠের আকারের কারণে চার পেসার খেলানোর সম্ভাবনাই বেশি। সেক্ষেত্রে দলে আসতে পারেন রুবেল হোসেন। তবে তাকে জায়গা দিতে একাদশ থেকে কাকে বাদ দেওয়া হবে তা নিশ্চিত নয়। অফ-স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজকে বাদ দেওয়ার আলাপ থাকলেও ক্যারিবিয়ান দলে বাঁহাতিদের ছড়াছড়ি থাকায় মিরাজের ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসতে হয়তো সময় লাগবে টিম ম্যানেজমেন্টের। সেক্ষেত্রে একজন ব্যাটসম্যান কম খেলিয়ে বোলিং শক্তি বাড়ানোর অপশনও খোলা থাকছে।