আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

সানডের ১০০ গোল!

শফিক কলিম
| খেলা

প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ

২০১০-১১ মৌসুমে অখ্যাত নাইজেরিয়ান ফুটবলার সানডে চিজোবাকে মোহামেডানে দলভুক্ত করেছিলেন তৎকালীন কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক। তবে সাদা-কালো জার্সিতে প্রথম মৌসুমে খুব বেশি আলোচনায় থাকতে না পারলেও পরের বছর দুটি হ্যাটট্রিকসহ ১২ গোল করে জাত চেনান সানডে। প্রিমিয়ার লিগ শেষ হতেই গুরু মানিকের সঙ্গে পাড়ি জমান মুক্তিযোদ্ধায়। সময়স্রোতে সানডে এখন ঢাকার মাঠে পরিচিত মুখ, চলতি বছর তো আবাহনী সমর্থকরাই বলতে শুরু করেছেন ‘বুড়া সানডে, চলে না’।
সানডে যেন নিজের সামর্থ্য প্রমাণ দিতে প্রিমিয়ার লিগকে বেছে নিয়েছেন, এরই মধ্যে করেছেন ১৪ গোল, তাতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ১০০ গোল করা ফুটবলার হলেন তিনি। সেটা উদযাপনে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে গতকাল করেছেন হ্যাটট্রিকই। গত আট মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলের বেশকিছু রেকর্ডের মালিক হয়েছেন মোহামেডান-মুক্তিযোদ্ধা-শেখ জামাল ঘুরে চার বছর ধরে আবাহনীতে কাটানো সানডে। আছে টানা ৭ ম্যাচ গোল করার রেকর্ড, প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক তার, ৮টি।
সানডো রেকর্ডের দিন বড় জয় পেয়েছে আবাহনী, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ৭ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতেছে তারা ৫-২ ব্যবধানে। প্রথমার্ধে ৪ গোল করে চালকের আসনে বসেছিল আবাহনী। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ২ গোল করে ম্যাচে ফেরার দারুণ ইঙ্গিত দিয়েছিল রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটি। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রথম পর্বে তারা হেরেছিল ৫-১ গোলে।
৯ মিনিটে রায়হানের লম্বা থ্রোইনে মাসিহ সাইঘানি হেডের পর দূরের পোস্টে থাকা সানডে টোকায় লক্ষ্যভেদ করেন। এক ডিফেন্ডার শেষ মুহূর্তে ফেরালেও বল আগেই পেরিয়ে যায় গোললাইন। এরপর ১২ মিনিটের মধ্যে ৩ গোল করে রহমতগঞ্জকে কোণঠাসা করে ফেলে আবাহনী। ৩২ মিনিটে কোনাকুনি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সানডে। ৪ মিনিট পর তার বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে ব্যবধান আরও বাড়ান জুয়েল রানা। ৪৪ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জোরালো শটে কাছের পোস্ট দিয়ে নাবীব নেওয়াজ জীবন জাল খুঁজে নিলে স্কোরলাইন হয় ৪-০। ৬৫ মিনিটে কঙ্গোর ফরোয়ার্ড সিও জুনাপিওর গোলে ব্যবধান কমায় রহমতগঞ্জ। জুনাপিও ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন শততম গোলের দিকে। ৩ মিনিট পর বদলি মিডফিল্ডার রাকিবুল ইসলাম ফাঁকা পোস্ট পেয়েও উড়িয়ে মেরে ব্যবধান আরও কমানোর সুযোগ নষ্ট করেন। ৭০ মিনিটে ৩০ গজ দূর থেকে দিদারুল আলমের বুলেট শট ডান পোস্টের পর বাম পোস্টে লেগে জালে জড়ালে ম্যাচে ফেরে রহমতগঞ্জ। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বেলফোর্টের বাড়ানো বল ধরে বাম পায়ের নিখুঁত শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন চিজোবা; লিগের শীর্ষ গোলদাতার গোল হলো ১৪টি। ১৬ ম্যাচে ১৩ জয়ে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে ব্যবধান ৪ পয়েন্টে নামিয়ে এনেছে আবাহনী। বসুন্ধরা অবশ্য এক ম্যাচ কম খেলেছে।