আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

নানা সমস্যায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ

মোহাম্মদ আবদুর রহিম, লাকসাম (কুমিল্লা)
| দেশ

কুমিল্লার লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজের পরিত্যক্ত ভবন- আলোকিত বাংলাদেশ

লাকসামের নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ শিক্ষক, কর্মচারী, শ্রেণিকক্ষ ও ভৌত অবকাঠামো সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এতে সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপমহাদেশের একমাত্র মহিলা নবাব মহীয়সী নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী এ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুর দিকে এটি হাই মাদ্রাসা হিসেবে চালু করা হয়। ১৯২০ সাল থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৪৩ সাল থেকে ডিগ্রি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুযোগ পান এতে। ১৯৮২ সালের ১ মে কলেজটি সরকারীকরণ হয়। এটি লাকসামের একমাত্র সরকারি কলেজ। ১৯৯৮ সাল থেকে এ কলেজে স্নাতক (সম্মান) বিভাগ চালু হলেও অবকাঠামোগত তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে কলেজটিতে সাতটি বিষয়ে অনার্স (সম্মান) কোর্স চালু রয়েছে। বর্তমানে কলেজে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ হাজার ৪২৩। কলেজ সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালে সম্মান বিভাগ চালু হওয়ার কারণে কলেজটিতে প্রদর্শকের পদসহ মোট ৭৯ শিক্ষকের পদ তৈরি হওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত হয়নি। ফলে সেই পুরোনো মঞ্জুরিকৃত ৬৭ শিক্ষকের পদই বহাল রয়েছে। এসব পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫৩ শিক্ষক। শিক্ষকরা জানান, অনার্স (সম্মান) কোর্স চালু থাকায় নিয়মানুযায়ী প্রতিটি বিষয়ে সাতজন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। সৃষ্ট পদের মধ্যে আবার কোনো কোনো বিভাগে একজন শিক্ষকও কর্মরত নেই। ফলে প্রতিটি বিষয়ে জোড়াতালি দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ ও সমাজকর্ম এবং কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। ইংরেজিতে প্রভাষকের দুটি পদের একটি শূন্য। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে চারটি পদের দুটিই শূন্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজজ্ঞিান বিভাগে প্রভাষকের দুটি করে পদও শূন্য রয়েছে। বাংলা ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে সহযোগী অধ্যাপকের পদ দুটিও রয়েছে শূন্য। হিসাববিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষকের তিনটি পদের মধ্যে একটি শূন্য রয়েছে। এছাড়া পদার্থবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণিবিদ্যা বিষয়ের প্রদর্শকের তিনটি পদে কোনো শিক্ষক নেই।
সহকারী গ্রন্থাগারিক-কাম-ক্যাটালগার পদ দুটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শূন্য রয়েছে। প্রধান সহকারী, হিসাবরক্ষক, হিসাব সহকারী, ক্যাশিয়ার এবং ক্যাশ সহকারীর পদগুলো কয়েক বছর ধরে শূন্য। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া ইলেকট্রিক-কাম-মেকানিকের একমাত্র পদ এবং দক্ষ বেয়ারারের চারটি পদের মধ্যে তিনটি, এমএলএসএস ৯টি পদের মধ্যে চারটিই শূন্য রয়েছে। পুরো কলেজে কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী নেই। ওই পদটিও কয়েক বছর ধরে শূন্য পড়ে আছে। হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় এবং শিক্ষক সংকটের কারণে ঠিকমতো অনেক বিভাগের ক্লাসও হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে তারা প্রাইভেট পড়ার প্রতি ঝুঁকছেন। একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, বাংলা ও ইংরেজি ক্লাসের সময় ৮০০ থেকে ৯০০ শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে কলেজ মিলনায়তন কক্ষে বসে ও দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হয়। ওই সময় শিক্ষক খুব জোরে চিৎকার করে পাঠদান করেন। মনে হয় যেন কোনো রাজনৈতিক নেতা জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন। এতে সঠিক পাঠ আদান-প্রদানে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মক ব্যাহত হয়। ফলে এ কলেজের শিক্ষার্থীরা অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছেন। 
নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ইমতিয়াজ আহমেদ সিদ্দিকী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন না থাকায় শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকট লেগেই রয়েছে। কলেজের শিক্ষক ও জনবল সংকটসহ অন্য সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তিনি আরও জানান, কলেজের পশ্চিমাংশে প্রায় শত বছরের পুরোনো ১৪ কক্ষের একটি ভবন বহু আগেই পরিত্যক্ত হয়েছে। দেখলে মনে হয়, এ যেন ভুতুড়ে বাড়ি। ভবনটি গোটা কলেজের সৌন্দর্যকে মøান করে দিয়েছে। এটি ভেঙে নতুন করে বহুতল ভবন নির্মাণ করলে শ্রেণিকক্ষের সংকট দূর করা সম্ভব হবে।