আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ওজোপাডিকোর প্রিপেইড মিটারে ১২ ধরনের অনিয়ম

প্রতিবাদে ১৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

খুলনা ব্যুরো
| শেষ পাতা

প্রিপেইড মিটারে বিদ্যমান দুর্নীতি প্রতিরোধে সংগ্রাম কমিটি, খুলনার সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে ওজোপাডিকোতে গ্রাহকের টাকায় চলছে হরিলুট। ওজোপাডিকোর দুর্নীতির জাঁতাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছেন গ্রাহক, যা দেখার বা শোনার কেউ নেই। সংবাদ সম্মেলনে ওজোপাডিকোর প্রিপেইড মিটারে ১২ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশসহ ১৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। 

শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর বিএমএ’র কাজী আজাহারুল হক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রিপেইড মিটারে বিদ্যমান দুর্নীতি প্রতিরোধে সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও বিএমএ খুলনার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সোমবার বেলা ১১টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন, ১৯ জুন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ২০ জুন জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ এবং ২০ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত কেসিসি মেয়র ও সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে

ওজোপাডিকোর প্রিপেইড মিটারে বিদ্যমান দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিটি গঠন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ওজোপাডিকো গ্রাহকদের জোর করে  প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দিয়ে নানা দুর্নীতির মাধ্যমে জন-অসন্তোষ সৃষ্টি করে চলেছে। ওজোপাডিকো এতটাই বেপরোয়া যে, নাগরিকদের কোনো কথায় তারা কর্নপাত করছে না। এ ওজোপাডিকোর কারণে সরকার ও সরকারপ্রধানের মর্যাদা ক্ষুণœ হচ্ছে। 

ওজোপাডিকোর প্রিপেইড মিটারে বিভিন্ন দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিনা মূল্যে প্রিপেইড মিটার দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকের কাছ থেকে সিঙ্গেল ফেজ মিটারে ৪০ টাকা ও থ্রি ফেজ মিটারের জন্য ২৫০ টাকা প্রতি মাসে কেটে নিচ্ছে ওজোপাডিকো। এছাড়া বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে বিল পরিশোধ করার কারণে গ্রাহকরা ১ শতাংশ রিবেট পাবেন। গেল ২০১৬ সাল থেকে প্রিপেইড মিটার চালু থাকলেও এপ্রিল ২০১৯ পর্যন্ত গ্রাহকদের কোনো প্রকার রিবেট দেওয়া হয়নি। আবার প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করার সঙ্গে সঙ্গে রিচার্জের টাকা ও বিভিন্ন খাতে কেটে নেয়ওা টাকার মধ্যেও ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। মিটার লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রথম রিচার্জে সঠিক বিল এলেও পরবর্তী মাস থেকে শুরু হয় অধিক বিলের ভোগান্তি, এসবই সফটওয়্যার কারসাজি বলেও সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়। এছাড়া প্রত্যেক গ্রাহকের বিল থেকে ভ্যাট কেটে নেওয়া হচ্ছে ৫ শতাংশ করে। কিন্তু গ্রাহকদের করের কোনো চালানপত্র দেওয়া হয় না। 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রিপেইড মিটারে গ্রাহকের প্রতি সবচেয়ে নিষ্ঠুর আচরণ হলো মিটার লকিং ও লক ওপেনিং পদ্ধতি। নতুন ধরনের পদ্ধতিতে কোনো ধরনের ট্রেনিং ছাড়া প্রিপেইড মিটার অপারেট করতে গিয়ে গ্রাহকদের মিটার অনিচ্ছাকৃতভাবে লক হয়ে যাচ্ছে, যা খুলতে বন্ধ ব্যতিত কর্মদিবসে ওজোপাডিকোর দারস্থ হতে হয় এবং সঙ্গে দিতে হয় অর্থ দ-ও। 

এভাবে মিটার বাইপাস করে গ্রাহক হয়রানি, নো ট্রেস বিল আদায়, বিএসটিআই’র সনদবিহীন প্রিপেইড মিটার ইত্যাদি ওজোপাডিকোর নানা হয়রানির অভিযোগ এনে উপরোক্ত কর্মসূচির সঙ্গে খুলনার সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন ও যুগ্ম সদস্য সচিব শাহ মামুনুর রহমান তুহিন, খুলনা উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন, মোড়ল নুর মোহাম্মদ, সিপিবির জেলা কমিটির নেতা মিজানুর রহমান বাবু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ মফিদুল ইসলাম, জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা খালিদ হোসেন, ন্যাপের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়, গণতান্ত্রিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য কামাল হোসেন জোয়ার্দার, সাবেক ছাত্রলীগ ফোরামের আহ্বায়ক শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাতক্ষীরা নাগরিক মঞ্চের শেখ মো. ওবায়েদুস সুলতান বাবলু, বাগেরহাটের অ্যাডভোকেট মো. শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব এমএ কাফি, জেলা পাদুকা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, পোলট্রি ফিস ফিড শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এসএম সোহরাব হোসেন, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন আন্দোলনের চেয়ারম্যান শেখ মো. নাসির, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির আলহাজ মহিউদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।