আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

চট্টগ্রামে হাসপাতাল উদ্বোধনকালে ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি

বাংলাদেশে প্রথম আন্তর্জাতিকমানের স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়েছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো
| নগর মহানগর

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলিতে বিশ্বমানের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সেবা চালু উপলক্ষে শনিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভারতের নারায়ণা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী প্রসাদ শেঠির হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা - আলোকিত

খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি বলেছেন, বাংলাদেশে এই প্রথম আন্তর্জাতিকমানের পরিকল্পিত স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়েছে। এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ফলে দেশের রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
শনিবার সকালে নগরের পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের পাশে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের উদ্বোধনকালে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তবে এসব কথা বলেন। ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর নারায়ণা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ডা. দেবী প্রসাদ শেঠি। 
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। তিনি বলেন, এ হাসপাতালে এক ছাদের নিচে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা মিলবে। হৃদরোগ বিভাগের চিকিৎসা ভারতের নারায়ণা হেলথ ও ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এ বিভাগের নামকরণ করা হয়েছে ইম্পেরিয়াল-নারায়ণা কার্ডিয়াক বিভাগ।
সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তার বক্তব্যে এ দেশের জনগণ ও রোগীদের পক্ষ থেকে ডা. দেবী শেঠিকে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি এমএ মালেক বলেন, ৭ একর জমির ওপর পাঁচটি ভবন নিয়ে ৬ লাখ ৬০ হাজার বর্গফুট জায়গায় এ দৃষ্টিনন্দন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা এখানে সর্বোচ্চ সেবা দিতে চাই। শুধু মুনাফা অর্জন নয়, চট্টগ্রামসহ দেশের স্বাস্থ্য খাতের অভাব ঘুচাতেই এ উদ্যোগ।
ডা. দেবী শেঠি হাসপাতাল পরিদর্শন করে অবকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রপাতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, নগরের পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের পাশে প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের চিকিৎসা ডা. দেবী প্রসাদ শেঠির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এ বিভাগের নামকরণ করা হয়েছে ইম্পেরিয়াল-নারায়ণা কার্ডিয়াক বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের নার্সেস এবং টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্থাপত্য সংস্থা এ হাসপাতালের মূল নকশা প্রণয়ন করে। একটি ইউরোপিয়ান কনসালটেন্ট গ্রুপ নকশা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়নের প্রকৌশল, তথ্য প্রযুক্তি এবং বায়োমেডিকেল বিষয়ে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করেছে।
হাসপাতালের ডিরেক্টর (স্ট্র্যাটেজিক কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ রিয়াজ হোসেন বলেন, এখানে রয়েছে সার্বক্ষণিক ইমার্জেন্সি সেবা এবং কার্ডিয়াক, ট্রান্সপ্ল্যান্ট, নিউরো, অর্থোপেডিক ও গাইনি অবস্? ইত্যাদি সংবলিত ১৪টি মডিউলার অপারেশন থিয়েটার; আছে ১৬টি নার্স স্টেশন ও ৬২টি কনসালটেন্ট রুম সংবলিত বহির্বিভাগ এবং আধুনিক গুণগত মানসম্পন্ন ৬৪টি ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেড, নবজাতকদের জন্য ৪৪ শয্যাবিশিষ্ট নিওনেটাল ইউনিট এবং আটটি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ। রোগী ও তার সঙ্গে আগত স্বজনদের জন্য হাসপাতাল পরিধির মাঝে থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষিত আছে। হাসপাতালে ৮৮টি সিঙ্গেল, ৭৬টি ডাবল কেবিন, আটটি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ, রোগীর স্বজনদের থাকার জন্য ৪০টি রুম এবং ২৭১ জন থাকার ডরমেটরি রয়েছে।