আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া

স্বল্পমূল্যের তামাক পণ্যের কর বৃদ্ধি না করায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে দরিদ্র্য জনগোষ্ঠী

| শেষ পাতা

রাজধানীর শ্যামলীতে শনিবার ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টর কার্যালয়ে বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে বক্তারা

১৩ জুন ২০১৯ জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টর। শনিবার রাজধানীর শ্যামলীতে স্বাস্থ্য সেক্টরের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। প্রতিক্রিয়ায় স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নি¤œ, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরে সিগারেটের সম্পূরক শুল্ক অপরিবর্তিত রেখে শুধু মূল্য পরিবর্তনের মাধ্যমে ১০ শলাকা সিগারেটের দাম যথাক্রমে ২, ১৫, ১৮ এবং ১৮ টাকা বৃদ্ধি করে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭, ৬৩, ৯৩ টাকা এবং ১২৩ টাকা। ফলে বিশেষত বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো এবারের বাজেটে ব্যাপকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এবং সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি না হওয়ায় সরকারের রাজস্ব বাড়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। সরকারের এ পদক্ষেপে বিগত বছরের তুলনায় মূল্যস্তর ভেদে তামাক কোম্পানিগুলোর আয় ৩১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। স্তরসংখ্যা অপরিবর্তিত রাখায় ভোক্তার সিগারেট স্তর পরিবর্তনের সুযোগ থেকে যাবে। 

ইকবাল মাসুদ বলেন, নি¤œস্তরে দামবৃদ্ধি মাত্র ২ টাকা করা হয়, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এদিকে সিগারেট ধূমপায়ীর প্রায় চারভাগের তিনভাগই এ নি¤œস্তরের সিগারেটের ভোক্তা। জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় না নেওয়ার ফলে নি¤œ আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতার কোনো পরিবর্তন হবে না এবং একই সঙ্গে নতুন তরুণ প্রজন্মকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করা যাবে না। তিনি বলেন, বিড়ির ক্ষেত্রে বাজেটে ফিল্টারযুক্ত বিড়ির দাম ১৫ টাকা থেকে ১৭ টাকা করা হয়েছে। ফিল্টারবিহীন বিড়িতে দাম বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৫ টাকা। ফিল্টারাবিহীন বিড়ির প্রধান ভোক্তা নিম্ন আয়ের দরিদ্র মানুষ। দরিদ্র মানুষের ওপর এ সামান্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে না। ফিল্টারবিহীন ও ফিল্টারযুক্ত বিড়িতে সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়, যার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং বিড়ি কোম্পানির মুনাফা কিছুটা হলেও কমে আসবে। কিন্তু আমাদের প্রস্তাবনায় বিড়ির ফিল্টার এবং ননফিল্টার বিভাজন তুলে দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচিত হয়নি। 

ধোঁয়াবিহীন তামাক পণ্যে করারোপের ক্ষেত্রে প্রচলিত ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা বাতিল করে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৩০ টাকা করা হয়, যা ২০১৮-১৯ এ ছিল ১২ টাকা। প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০১৮-১৯ এ ছিল ৬ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয় ৫০ শতাংশ। ওজনের ওপর ভিত্তি করে জর্দা ও গুলের মূল্য নির্ধারণ করার ফলে ধোঁয়াবিহীন (জর্দা ও গুলের) পণ্য থেকে কর আদায়ের জটিলতা কিছুটা হলেও সহজ হবে এবং আদায়কৃত করের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের

রাজস্ব বাড়বে আশা করা যায়। বাজেট প্রতিক্রিয়ায় আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, অপ্রক্রিয়াজাত তামাকের বিদ্যমান ১০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত তামাক পণ্য রপ্তানি উৎসাহিত করতে শূন্য শতাংশ রপ্তানি শুল্ক প্রস্তাবিত বাজেটেও অব্যাহত রাখা হয়েছে। বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো এখন বাংলাদেশে তামাক চাষ বৃদ্ধি করবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। সুতরাং এ পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশে তামাকের উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হবে। তিনি বলেন, সব ধরনের তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী তাদের ব্যবসা থেকে অর্জিত আয়ের ওপর বিদ্যমান ২ দশমিক ৫ শতাংশ সারচার্জ বহাল রাখা হয়েছে এবং তামাকবিরোধী সংগঠনের বহুল প্রত্যাশিত স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বৃদ্ধি না করে গেল বাজেটের মতোই ১ শতাংশ রাখা হয়। করপোরেট ট্যাক্স এবং ভ্যাট গেল বছরের মতো অপরিবর্তিত থাকার প্রস্তাব করা হয়। 

ইকবাল মাসুদ বলেন, আমরা স্বল্পমূল্যের বিড়ি-সিগারেটসহ সব তামাক পণ্যের ওপর উচ্চহারে কর বৃদ্ধির প্রস্তাব করছি। বিড়ি-সিগারেটসহ সব তামাক পণ্যের মূল্যস্তর বাতিলের প্রস্তাব করছি। বাজেটে তামাক কোম্পানিকে ইনপুট ক্রেডিট সুবিধা দেওয়ায় কোম্পানিগুলো বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা কর রেহাত করার সুযোগ পাবে। এ সুবিধা রহিত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা এবং অবিলম্বে তামাক করনীতি প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দ্য ইউনিয়নের টেকনিক্যাল কন্সালটেন্ট মাহবুবুল আলম তাহিন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব অ্যান্ড গবেষণার প্রধান অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরী, তামাকবিরোধী নারী জোটের কোঅর্ডিনেটর সৈয়দা সাঈদা আক্তার, যমুনা নিউজের স্পেশাল করেসপন্ডেট সুশান্ত সিনহা, এইড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বকুল, সাভার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের কান্ট্রি লিড কন্সালটেন্ট মো. শরীফুল ইসলাম, কান্ট্রি ম্যানেজার আবদুস সালাম মিঞা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি