আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

বেড়েছে প্রতিবন্ধীদের ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি

আফরোজা নাজনীন
| নগর মহানগর

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় সব ধরনের ভাতা, সম্মানী ও অনুদান বেড়েছে। বর্তমানে ১৬টি নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী ভাতা। বর্তমানে ১০ লাখ প্রতিবন্ধীকে ভাতা দেওয়া হলেও আগামী অর্থবছরে দেওয়া হবে মোট ১৬ লাখকে। প্রতিবন্ধীরা বর্তমানে ৭০০ টাকা করে ভাতা পান। চলতি অর্থবছরে এ জন্য ৮৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হয়েছে ১ হাজার ৯০ কোটি টাকা। ভাতা ৭৫০ টাকা করা হচ্ছে। 
বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীবান্ধব। তাদের জীবন মানোন্নয়নে এ সরকার বহুমুখী কল্যাণধর্মী কর্মকা- হাতে নিয়েছে। দেশের অনগ্রসর, বঞ্চিত, দরিদ্র, অসহায় প্রতিবন্ধী, অটিস্টিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। ভাতা উপবৃত্তি বৃদ্ধিতে এ জনগোষ্ঠী উপকৃত হচ্ছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য যে জরিপ পরিচালিত হয়, তাতে দেশে ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ১৩০ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ হচ্ছে অটিজ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। এদিকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। এ বাজেটে এ কার্যক্রমে ভাতাভোগীর সংখ্যা ও বরাদ্দ বাড়ছে। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ভাতাভোগীর সংখ্যাও ৯০ থেকে বাড়িয়ে ১ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯০ হাজার উপকারভোগী বিভিন্ন স্তরে শিক্ষার্থী বিভিন্ন হারে এ ভাতা পাচ্ছেন। এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দরিদ্র, অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবন্ধী শিশু কিশোরদের শিক্ষা লাভের সহায়তা হিসেবে ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে শুরুতে ১২ হাজার ২০৯ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় মাসিক উপবৃত্তির হার প্রাথমিক স্তরে ৩০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৪৫০, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৬০০ এবং উচ্চতর স্তরে ১০০০ টাকা।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় অর্থাৎ ২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ১৩ হাজর ৪১ জন এবং বার্ষিক বরাদ্দ ছিল ৬ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১৫০ জনে এবং বার্ষিক বরাদ্দ ৬ কোটি থেকে ৮ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৬২০ জনে এবং বার্ষিক বরাদ্দ ৮.৮০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮০ হাজার জনের জন্য বরাদ্দ ৫৪.৫০ কোটি টাকা প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, গ্রামেগঞ্জে অনেক হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী আছে, যাদের মা-বাবা শুধু এ ভাতার জন্যই তাদের পরিবারের সঙ্গে রাখে। তাই কর্মসূচি হাতে রেখেই আমরা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করব।