আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| খবর

জুন মাসের তৃতীয় রোববার আজ। বিশ্ব বাবা দিবস। বাবার প্রতি সন্তানের সম্মান, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের জন্য দিনটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়ে থাকে। সন্তানরা তাদের জন্মদাতার জন্য নানা উপহার কিনবে, দেবে। যাদের বাবা বেঁচে নেই, তারা হয়তো আকাশে তাকিয়ে অলক্ষ্যে বাবার স্মৃতি হাতড়াবেন।
হাজারো কষ্ট সয়ে তিলে তিলে যে সন্তানকে বড় করেছেন একজন বাবা, তাকে ঘিরেই এদিন হবে ব্যতিক্রমী উৎসব। তবে বাবা কি শুধুই একটি বিশেষ দিনের জন্য! তা নয়। ইংরেজিতে ‘ফাদার’ বা ‘ড্যাড’, জার্মানিতে ‘ফ্যাটা’, বাংলায় ‘বাবা’ কিংবা ভারতীয়দের ভাষায় ‘পিতাজি’Ñ যে নামেই ডাকা হোক না কেন, বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা একই রকম। এজন্য জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বের প্রায় ৭৪ দেশে বাবা দিবস পালিত হয়। তৃতীয় রোববার হিসেবে এ বছর আজ পালিত হচ্ছে বাবা দিবস। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জানানোর জন্যই এ দিবস। যদিও বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। তারপরও পৃথিবীর মানুষ বছরের একটা দিনকে বাবার জন্য রেখে দিতে চায়, যেমনটা মায়ের জন্য ‘মা দিবস’ রয়েছে। 
উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, বাবা দিবসের প্রচলন বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই। ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই প্রথম বাবা দিবস পালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় প্রথম এ দিবস পালন করা হয়। আবার সনোরা স্মার্ট ডড নামে ওয়াশিংটনে এক নারীর মাথায়ও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে। যদিও তিনি ১৯০৯ সালে ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এ আইডিয়া পান গির্জায় এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে, সেই পুরোহিত আবার মাকে নিয়ে অনেক ভালো কথা বলেছিলেন। তার মনে হয়েছিল, মায়ের পাশাপাশি বাবাদের নিয়ে কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি ছিলেন পরিবারের ছয় ভাইয়ের মধ্যে একমাত্র মেয়ে। মার্কিন গৃহযুদ্ধে তার বাবা অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় তার মা সবাইকে নিয়ে ওয়াশিংটনের স্পোক্যানে চলে আসেন। ডডের বয়স যখন ষোলো, তখন তার মা ষষ্ঠ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। সেই থেকে বাবার ওপর তার নির্ভরতা বেড়ে যায়। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই ১৯১০ সালের ১৯ জুন বাবা দিবস পালন শুরু করেন। ১৯১৩ সালে আমেরিকার সংসদে বাবা দিবসে ছুটি ঘোষণার জন্য একটি বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে সে সময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। পরে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লেন্ডন বি. জনসন প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত দেন। ছয় বছর পর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের স্বাক্ষরের মাধ্যমে আইন করে দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ১৯৭২ সালে। 
মে মাসের দ্বিতীয় রোববার যেমন ‘বিশ্ব মা দিবস’ পালিত হয়, তেমনি এ দেশেও ‘বাবা দিবস’ বেশ ভালোভাবেই উদযাপন করা হচ্ছে। দেশের মিডিয়া ও ফ্যাশন হাউসগুলো দিবসটি ঘিরে নতুন পোশাক বাজারে নিয়ে আসে। সন্তান বাবাকে নানা রকম উপহার দিয়ে দিনটি পালন করে। বাবা মানেই কর্মব্যস্ত একজন মানুষ। বাইরে থেকে ফিরে যিনি সন্তানকে কোলে নিয়ে চুমু খেয়ে ভুলে যেতে পারেন সারা দিনের ক্লান্তি।