আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

নগরে বৃষ্টিতে বর্ষাবরণ

তৃষিত প্রাণে সজল পরশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে শনিবার উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বর্ষা উৎসবের আয়োজন করে। উৎসবে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা - আলোকিত বাংলাদেশ

বিদায় নিয়েছে জ্যৈষ্ঠ। এসেছে প্রশান্তির পরশমাখা আষাঢ়। সকাল থেকেই ঝরল বৃষ্টি। কাক্সিক্ষত বৃষ্টিতে সিক্ত হলো নাগরিক মন। হৃদয়ে বয়ে গেল বৃষ্টিভেজা আনন্দধারা। সেই ঝমঝম বৃষ্টির মধ্যেই নগরের প্রকৃতিপ্রেমীরা বরণ করে নিল বর্ষাকে। আকাশে তখনও মেঘের দল এলোপাতাড়ি ছোটাছুটি করছে। মেঘের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শুরু হলো যন্ত্রসংগীত। পরপরই সংগীত সংগঠন সুরবিহার সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করে রবীন্দ্রসংগীত ‘বাদল বাউল বাজায় বাজায় রে’। সুরতীর্থ পরিবেশন করে রবীন্দ্রসংগীত ‘ধরণীর গগনের মিলনের ছন্দ’, স্বভূমি লেখক শিল্পীকেন্দ্র পরিবেশন করে লোকসংগীত ‘কলকল ছলছল নদী করে টলমল’। বহ্নিশিখা পরিবেশন করে নজরুল সংগীত ‘মেঘেরও ডমরু ঘন বাজে’। সম্মেলক গীত পরিবেশনের পর বকুলতলার মঞ্চে হয় বর্ষা কথন পর্ব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় শনিবার সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে বর্ষা উৎসব ১৪২৬ উদযাপিত হয়েছে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান বর্ষা ঋতুকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এদেশে বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতি অপরূপ সাজে

সজ্জিত হয়। গ্রামীণ জনপদ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে বর্ষা ঋতুর একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বর্ষা ঋতুর গুরুত্ব উল্লেখ করে ভিসি বলেন, বর্ষা মৌসুম বৃক্ষরোপণের একটি উপযুক্ত সময়। এই মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণ করে প্রকৃতিকে আমাদের বাসযোগ্য করতে হবে। অনুষ্ঠানে ভিসি উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেন। 

সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সহ-সভাপতি নিগার চৌধুরী বলেন, আজ আহ্বান করি, যে যেখানে সুযোগ পান, সেখানে একটি করে গাছ লাগান। আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট বলেন, প্রকৃতিবান্ধব হওয়ার জন্য আমাদের ঋতুর কাছে ফিরে যেতে হয়। প্রত্যেক ঋতুর আলাদা করে বৈশিষ্ট্য আছে। আমরা চাই, ঋতুর বৈশিষ্ট্য তার মতো করে থাকুক। প্রত্যেক ঋতুর নিজস্ব রূপ, রঙ আছে। আমরা চাই, নতুন প্রজন্ম সে রঙগুলো জানুক। প্রকৃতি আমাদের সতর্ক করছে, আমাকে গ্রহণ করো শুদ্ধভাবে। প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচব। নতুন প্রজন্মকে আমরা এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। এবারের উৎসবে, তাই বলছি, প্রকৃতি বাঁচাতে গাছ লাগাও। পরে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যজন, বাফা, নৃত্যাক্ষ, স্পন্দন।

গান শোনান শামা রহমান, মামুন জাহিদ খান, অনিমা রায়, প্রিয়াঙ্কা গোপ, সঞ্জয় কবিরাজ ও অনিমা মুক্তি গোমেজ। একক সংগীত পর্বে শামা রহমান শোনান রবীন্দ্রসংগীত ‘আবার এসেছে আষাঢ়’, সঞ্জয় কবিরাজ শোনান নজরুল সংগীত ‘রিমঝিম রিমঝিম ঘন দেয়া বরষে’, প্রিয়াঙ্কা গোপ শোনান নজরুল সংগীত ‘শাওন আসিল ফিরে’। আবৃত্তিশিল্পী নায়লা তারান্নুম কাকলী শোনান জয় গোস্বামীর ‘মেঘ বালিকা’, মাসকুর এ সাত্তার আবৃত্তি করেন নির্মলেন্দু গুণের ‘সদরঘাটে পৌঁছাতেই’।

বাংলা একাডেমিতে উদীচীর বর্ষা উৎসব : সকালে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজন করে বর্ষা উৎসবের। শিল্পী ইবাদুল হক সৈকতের সেতারে মেঘ মল্লার রাগ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় দলীয় নৃত্য, দলীয় ও একক সংগীত, সংগীত ও আবৃত্তি।

দলীয় সংগীত পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ, বহ্নিশিখা, স্বভূমি, ভাওয়াইয়া সংগীত সংগঠন এবং উদীচী বাড্ডা, কাফরুল, মিরপুর, গে-ারিয়া, সাভার শাখা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করেন উদীচী পরিচালিত শিল্পকলা বিদ্যালয় বিশ্ববীণার বেহালা শিল্পীরা। একক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সেঁজুতি বড়ুয়া, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, নাহিয়ান দুরদানা সুচী, মায়েশা সুলতানা উর্বী, মুনমুন খান, রবিউল হাসান, মারুফ ইসলাম, অনিকেত আচার্য। নৃত্য পরিবেশন করেন স্পন্দন, স্বপ্নবীণা শিল্পকলা বিদ্যালয় ও উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ।