আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৭-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

বাংলাদেশকে বান কি মুনের প্রশংসা

ঢাকায় জিসিএ সভা

| সম্পাদকীয়

জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বকে শঙ্কার এক সন্ধিক্ষণে উপনীত করেছে। বুধবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপ্টেশনের (জিসিএ) সভায় জলবায়ু পরিবর্তনকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বের গড় তাপমাত্রা এরই মধ্যে প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে প্রায় ১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ওপরে পৌঁছেছে। এ পরিবর্তনগুলো বাংলাদেশের কৃষি, শস্য, পশু ও মৎস্যসম্পদের বিপুল ক্ষতি করছে এবং খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। জিসিএ’র চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে অভিযোজন প্রক্রিয়ায় অগ্রগামী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে একটি আঞ্চলিক অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রী। আশার কথা, বান কি মুন ঢাকায় জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত একটি অভিযোজন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলদা সি হেইন, বিশ্বব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিভা, গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটির প্রধান (সিইও) ড. নওকো ইশি, মেক্সিকোর সাবেক অর্থমন্ত্রী ড. জেসে এন্টনিও মিডে ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা যোগ দেন।
এটা স্বীকৃত যে, জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম প্রধান দেশ বাংলাদেশ। স্বভাবতই এমন একটি কথা প্রায়ই আমরা শুনে থাকি, বাংলাদেশ টিকলে বিশ্ব টিকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের জন্য যে ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাপমাত্রার পরিবর্তন, ঘন ঘন বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রতল বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এডিবির জলবায়ু এবং অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিবেদনের পূর্বাভাসে বলা হয়, আমাদের বার্ষিক জিডিপি ২ শতাংশ কমে যাবে। যদি বর্তমান হারে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে তাহলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে আমাদের ১৯ উপকূলীয় জেলা স্থায়ীভাবে ডুবে যাবে। বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ বলছে, বাংলাদেশে এরই মধ্যে ৬০ লাখ জলবায়ু অভিবাসী রয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এটি বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। তবে লক্ষণীয় যে, এর মধ্যেই বাংলাদেশের মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে উপযোজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টিকে আছে। এক্ষেত্রে সরকারের প্রণোদনা ছিল প্রশংসনীয়। বিষয়টি বান কি মুনের মন্তব্যেও উঠে আসে। তিনি বলেন, অভিযোজন অনুশীলনে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার যে নেতৃত্ব অর্জন করেছে তা অলৌকিকের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। অভিযোজনের বিষয়ে শেখার জন্য বাংলাদেশ সর্বশ্রেষ্ঠ বলে তিনি মনে করেন।  
যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ প্রাকৃতিক দুুর্বিপাক মোকাবিলা করে টিকে আছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি ভিন্ন, এটি একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। তাই বৈশ্বিকভাবে এর সমাধান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর মতো আমরাও বলতে চাই, প্যারিস চুক্তি হলো এ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর বৈশ্বিক চুক্তি। আমরা আশা করতে পারি, ঢাকার জিসিএ সভা থেকে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের জন্য ইতিবাচক ভাবনা বেরিয়ে আসবে। মানবজাতি যার সুফল ভোগ করবে। হ