আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৭-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস

এএইচ সেলিম উল্লাহ, কক্সবাজার
| দেশ

কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন দুই লক্ষাধিক মানুষ। ছবিটি বৃহস্পতিবার তোলা- আলোকিত বাংলাদেশ

  • কক্সবাজারে প্রশাসনের জরুরি ঘোষণাও মানা হচ্ছে না 
  • ৯ বছরে ২৩০ জনের প্রাণহানি

কক্সবাজার জেলায় বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে দুই লক্ষাধিক মানুষ। কক্সবাজার পৌরসভার অভ্যন্তরে বিভিন্ন পাহাড়েই লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছে। এর মধ্যে অতি ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ৯৯৮ পরিবার। পাহাড় ধসে জানমালের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কক্সবাজারে তিন দিনের টানা বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় জরুরি ঘোষণা হিসেবে এ নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। কক্সবাজার জেলায় বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে দুই লক্ষাধিক মানুষ। এর মধ্যে পর্যটন শহর কক্সবাজার পৌরসভার অভ্যন্তরে ছোট বড় হাজারো পাহাড়ে লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছে। পাহাড় কেটে বা পাহাড়ের পাদদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের তালিকা তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। ওই তালিকামতে কক্সবাজার পৌরসভার অভ্যন্তরে অতি ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ৯৯৮ পরিবার। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে কক্সবাজারে তিন দিন ধরে টানা বর্ষণ চলছে। ফলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে পাহাড় ধসে মানবিক বিপর্যয় ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জরুরি ঘোষণা হিসেবে এ নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। নিজ ইচ্ছায় সরে না গেলে তাদের বাধ্য করা হবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীরা বলছেন, তাদের কোনো থাকার স্থান না থাকায় পাহাড়ে ঝুঁকি জেনেও বসবাস করতে হচ্ছে। সরকারের প্রতি দাবি তাদের বসবাসের স্থান দেওয়া হোক। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে কক্সবাজারে চার দিন ধরে টানা বর্ষণ চলছে। এতে ৩নং সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, কক্সবাজার শহরসহ প্রতিটি উপজেলায় মাইকিং করে পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সিপিভি ভলান্টিয়ার, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, এনজিওসহ বিভিন্ন গ্রুপ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে অতি ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিয়ে আসবে। কেউ যাতে মানবিক বিপর্যয় ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির শিকার না হয়। জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন আরও জানান, কক্সবাজার পৌরসভায় পাহাড়ের পাদদেশে বা পাহাড়ের চূড়ায় ৯৯৮ পরিবার অতি ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এসব পরিবারের জন্য একটি স্থানে অবকাঠামো তৈরি করে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে জীবন-জীবিকার একটি প্রস্তাবনা দাখিল করা হয়েছে। এসব পাহাড়ে বনায়ন করে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণদের বিপর্যয় ও সম্পদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা যাবে। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিপাতে চকরিয়ার বরইতলীতে বসতঘরের মাটির দেওয়াল ধসে পড়ে মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজার জেলায় ৯ বছরে পাহাড় ধসে মারা গেছেন ২৩০ জন।