আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৭-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

কোচ বরখাস্তে অবাক সৌরভ!

স্পোর্টস ডেস্ক
| খেলা

যেকোনো খেলায় বিশ্বমঞ্চে ভালো করার প্রত্যয় নিয়ে নামে প্রতিটি দল। কিন্তু নৈপুণ্য হতাশাজনক হলেই খড়গ নামে কোচের ওপর; খেলোয়াড়রা ভালো করতে না পারলেও সব দোষ যেন কোচের! ফুটবল বিশ্বে কোচের চাকরি থাকে সুতোয় বাঁধা! মুষ্টিমেয় কিছু দেশে ক্রিকেট চর্চা হলেও এ খেলায়ও বাদ যাচ্ছে না কোচ বরখাস্ত। চলতি বিশ্বকাপের পরপরই চাকরি খুইয়েছেন বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ স্টিভ রোডস; শ্রীলঙ্কা কোচ চন্দ্রিকা হাথুরুসিংহেকে চাকরি ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্রটির বোর্ড; চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে নারাজ আফগানিস্তানের ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কোচ ফিল সিমন্স।

তবে বাংলাদেশের বোর্ড কোচ রোডসকে বরখাস্ত করায় অবাক হয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। নিউজিল্যান্ড-ভারত সেমিফাইনাল ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমকে সৌরভ জানান, ‘তোমাদের কি হলো বলো তো, কোচকে বরখাস্ত করে দিলে! বাংলাদেশ তো ভালো খেলেছে, কোচ কেন বরখাস্ত!’
তার কৌতূহল, বাংলাদেশ কেন রোডসকে আর কোচের দায়িত্বে রাখছে না। ‘ব্যর্থ বিশ্বকাপ অভিযানের বলি’, উত্তরটা দেওয়ার শুরু করতেই সৌরভ জানান, ‘ব্যর্থ বলছো কী! তোমরা ভালো করেছো তো। আমি কেন, ইংল্যান্ডে সবাই প্রশংসা করছে। এভাবে কোচ বাদ দেওয়া মোটেও ভালো সংস্কৃতি নয়।’
বাংলাদেশ এবার বিশ্বকাপে যথেষ্টই পেয়েছে। কিন্তু শুকনো প্রশংসায় তৃপ্ত হওয়ার দিন তো বাংলাদেশের ক্রিকেট বেশ আগে পেরিয়ে এসেছে! দিনশেষে ফলাফলটা বড় ব্যাপার, বাংলাদেশ পয়েন্ট টেবিলে অষ্টম, প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি মেলেনি। জানান, কোন জায়গাটায় বাংলাদেশের উন্নতি সবচেয়ে জরুরি, ‘বড় টুর্নামেন্টে চাপের মুহূর্তগুলো জিততে শিখতে হবে। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় নার্ভ ধরে রাখতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো যারা জিততে পারে, ম্যাচ তারা জেতে। বাংলাদেশ এবার বেশ কয়েকটি ম্যাচে ওই সময়গুলো নিজেদের পক্ষে আনতে পারেনি। মানসিকভাবে শক্ত হতে হবে। জাদেজা ও ধোনির জুটির সময়ও নিউজিল্যান্ড একটুও হাল ছাড়েনি। সবসময় বিশ্বাস করেছে তারা জিতবে। চেষ্টা করে গেছে, ফলও পেয়েছে। এই মানসিকতা না থাকলে নিয়মিত জেতা সম্ভব নয়।’
হার না মানা মানসিকতা নিয়ে বলার জন্য সৌরভের চেয়ে উপযুক্ত লোক কমই আছে। ভারতীয় ক্রিকেটের পালাবদলের শুরু তার হাত ধরে। তিনি অধিনায়ক হওয়ার পর বদলে দিয়েছিলেন দলের চিরায়ত চরিত্র। অধিনায়ক সৌরভই শিখিয়েছিলেন মাঠের ক্রিকেটে যেমন, তেমনি শরীরী ভাষায়ও প্রতিপক্ষকে কাবু করা যায়। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো দেশে তাদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করা যায়। সেসবের প্রতিফলন দিনশেষে পড়ত ম্যাচের ফলে। সৌরভের কাছে মানসিকতা পোক্ত করার প্রাথমিক সূত্রের একটি, ‘বিশ্বাস। নিজের ওপর, নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে; এবং নিজের ওপর তোমার ভরসা যে প্রবল, সেটি ফুটিয়ে তুলতে হবে।’
সেটি বাংলাদেশ এবার ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে কমই; তবে একজন পেরেছেন দারুণভাবে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ড নৈপুণ্যে এবার নিজেকে নতুন উচ্চতায় তুলে নিয়েছেন সাকিব, বাংলাদেশের ক্রিকেটকেও এনে দিয়েছেন সম্মান ও গৌরব। সাকিবকে দেখে মুগ্ধ সৌরভও। তবে দাবি করলেন, ৬০৪ রান ও ১১ উইকেটের যুগলবন্দি দেখে অবাক হননি তিনি, ‘সাকিব দারুণ খেলেছে। ছেলেটা এত ভালো খেলেছে বলেই বিশ্বকাপে সুনাম কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। তবে আমি চমকে যাইনি ওর নৈপুণ্যে, ও তো বরাবরই ভালো ক্রিকেটার। এবার হয়তো বিশ্বকাপে এত ভালো খেলেছে বলে অনেকের চোখে পড়েছে।’
দাপুটে নৈপুণ্যে একটি সিরিজ প্রায় একার করে নেওয়ার নজির একবার দেখিয়েছিলেন সৌরভও। নব্বই দশকের শেষভাগে কানাডার টরেন্টোতে ভারত-পাকিস্তান চারটি ওয়ানডে সিরিজ হয়েছে পরপর চার বছর। ১৯৯৭ সিরিজে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত নৈপুণ্যে টানা চার ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন সৌরভ। সিরিজটি মনে পড়ে তারও; তবে এগিয়ে রাখলেন সাকিবকেই, ‘ওই সিরিজটি খুব মনে পড়ে। তবে সাকিব বিশ্বকাপের মতো জায়গায় এতগুলো দলের বিপক্ষে টানা ভালো করেছে, এটা অনেক বড় ব্যাপার।’