আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৭-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

বিক্রি হবে ‘ভুতুড়ে’ থিম পার্ক

আলোকিত ডেস্ক
| শেষ পাতা

আমরা অনেকেই ছুটির দিনে চলে যাই ‘ফ্যান্টাসি কিংডম’ কিংবা ‘নন্দনে’। আমাদের দেশসহ বিশ্বের অনেক জায়গাতেই পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ছুটির দিন কাটানোর সেরা ঠিকানা হয়ে উঠছে থিম পার্কগুলো। কিন্তু কখনও এ থিম পার্কগুলো কেনার কথা ভেবেছেন কি? 

উত্তর ক্যারোলিনার ম্যাগি ভ্যালিতে রয়েছে এমনই এক থিম পার্ক, যা বিক্রি হবে শিগগিরই। তবে রয়েছে এক টুইস্ট। এ পার্ক নাকি ‘ভুতুড়ে’! ১৯৬১ সালে তৈরি এ পার্কের আকর্ষণ আগে নানা মজাদার রাইড হলেও এখন দর্শকদের কাছে রাইডের থেকেও বেশি আকর্ষণীয় এর ভুতুড়ে গল্পগুলো।  ২৩০ একর জমির ওপর অবস্থিত এ থিম পার্ক যার নাম ‘ঘোস্ট টাউন ইন দ্য স্কাই’ তা প্রায় ৬০ বছর পুরোনো। রয়েছে চারটি ভাগÑ ‘ইন্ডিয়ান ভিলেজ’, ‘মাউন্টেন ভিলেজ’, ‘মাইনিং টাউন’ এবং অবশ্যই ‘ঘোস্ট ভিলেজ’। নামেই ভুতুড়ে গ্রাম থেকে পুরো পার্কটিই ভুতুড়ে হয়ে গেল কীভাবে?
ক্যারোলিনার মানুষের মজাদার অভিজ্ঞতা দিতে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে পার্কটি তৈরি করেছিলেন আর বি কোবার্ন। প্রথমে বেশ ভালোই চলছিল এ পার্ক। নিয়মিত নতুন নতুন রাইডও যোগ হয়। সমস্যার শুরুও সেখান থেকেই। নতুন রাইডগুলো চললেও একে একে পুরোনো রাইডগুলো অজ্ঞাত কারণে ভেঙে পড়তে শুরু করে। 
পার্কটি পার্বত্য অঞ্চলের মাথায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে পৌঁছনোর রাস্তা বলতে ছিল রোপওয়ে এবং দীর্ঘ পাহাড়ি রাস্তা। আর্থিক নানা বাধা সত্ত্বেও কোবার্ন পার্কটি চালু রেখেছিলেন। কিন্তু ২০০২ সালে একদিন আচমকা বহু যাত্রী রোপওয়েতে আটকে পড়েন। যান্ত্রিক গোলযোগের আসল কারণ খুঁজে না পাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঝ আকাশে আটকে থাকেন যাত্রীরা। এ ঘটনার পরই কোবার্ন পার্কটি বিক্রি করে দেন। এরপর একে একে মালিকানার হাতবদল চলতেই থাকে। কোনো মালিকই বেশিদিন এ পার্ক চালাতে সক্ষম হননি। কেউ পড়েছেন আর্থিক সমস্যায়, কেউ অভিযোগ করেছেন অদ্ভুত সব ঘটনার। এক সময়ে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ দর্শক আসতেন এ পার্কে। আয়ও হতো বেশ ভালোই। তারপরও আর্থিক সমস্যার মধ্যেই পড়তে হয়েছে মালিকদের। যান্ত্রিক গোলযোগের ঘটনাও কম নয়। একবার ‘স্কাইলিফট’ নামক এক রাইডেও কয়েক ঘণ্টা দর্শকরা আটকে থাকেন। 
২০১০ সালে বর্ষাকালে আচমকা পাহাড়ে ধস নামে এবং আশ্চর্যজনকভাবে পার্কের অন্য কোথাও নয়, কেবল ঢোকার পথটিই বন্ধ হয়ে যায়। ম্যানেজারের অবহেলাকে দায়ী করে আরও একবার পার্কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। 
যে ঘটনা সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল, সেটি ঘটেছিল ২০১৩ সালে। একটি পারফরম্যান্স চলাকালীন এক ব্যক্তি যিনি ওই নাটকেরই অংশ ছিলেন, গুলির আঘাতে আহত হন। অথচ প্রতিদিনই এ নাটক দেখান হতো এবং রোজই বন্দুক ফাঁকা থাকত। তা হলে গুলি এলো কোথা থেকে? 
যিনি আহত হয়েছিলেন তিনি বলেন, রোজই এ নাটক হতো। আমি গুলি চালানোর পর প্রতিপক্ষও গুলি চালাবে, এটিই স্ক্রিপ্টের অংশ ছিল। সেদিন কোথা থেকে ওই গুলি এলো এবং গুলিটি এসে কীভাবে আমার পায়ে লাগল তা জানি না। রোজকার মতো সেদিনও বন্দুক ফাঁকা ছিল বলেই দাবি করেছিলেন সবাই। তদন্তেও পাওয়া যায়নি কিছু। এ ঘটনার পর থেকেই পার্কটির ভৌতিক বা অভিশপ্ত হওয়ার কথা আরও বেশি করে প্রচার পেতে থাকে। দর্শকদের আনাগোনা কমতে থাকে। পার্কটি বন্ধ হওয়ার পর অনেকে লুকিয়ে পার্কে ঢুকেছেন ভুতুড়ে কা- চাক্ষুষ করার জন্য। কোনো অলৌকিক বা ভুতুড়ে ঘটনার সাক্ষী থাকতে না হলেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পার্কের চেহারা হয়ে গেছে ভুতুড়ে। 
এপ্রিলে পার্কটি আবারও খোলার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ আবারও আর্থিক দোটানার শিকার হন বর্তমান মালিক ভ্যালেরি ও স্পেন্সার ওবের্লে। তারা আগে ডিজনির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাই পার্ক চালানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে সন্দেহের কারণ নেই। তারা বলেন, পার্কটি বিক্রি করে দেওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই। এটি মোটেও অভিশপ্ত নয়। বন্ধ হওয়ার পর বহু রাইড ও যন্ত্রের পরিবর্তন করেছি আমরা। এখনও যদি আর্থিক সাহায্য পাই, তা হলে বিক্রি করব না এ পার্ক। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এ বিশালাকার পার্কে রোপওয়ে এক ঘণ্টায় ১ হাজার ২০০ যাত্রীকে পৌঁছে দিতে পারে। রোপওয়ে সংস্কার ছাড়াও নতুন নতুন রাইড, দোকান এবং খাওয়ার জায়গা করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে এক প্রকার বাধ্য হয়েই পার্কটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা। বর্তমানে এই ২৩০ একরের পার্কটির দাম উঠেছে ৫.৯ মিলিয়ন ডলার। বিক্রির জন্য দেওয়ালে পোস্টার থেকে সোশ্যাল মিডিয়া সব জায়গাতেই বিজ্ঞাপন দিয়েছেন ওবের্লেরা। পার্কের নানা উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের কথা বলা হলেও কোথাও উল্লেখ নেই অদ্ভুত ঘটনাগুলোর।