আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৭-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

দামুড়হুদার ছামাদুলের কৃতিত্ব

পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে জ্বালানি উৎপাদন

রাজন রাশেদ, চুয়াডাঙ্গা
| সুসংবাদ প্রতিদিন

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় পরিত্যক্ত পলিথিন থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে পেট্রল, ডিজেল ও গ্যাস। দামুড়হুদা উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামের মুনছুর আলীর ছেলে শ্যালো মিস্ত্রি ছামাদুল ইসলাম তার নিজ বাড়িতে রোববার পলিথিন থেকে এ জ্বালানি উৎপাদন শুরু করেছেন। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ জ্বালানি উৎপাদনযজ্ঞ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন ছামাদুলের বাড়িতে। 

ছামাদুল জানান, পেট্রল, ডিজেল ও গ্যাস উৎপাদন করতে ব্যবহার করছেন টিনের একটি ড্রাম, দুইটি প্লাস্টিকের কনটেইনার, একটি মাটির তৈরি বড় পাত্র ও কিছু স্টিলের পাইপ দিয়ে তৈরি রিফাইনার মেশিন। এই প্রযুক্তিতে ড্রামের ভেতর পলিথিন রেখে তা আগুনের তাপে গলিয়ে বাষ্পের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রল ও গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে। গ্যাস আটকাতে না পারলেও এই গ্যাস জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। পেট্রল উৎপাদন খরচ হচ্ছে ৭০ টাকা প্রতিলিটার ও ডিজেল উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ৪২ টাকা। এই উদ্ভাবনে একদিকে যেমন যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পরিত্যক্ত পলিথিন রিসাইকেল হয়ে সম্পদে পরিণত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে। অপেক্ষাকৃত কম দামে পেট্রল ও ডিজেল পেয়ে ব্যবহার করছেন এলাকাবাসীও। উৎপাদিত পেট্রল দিয়ে মোটরসাইকেল এবং ডিজেল দিয়ে পাওয়ার টিলার চালিয়ে এরই মধ্যে সফলতা পাচ্ছেন তারা। 

শ্যালো ইঞ্জিন মেকার ছামাদুল বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পলিথিন গলিয়ে জ্বালানি উৎপাদন দেখে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে টিনের একটি ড্রাম, দুইটি প্লাস্টিকের কনটেইনার ও কিছু স্টিলের পাইপ দিয়ে  রিফাইন মেশিন তৈরি করেন। এরপর প্রথম দিন ৬০ টাকায় ৫ কেজি পরিত্যক্ত পলিথিন ও ১৫০ টাকার খড়ি মোট ২১০ টাকা খরচ করে কাজ শুরু করেন। ৫ কেজি পলিথিন জ্বালিয়ে তিনি দেড় লিটার পেট্রল ও আড়াই লিটার ডিজেল উৎপাদন করেন। পরে তিনি ও স্থানীয়রা এই পেট্রল মোটরসাইকেলে ভরে পরীক্ষা করে সফলতা পান। একইভাবে বুধবার পাওয়ার টিলারে ডিজেল ভরে পরীক্ষা করেন।
ছামাদুল আরও জানান, এ পেট্রল ও ডিজেলের সঙ্গে গ্যাস উৎপাদন হলেও এটা এখনও আটকানো সম্ভব হয়নি। এ গ্যাস পাইপের মাধ্যমে খড়ির সঙ্গে জালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আগামীতে গ্যাস আটকানোর বিষয়ে কাজ করবেন।
প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ জ্বালানি উৎপাদনযজ্ঞ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন ছামাদুলের বাড়িতে। ওই গ্রামের শওকত আলী জানান, প্রথম দিনে তিনি পলিথিনে উৎপাদিত এক লিটার পেট্রল মোটরসাইকেলে ভরে ব্যবহার করেন। পাম্পের পেট্রলের সঙ্গে এই পেট্রলের কোনো পার্থক্য নেই বলে জানান তিনি। দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রবিউল হোসেন বলেন, পলিথিনের এ ধরনের পুনঃব্যবহারই পারে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনতে। সরকার যদি ছামাদুলদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে তারা আরও উন্নয়ন ঘটিয়ে সহজেই পলিথিন বর্জ্যরে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং তা থেকে জ্বালানি উৎপাদন করে কিছুটা চাহিদা মেটাতে পারবে।