আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৭-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ঢাকা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ এসপি হারুন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
| শেষ পাতা

আবারও ঢাকা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপারের মর্যাদায় ভূষিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা পেলেন তিনি। মাদক উদ্ধার, মামলার রহস্য উদঘাটন, ওয়ারেন্ট তামিল, শিল্প এলাকাসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হওয়ায় এসপি হারুনকে মে ও জুন মাসের মাসিক অপরাধ সভায় পরপর দুই মাসের জন্য ঢাকা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে ঢাকা বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মাসিক মূল্যায়ন সভায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা এসপি হারুন অর রশীদকে পুরস্কৃত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিআইজি হাবিবুর রহমান। তবে তিনি ছুটিতে থাকার কারণে তার পরিবর্তে ঘোষিত পুরস্কারস্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট ও প্রশংসাপত্র এসপি হারুনের পক্ষে গ্রহণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মনিরুল ইসলাম।
প্রসঙ্গত, জেলা পুলিশ সুপার এরই মধ্যে ভূমিদস্যু, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে প্রশংসিত হয়েছেন। এছাড়াও জেলায় যোগদানের পর থেকে পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জবাসী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে শহর হকারমুক্ত ফুটপাত ও যানজটমুক্তকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যা নগরবাসী তার কর্মকা-ে ব্যাপক সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এজন্য তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যানার সাঁটানোসহ তাকে ‘বাংলার সিংহাম’ উপাধিও দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ পুলিশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে তিনবার ‘বিপিএম’ ও দুইবার ‘পিপিএম’ পদক পেয়েছেন। ২০১৮ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণে তিনি প্রশংসনীয় হন। এ অবদানের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে রাজারবাগ প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক ‘বিপিএম’ (বাংলাদেশ পুলিশ পদক) ব্যাজ পরিয়ে দেন।
দায়িত্ব পালনে কঠোর ও নিষ্ঠাবান এ এসপির জীবন বৃত্তান্তে জানা যায়, এসপি হারুন অর রশীদ কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন থানার হোসেনপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৃত আবদুল হাসেম, মাতা জহুরা খাতুন। এসপি হারুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স করেন। ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। স্ত্রী, এক মেয়ে তাসলিম (১০), এক ছেলে হিসামকে (৪) নিয়ে সুখি দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছেন।
২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ নারায়ণগঞ্জ এসপি হিসেবে যোগ দেন। যোগ দিয়েই তিনি নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদেক্ষেপ নেবেন বলে ঘোষণা দেন। এরপরই তিনি নারায়ণগঞ্জের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, তেল চোর, মাদক ব্যবসা নির্মূল, ভূমিদস্যুদের গ্রেপ্তার, জেলায় আলোচিত জুয়ার বোর্ড বন্ধ ও জুয়াড়িদের গ্রেপ্তার করেছেন, মেরি এন্ডারসনের মদ ব্যবসা বন্ধ, শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কসহ আশপাশের সড়কে হকার উচ্ছেদ করেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ হিসেবে সর্বমহলে সমাদৃত হয়। দ্বিগুবাবুর বাজারের অধীনে অবৈধভাবে মীরজুমলা সড়কটি অবৈধ দখলদার মুক্ত করেন। এমনকি নারায়ণগঞ্জের নামকরা প্রভাবশালীর দখল থেকে নিরীহ মানুষের ফ্ল্যাট দখলমুক্ত করেছেন, যা নারায়ণগঞ্জে ইতিহাস হয়ে থাকবে, কোটি টাকার চাঁদাবাজি বন্ধ ও অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করেছেন। ২০১৯ সালের সদ্য সমাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।