আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৭-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

চাল বিক্রেতা থেকে ভয়ঙ্কর ভূমিদস্যু

রূপগঞ্জ (না.গঞ্জ) প্রতিনিধি
| খবর

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল নতুন শহরের ‘ভয়ঙ্কর এক ভূমিদস্যু’র নাম জাহের আলী। জানা গেছে, খুচরো চাল বিক্রেতা থেকে আজ শতকোটি টাকার মালিক তিনি। জমিজমার বিশাল পরগনা থেকে শুরু করে দামি সব গাড়ি, আলিশান বাড়িÑ তার সবই হয়েছে কয়েক বছরে। জাল দলিল সম্পাদন থেকে শুরু করে লোকজনকে ধরে এনে জমি লিখে নেওয়া তার নিত্যদিনের কাজ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় সংখ্যালঘু বহু পরিবারকে ভিটেহারা করেছেন তিনি। প্রতারণার মাধ্যমে লুটে নিয়েছেন বহু অসহায় মানুষের জমি। গেল বছর পুলিশের ৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলহাজতে থাকায় স্বস্তি আসে সাধারণ মানুষের মাঝে। কিন্তু সম্প্রতি তিনি জামিনে বের হওয়ায় আবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন পূর্বাচলের বাসিন্দারা।
জানা গেছে, জাহের আলী নিজের প্রতারণা আড়াল করতে মামলা ঠুকে দিয়েছেন পুলিশের শীর্ষ এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া সাধারণ মানুষ এক অজানা শঙ্কায় পার করছেন দিনরাত।
জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্বাচল সংলগ্ন ব্রাহ্মণখালী এলাকার তমিজউদ্দিনের বড় ছেলে নব্বইয়ের দশকে পাশের কাঞ্চন বাজারে একটি ছোট দোকানে খুচরা চালের ব্যবসা শুরু করেন। এরপর বাজার ছেড়ে জমির দালালিতে নামেন তিনি। নাম স্বাক্ষর না জানলেও জাহের আলী সে সময় অধিগ্রহণ শুরু হওয়া পূর্বাচলের আদিবাসীদের জমি আত্মসাতের মাধ্যমে টাকা আয়ের রাস্তা খুঁজে বের করেন। এ সময় গড়ে  তোলেন মাস্তান বাহিনী। তারা গরিব আদিবাসীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে জাহের আলীর নামে জমি লিখে নিতো। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহের আলী বাহিনীর হাতে খুন হয় পূর্বাচলের ঠিকাদার বেলায়েত হোসেন। কিছুদিন গা-ঢাকা দেওয়ার পর ভক্তবাড়ি ঋষিপাড়া এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখল শুরু করেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, রূপগঞ্জ ইউনিয়নের গুতিয়াবো, বাগবের, টানমুশরী মৌজায় সরকারি সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে করে নেন জাহের আলী। এসব প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তিনি। রূপগঞ্জ ও রাজধানীর বড়ভাঙ্গা এলাকায় তার রয়েছে কয়েকটি বাড়ি ও কয়েকটি দামি গাড়ি। নিজের ছাড়াও তার পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে শত শত বিঘা জমি ও বিভিন্ন ব্যবসা।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্বাচল আনন্দ পুলিশ হাউজিংয়ে জমি দেওয়ার নাম করে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে এলাকার মানুষকে ব্যাপক হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জমি দখল করেন জাহের আলী। গতবছর পুলিশের ৩১ কোটি টাকা আত্মাসাতের অভিযোগে আটক হন তিনি। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি নেমে আসে। লোকজন তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করে। কিন্তু জাহের আলীর পুত্রবধূ আঁখি আক্তার পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ কয়েকজন পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেওয়ায় এবং তিনি জামিনে মুক্ত হওয়ায় আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে জাহের আলীর ব্যবহারিক মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান বলেন, জাহের আলী একজন চিহ্নিত প্রতারক। তিনি পুলিশসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব ঘটনায় রাজধানী ও রূপগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত ১০টির বেশি মামলা রয়েছে।