আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৭-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

প্রকৌশলীর গাফিলতিতে রাজশাহীতে ট্রেন দুর্ঘটনা

রাজশাহী ব্যুরো
| প্রথম পাতা

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় তেলবাহী ট্রেনের আটটি বগি লাইনচ্যুতির ঘটনায় উদ্ধারকাজ চলছে। তবে বৃষ্টি ও আলো স্বল্পতায় উদ্ধারকাজ বিঘিœত হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের ছবি ষ আলোকিত বাংলাদেশ

একজন সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলীর গাফিলতির কারণেই রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এমন তথ্যই পেয়েছে। এ নিয়ে আবদুর রশিদ নামের ওই সহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খোন্দকার শহীদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যে এলাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে সেখানকার লাইন সংস্কারের কাজ চলছিল। পুরোনো সিøপার পরিবর্তন করে নতুন সিøপার বসানো হচ্ছিল। নতুনভাবে দেওয়া হচ্ছিল পাথরও। কিন্তু যারা সংস্কার কাজ করেছেন, তারা সিøপারের সঙ্গে 

লাইন আটকানো কয়েকটি পিন (ডগস্পাইক) খুলে রেখেছিলেন। পাথর ফেলার কারণে সেটি ঢেকে যায়। এ কারণে সেটি কারও চোখে পড়েনি।
সংস্কার কাজে নিয়োজিত সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রশিদও তা খেয়াল করেননি। ফলে পিন খোলা অবস্থায় লাইনের ওপর দিয়ে তেলবাহী ৩১টি বগি নিয়ে ট্রেনটি রাজশাহীর হরিয়ান যাচ্ছিল। তখনই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মহাব্যবস্থাপক জানান, ট্রেনের প্রতিটি বগিতে রয়েছে ৫০ হাজার লিটার তেল। প্রতি বগির ওজন ৫০ টন। পিন খোলা থাকায় অতিরিক্ত চাপে লাইন সরে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
খোন্দকার শহীদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনা তদন্তে বিভাগীয় ট্রান্সপোর্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এ কমিটিকে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছির দিঘলকান্দি ঢালানের কাছে তেলবাহী ওই ট্রেনের আটটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তেলবাহী ওই ট্রেনটি খুলনা থেকে আসছিল।
তেলবাহী ওই ট্রেনটির মাঝখান থেকে বগিগুলো লাইনচ্যুত হয়। তাই পরে আটটি বগি রেখে সামনের অন্য বগিগুলো নিয়ে তেলবাহী ওই ট্রেনটি রাতেই রাজশাহীর হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর রাত পৌনে ১০টার দিকে ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। ফলে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন রুটের ট্রেনের বুধবার রাতের এবং বৃহস্পতিবারের যাত্রা বাতিল করা হয়। এতে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। 
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম জানান, যেসব ট্রেনের যাত্রা বাতিল হয়েছে, তার যাত্রীদের টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়া হচ্ছে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তারা প্রায় ৭ হাজার যাত্রীকে ২৬ লাখ টাকারও বেশি ফেরত দিয়েছেন। তবে হাতে আর নগদ টাকা নেই। তাই টাকাও ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। যাত্রীদের পরে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত লাইনচ্যুত আটটির মধ্যে ছয়টি বগি উদ্ধার করা হয়েছে। ক্রেন দিয়ে লাইনচ্যুত বগিগুলোকে শূণ্যে উঠিয়ে লাইনে স্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংস্কার করা হচ্ছে রেললাইন। বাকি দুইটি বগি রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করেছেন রেলের কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলে ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন, প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী অসীম কুমার তালুকদার, রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা ট্রেনের বগি উদ্ধার এবং লাইন সংস্কারের কাজ তদারকি করেন।
প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, সব ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হলেও রাত ১১টা ২০ মিনিটের ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়নি।