আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৭-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

তদন্ত প্রতিবেদন

জাহালমের কারাভোগের দায় দুদকেরই

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত কর্মকর্তার ভুলের কারণে আসামি না হয়েও জাহালমকে কারাভোগ করতে হয়েছে বলে দুদকেরই তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, জাহালমকে আবু সালেক রূপে চিহ্নিত করার যে ভুল হয়েছে, তা দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কারণেই ঘটেছে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিলের পর বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য রেখেছে। 

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। জাহালমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান। জাহালম কা-ে কে বা কারা দায়ী, তা দেখার জন্য ১৭ এপ্রিল দুদকের প্রতিবেদন চেয়েছিলেন আদালত। আদেশ অনুযায়ী দুদকের তদন্ত কমিটির প্রধান আবুল হাসনাত মো. আবদুল ওয়াদুদের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার আদালতে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে কমিটির প্রধান বলেন, সার্বিক বিবেচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, জাহালমকে আবু সালেকরূপে চিহ্নিত করার যে ভুলটি হয়েছে, তা দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কারণেই ঘটেছে। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ অলম খান প্রতিবেদনের বিষয়ে বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে যে, সমন্বয়হীনতার কারণেই এমনটা হয়েছে। জাহালম তিন বছর জেল খেটেছেন- এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এখন এর জন্য কে কতটুকু দায়ী, তা আদালত নির্ধারণ করবেন।
অমিত দাস গুপ্ত বলে, দুদক স্বচ্ছভাবেই তদন্তটা করেছে বলে আমি মনে করি। প্রকৃত দোষীদের বের করে আনার জন্য তদন্তে সঠিক প্রয়াস ছিল বলেই মনে হয়েছে। ভবিষ্যতে দুদক যাতে এরকম ভুল আর না করে, তার জন্য সুপারিশও আছে প্রতিবেদনে। সেই সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন হলে এমনটা আর ঘটবে না বলে আমি মনে করি। সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর ধরে কারাগারে কাটাতে হয় টাঙ্গাইলের জাহালমকে।
জানুয়ারির শেষ দিকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত আদালতের নজরে আনলে দুদকের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কারাগারে থাকা ‘ভুল’ আসামি জাহালমকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হবে না এবং তাকে মুক্তি দিতে কেন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে নাÑ তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত একটি রুলও জারি করা হয়। এরপর দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দুঃখ প্রকাশ করে ভুলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আদালতের আদেশে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।
পাটকল শ্রমিক জাহালমের তিন বছর কারাগারে থাকার ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি করে দুদক।