আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৭-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসব সেই রাজনীতি করি না : প্রধানমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। ২০২০ সালে জাতির জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করব ভিক্ষুকমুক্ত, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশ।’ 

সম্প্রতি সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি ও শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করা হবে, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর কেউ সাহস না পায়। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ধর্ষকের চেহারা যেন বার বার দেখানো ও প্রকাশ করা হয়। যাতে এ জঘন্য অপরাধীরা লজ্জা পায়। পাশাপাশি পুরুষ সমাজকেও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীরা কেন একা প্রতিবাদ করবে। এ বিষয়ে পুরুষেরও সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘রাজনীতি করি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে হবেÑ সেই রাজনীতি আমি করি না। আমার প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের উন্নতি ও দেশের মানুষের কল্যাণ। দেশের মানুষকে একটু সুন্দর জীবন দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য।’ প্রধানমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্য শেষে স্পিকার রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে সংসদ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই দেশের উন্নয়ন হয়। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার গেল একদশকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসোপানে যাত্রা শুরু করেছে। সারা বিশ্বে এখন বাংলাদেশ উন্নয়নের রোলমডেল। তিনি বলেন, ‘দেশকে আরও উন্নতি করতে হলে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এবারের বাজেটে আমরা প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত করতে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কারণ, আমরা দেশকে উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’ 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বেও আজ প্রমাণিতÑ উন্নয়নে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন বিশাল বাজেট নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি। বাজেটের বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। আমর দেশকে এগিয়ে যাচ্ছি মানুষের কল্যাণের জন্য। ভিক্ষা চেয়ে নয়, দেশের নিজস্ব সম্পদ নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। কারণ আমাদের দেশের সম্পদ জনগণ আর দেশের মাটি হচ্ছে উর্বর। আমরা দেশের যে উন্নতি করতে পারি, তা আজ প্রমাণিত। আগামী এক বছরে দেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।’ 
দেশের উন্নয়ন ও সফলতার বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি আমরা ৪ দশমিক ৯ শতাংশে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করেছি, দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের মানুষের পুষ্টিও নিশ্চিত করেছি বলেই পুরুষের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং নারীদের গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। খাদ্য ভেজালের কথা বলা হয়, অথচ মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। রপ্তানি আয় অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’
গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এলএমজি আমদানি করছি গ্যাসের চাহিদা মেটানোর জন্য। দেশে শিল্পায়ন হচ্ছে, শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সে পরিমাণ গ্যাস আমাদের দেশে নেই। আমরা গ্যাসের কুপ খনন করছি। গ্যাসের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে উত্তোলন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। সেখানেও গ্যাস উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। গ্যাসের দাম নিয়ে যে কথাগুলো আসছে যে দাম না বাড়িয়েও করা যাবে। কিন্তু দাম বাড়ানোর প্রয়োজনটা কেন ছিল? গ্যাসের বর্ধিত ব্যয় নির্বাহের জন্য পেট্রোবাংলা ও বিভিন্ন কোম্পানি গ্যাসের দাম ১০২ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিল।’