আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

মুন্সীগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধে ধস

মাসুদ রানা, মুন্সীগঞ্জ
| দেশ

সংস্কারের অভাবে ধসে পড়ছে মুন্সীগঞ্জ শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ থেকে রিকাবীবাজার পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার বাঁধের ব্লক ষ আলোকিত বাংলাদেশ

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মাঝারি সমন্বিত বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্পের আওতায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শহর রক্ষা বাঁধটির দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো সংস্কার। শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ থেকে রিকাবীবাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার বাঁধটিতে ৫০টির বেশি অংশে ব্লক খসে পড়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে বাঁধে ক্ষতের সংখ্যা। এতে হুমকিতে পড়েছে বাঁধ সংলগ্ন এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। যে কোনো সময় বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছে স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মুক্তারপুর, ফিরিঙ্গিবাজার, মিরেশ্বরাই, মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট এসব বাঁধ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্রই সৃষ্টি হয়েছে ক্ষত। স্থানগুলোতে ব্লক খুলে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে বড় ক্ষতের। পঞ্চসার ইউনিয়নের বাঘবাড়ি সংলগ্ন বাঁধের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। এছাড়াও বাঁধের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে ছোট-বড় অবৈধ স্থাপনা। এতে নষ্ট হচ্ছে বাঁধের মূল কাঠামো। বাঁধের জমি দখল করে কয়েকটি এলাকায় অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একটি অসাধু মহল। মীরসরাই এলাকার কলেজ ছাত্র রিয়াদ আহমেদ জানান, যেভাবে বাঁধের ব্লক দিন দিন খুলে পড়ছে তাতে যে কোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ফিরিঙ্গিবাজার থেকে রিকাবীবাজারে যাতায়াতকারী ট্রাক ও যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যে কোনো সময় এ অংশের বাঁধ ধসে পড়তে পারে। আরেক বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দীন বলেন, বাঁধটি এমনিতেই দিন দিন নাজুক অবস্থায় পরিণত হচ্ছে, এর মধ্যে আবার একটি অসাধু শ্রেণি বাঁধে অবৈধ স্থাপনা করতে ব্লক খুলে খুঁটি বসিয়েছে, আমরা এর দ্রুত সংস্কার চাই। মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে সমন্বিত বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্পের আওয়তায় ২৭ কিমি. শহর রক্ষা বাঁধটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বাঁধটি ছয়টি ভাগে ভাগ করে কাজ শুরু হয়। প্রথম অংশের হাটলক্ষ¥ীগঞ্জ থেকে রিকাবীবাজার পর্যন্ত অংশে কাজ শেষ হলে জমি অধিগ্রহণ সমস্যা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে অর্থদাতা প্রতিষ্ঠান অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। এরপর আর বাকি অংশের কাজ হয়নি। 

 এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকোশলী (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার মইনুল রহমান বাঁধের নাজুক অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থ বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তিন কিলোমিটারের বাঁধটি সংস্কারের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা প্রয়োজন। বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু করা যাবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, জেলা প্রশাসন থেকে শহর রক্ষা বাঁধের সর্বশেষ কি অবস্থা জেনে শহর রক্ষা বাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।