আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার

সিলেট সীমান্ত দিয়ে আসছে আগ্নেয়াস্ত্র

সিলেট ব্যুরো
| নগর মহানগর

সিলেটের গোয়াইনঘাটের সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে আগ্নেয়াস্ত্র। চোরাকারবারিদের মাধ্যমে প্রবেশ করা এসব অস্ত্র ছড়িয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। আর সরবরাহকৃত এসব অস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকা- এবং রাজনৈতিক সহিসংতার ক্ষেত্রে ব্যবহারের আশঙ্কা করছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে গোয়াইনঘাটের বিছানাকান্দি থেকে আরব আলী নামে এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে তিনটি অস্ত্রসহ সুনামগঞ্জের দুই বিএনপি নেতাকে আটক করেছিল পুলিশ। তারাও পুলিশকে এমন তথ্য জানিয়েছিলেন বলে জানান সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। বুধবার সকালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। 

পুলিশ সুপার জানান, ‘আরব আলী দুই বছর ধরে অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। ভারতের খাসিয়াদের কাছ থেকে তিনি অস্ত্র সংগ্রহ করে থাকেন। এই দুই বছরে তিনি ভারত থেকে অস্ত্রের তিনটি চালানে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র দেশে এনেছেন বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। আর এসব অস্ত্র তিনি দালালদের কাছে সরবরাহ করেছেন।’ তিনি জানান, আরব আলী সুনামগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার কাছেও অস্ত্র সরবরাহ করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। পুলিশ সুপার বলেন, ‘অবৈধ পথে আসা এসব অস্ত্র বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা ও পলিটিক্যাল ভায়োলেন্সে (রাজনৈতিক সহিংসতা) ব্যবহার করার কথা পুলিশ উড়িয়ে দিচ্ছে না। এ চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে আরব আলী নামের এক অস্ত্র বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকালে তার কাছ থেকে টু টু বোরের দুইটি রিভলবার গুলিসহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ১৬ রাউন্ড গুলিসহ ১২ চেম্বারবিশিষ্ট পয়েন্ট টু টু বোরের দুটি রিভলবারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের মধ্যে দুইজনই সুনামগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। তারা হলেন, সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুস সহিদ এবং সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনছার মিয়া।