আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

দ্রুত সমাধানের আশ্বাস ভিসির

পরিবহন সংকটে দুর্ভোগে চুয়েট শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম ব্যুরো ও চুয়েট প্রতিনিধি
| নগর মহানগর

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পরিবহন সংকটে ভুগছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিনিয়ত প্রচ- ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে। প্রতিদিনের শিডিউলে পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতে এ সমস্যা বিদ্যমান বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম শিক্ষার্থীদের পরিবহন সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, আশা করি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বিদ্যমান সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে। এক বছরের মধ্যে পরিবহন শাখায় আরও নতুন দুইটি বাস যুক্ত হবে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার তাহের বলেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাস গ্যারেজে থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য তা শিডিউলে দেওয়া হয় না। ১০০ থেকে ১৫০ কর্মকর্তা-কর্মচারী যাতায়াতের জন্য যে পরিমাণ বাস দেওয়া হয়, ৪০০ থেকে ৫০০ ছাত্রের যাতায়াতের জন্য তার তুলনায় কম বাস দেওয়া হয়। 
চুয়েটে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন, যাদের মধ্যে অনেকে পরিবারের সঙ্গে নগরীতেই থাকেন। আবার অনেকে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে বাসা বা মেসে থাকেন। এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী একাডেমিক কাজসহ বিভিন্ন কাজে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়মিত যাতায়াত করেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ বড় বাস ও দুটি মিনিবাস আছে। বাসগুলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০ জন করে। প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিকালে পাঁচ থেকে সাতটি বাস চালু রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আবার চালুকৃত বাসগুলোর রুট নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। 
সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছেড়ে যাওয়া বাস ফিরে আসার সময় আসনের থেকে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ওঠেন। সিট না পেয়ে অনেকেই বাসের ভেতর গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকেন। বহু মেয়ে শিক্ষার্থী ভিড় ঠেলে বাসে উঠে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করেন, যা তাদের জন্য বিব্রতকর। 
পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলেই বাস সমস্যা দূর করতে পারে। যদি প্রশাসন তা দূর করতে ব্যর্থ হয় তবে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন, তখন এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যানবাহন পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ন কবির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বাস বাড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে দুইটি নতুন বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখায় যোগ হয়েছে। আরও কিছু বাস কেনা প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি দ্রুত শিক্ষার্থীদের পরিবহন সমস্যার সমাধান হবে। প্রসঙ্গত, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবহন সমস্যার সমাধানে বাস সংখ্যা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।