আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

সিআইএস দেশগুলোর সঙ্গে বাধা দূর হলে রপ্তানি আরও বাড়বে

উজবেকিস্তান টেক্সটাইল কনফারেন্স ও পাঁচ দিনব্যাপী গ্লোবাল টেক্সটাইল ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
| অর্থ-বাণিজ্য

কমনওয়েলথ অব ইনডিপেন্ডেন্ট স্টেটসভুক্ত (সিআইএস) দেশগুলোর সঙ্গে বাধা দূর হলে রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক দেশ বাংলাদেশের স্পেশাল  কোনমিক জোনে বিনিয়োগ শুরু করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে মঙ্গলবার দেশটির টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত উজবেকিস্তান টেক্সটাইল কনফারেন্স ও পাঁচ দিনব্যাপী গ্লোবাল টেক্সটাইল ডে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। বিশ্ববাজারে দিন দিন তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ছে। বাংলাদেশের কারখানাগুলোয় নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে শ্রমিকরা কাজ করছেন। দেশে একের পর এক গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। বাংলাদেশ উজবেকিস্তানসহ সিআইএসভুক্ত দেশ আজারবাইজান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজিস্তান, আর্মেনিয়া, মলদোভা, রাশিয়া এবং তাজিকিস্তান দেশগুলো বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালস ইত্যাদি প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে প্রত্যাশা মোতাবেক পণ্য উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে না। জটিলতা নিরসনে উজবেকিস্তানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ। সিআইএসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে গেল মে মাসে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।
এর আগে সোমবার উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সভা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এ সময় উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভ বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে তৈরি করা পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালস ইত্যাদি আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী উজবেকিস্তানের চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ফোরামের রাউন্ড টেবিল বৈঠকে যোগ দেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের তৈরি করা পোশাক ছাড়াও পর্যটন, যৌথ বিনিয়োগ, ঢাকা-তাসখন্দ সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং বাংলাদেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।