আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ফ্রাঞ্চাইজিদের বাদ দিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’

‘টেস্টে আগ্রহ নেই সাকিবের’

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা
  • ‘আমরা লক্ষ্য করছি টেস্ট খেলায় বেশ কিছুদিন থেকে তার (সাকিব) আগ্রহ নেই। বিশেষ করে দেশের বাইরে টেস্ট খেলার সময় হলে সে ছুটি চায়। হয়তো তার আগ্রহ কম’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়ক সাকিব বলেছিলেন, ‘আমি অধিনায়কত্বের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নই।’ আর সিরিজের একমাত্র টেস্টে হারের পর বলছেন, ‘যদি নেতৃত্ব না দিতে হয় তবে সেটা আমার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। আমার মনে হয় সেটা আমার ক্রিকেটের জন্যই ভালো হবে। আর যদি নেতৃত্ব দিতেই হয় তবে ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে অনেককিছু নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন আছে।’ সাকিব আল হাসানের এমন মন্তব্য থেকে বোঝা গিয়েছিল নেতৃত্ব দিতে উৎসাহ কম এ অলরাউন্ডারের। গতকাল বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানান, টেস্ট খেলার ব্যাপারেই সাকিবের আগ্রহ নেই।
গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আকষ্মিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বিসিবি সভাপতি। সেখানে সাকিব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি টেস্ট খেলায় বেশ কিছুদিন থেকে তার (সাকিব) আগ্রহ নেই। বিশেষ করে দেশের বাইরে টেস্ট খেলার সময় হলে সে ছুটি চায়। হয়তো তার আগ্রহ কম। টেস্ট খেললে তো অধিনায়কত্ব করতেই হবে। অধিনায়ক না হলে তো খেলার বাধ্যবাধকতা নেই। সম্ভবত এ কারণে অধিনায়কত্ব নিয়ে এমন কথা বলেছে।’
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে টেস্ট থেকে বিশ্রাম নিতে ছয় মাসের ছুটি চেয়েছিলেন সাকিব। বিসিবি অবশ্য তিন মাসের ছুটি মঞ্জুর করেছিল। এজন্য দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলা হয়নি তার।  লঙ্গার ভার্সন খেলায় অনীহার কারণেই সাকিব বিশ্রাম নেন বলে জানালেন বোর্ড সভাপতি, ‘টেস্ট খেলার ইচ্ছা নেই বলেই হয়তো মাঝেমধ্যে টেস্টের সময় বিশ্রাম নিত সে, আমাদের ধারণা তেমনই।’ 
তবে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ব্যাপারে সাকিব বোর্ডের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি জানালেন নাজমুল হাসান, ‘দলে সাকিব অনেক অবদান রেখেছে। আমরা মনে করি, সে হলো সেরা অধিনায়ক। আমাদের হাতে যে অপশন আছে, তাদের মধ্যে থেকে সে সেরা। এখন পর্যন্ত সে আমাদের কিছু বলেনি। অধিনায়কত্ব নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে কথা বলতে হবে, এমন কথা মিডিয়াকে বলেছে। আমি গতকাল মঙ্গলবার ওর সঙ্গে বসেছিলাম, কিন্তু সেখানে এমন কোনো কথা হয়নি। যেহেতু এখন একটি সিরিজ চলছে, আমার মনে হয় এখনই এটা নিয়ে কথা বলা উচিত নয়।’ বক্তব্যের একেবারে শেষ পর্যায়ে নাজমুল হাসান আরও যা বললেন তাতে বোঝা যাচ্ছে বিসিবি হয়তো খুব সিরিয়াসভাবে সাকিবের অধিনায়কত্বের অনীহা নিয়ে ভাবছে না, ‘আমাদের ছেলেরা একটু আবেগী হয়। আফগানিস্তানের সঙ্গে হেরেছে। মনটন খারাপ। মাথাটাথা ঠা-া হোক, তারপর বলব।’ তবে টেস্ট ফরমেটে সাকিবের এমন অনেক রেকর্ড আছে, যেগুলো তাকে বিশ্বের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। সাকিব যদি আসলেই টেস্ট থেকে সরে যেতে চান, সেটা বাংলাদেশের জন্য বড় দুঃসংবাদই হবে।
এবারের বিপিএল নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে বিসিবির নানা টানাপোড়েনের মধ্যে এলো চমকপ্রদ ঘোষণা। কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিকেই কোনো দল দেওয়া হচ্ছে না এবারের বিপিএলে। বিসিবি নিজেরাই চালাবে এ আসর। সব দল পরিচালনা করা হবে বিসিবির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে সামনে রেখে এবারের বিপিএলের নাম ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল।’ গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান।
বিপিএলের সপ্তম আসর হবে কি নাÑ তা নিয়ে একটা সংশয়, সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তবে সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেনÑ বিপিএল হচ্ছে। বিপিএলের সপ্তম আসর নতুন এক স্টাইলে হচ্ছে। বিপিএলের আয়োজক সবসময়ে ছিল বিসিবি। এবার তাতে যোগ হয়েছে আরেকটি নতুন ফর্মুলা। নতুন আসরে দলগুলোর মালিকানাও থাকছে বিসিবির হাতেই! অর্থাৎ কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকছে না বিপিএলের সপ্তম আসরের দলগুলোর মালিকানায়। দল গঠন থেকে ম্যাচ পরিচালনাÑ সবকিছুর একচ্ছত্র দায়িত্ব বিসিবির। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৬ ডিসেম্বর। আর টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ৩ ডিসেম্বর। 
ফ্র্যাঞ্চাইজি বাদ প্রসঙ্গে বোর্ড প্রধান বলেন, ‘আমরা কোনো ফ্রাঞ্চাইজিতে যাচ্ছি না এবং এর পিছনে সব থেকে বড় কারণ, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আছে আগামী বছর। আমরা ক্রিকেট দিয়ে এ উৎসব শুরু করতে যাচ্ছি। আমরা চাচ্ছি এবারের বিপিএল বঙ্গবন্ধুর নামে উৎসর্গ করে, বঙ্গবন্ধু নামে করব।’ তবে মূল কারণ ভিন্ন। ডিসেম্বরে বিপিএল শুরুর আগে থেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং করেছিল টুর্নামেন্টের গভর্নিং কাউন্সিল। সেখানে নিজেদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বিসিবি সভাপতি বলছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার সঙ্গে বিসিবি কোনোমতেই মানিয়ে নিতে পারছে না। নাজমুল হাসান বলেন, ‘এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নতুন চুক্তি হওয়ার কথা। তাদের সঙ্গে আমরা বসেছিলাম। বসে যে আলোচনা হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমে আমরা যা দেখেছি, আমার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয়েছে, সব কিছু থেকে আমি বলতে পারি, কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির বেশ কিছু দাবি-দাওয়া আছে। ওই দাবিগুলো বিপিএলের অরিজিনাল মডিউলের সঙ্গে পুরোপুরিই সাংঘর্ষিক। কোনোভাবেই মানিয়ে নিতে পারছি না।’ ‘আবার কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বলেছে, একই বছর দুটি বিপিএল না হোক, সেটিকেই তারা বেশি উপযুক্ত মনে করে। খেলবে না, তা নয়। তবে এক বছরে দুটি খেললে তাদের ওপরে চাপ বেশি পড়ে যায়। সবকিছু মিলিয়ে আমরা ঠিক করেছি, এবারের বিপিএল বিসিবি নিজেরাই চালাবে। কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আমরা দিচ্ছি না।’ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কোন দাবিগুলো বিপিএলের মডিউলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেসব পুরো খুলে বলেননি নাজমুল হাসান। তবে বেশ কটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বিপিএলের রাজস্বের ভাগ দেওয়ার যে দাবি করেছিল, সেটি নিয়ে তিনি বললেন আলাদা করে। জানিয়ে দিলেন বিসিবির ভাবনা,‘ রেভেনিউ শেয়ার’ (লভ্যাংশ ভাগাভাগি) করা সম্ভব নয়। আমাদের ৮০ কোটি টাকা দিক, আমরা ৪০ কোটি টাকা দিয়ে দেব। হয়ে গেল! (আগে) ৮ কোটি টাকা করে নিত বিসিবি। আমরা সাত কোটি ছেড়েই দিয়েছি। মাত্র এক কোটি নিচ্ছি। আবার কী চায়?