আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে এবার পোশাক কেনার টাকা

প্রশংসনীয় উদ্যোগ

| সম্পাদকীয়

মানসম্মত ও যুগোপযোগী প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সরকার অনেক দিন ধরেই নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশের ক্ষেত্রে এর সুফল বিভিন্ন সময় প্রতিফলিত হতে দেখা গেলেও, লক্ষণীয় বিষয় হলো তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এখনও পিছিয়ে রয়েছে। সংগত কারণেই সরকার তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে আরও বেশি সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববারের আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের পড়াশোনা চালাতে পারে, এর জন্য বিদ্যালয়গুলোকে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক করা হচ্ছে। আকর্ষণীয় করে সাজানো হচ্ছে ক্লাসরুম। আগামী বছর থেকে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নতুন বইয়ের পাশাপাশি স্কুল-পোশাকের জন্য ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। কুড়িগ্রামে এক মতবিনিময় সভায় শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এসব কথা জানান।
উল্লেখ্য, প্রতিমন্ত্রীর বরাতে আরও প্রকাশ, আনন্দপূর্ণ পাঠদান কার্যক্রম চালু করার লক্ষ্যে এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক চারটি স্কুল বাছাই করা হয়েছে। স্কুলগুলো হলোÑ কুড়িগ্রাম পৌরসভার ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রৌমারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেত্রকোনার ৩৬ নম্বর বালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাগুরা জেলার হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সফলতা পেলে সব বিদ্যালয়ে একই সময়সূচি চালু করা হবে। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা ৩০ মিনিটের বিশ্রামের সময় পাবেন। প্রতি ক্লাসের শেষে ১৫ মিনিটের বিশ্রামের সময়ে খেলাচ্ছলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশের জন্য সরকারের এমন উদ্যোগ ও কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। আশা করা যায়, এমন সুবিধা পাওয়ার ফলে দারিদ্র্যের কারণে এখন পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিতরা উৎসাহিত হয়ে স্কুলে আসবে এবং শিক্ষাপ্রাপ্তি তাদের জন্য আনন্দদায়ক হবে।
আশঙ্কার কথা হলো, কখনও কখনও শিক্ষাবিষয়ক প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়, যা একেবারেই অনাকাক্সিক্ষত। প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশে সরকারের গৃহীত বর্তমান পদক্ষেপগুলো যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দ্বারা কার্যক্রম যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে দুর্নীতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। শিক্ষা প্রতিটি নাগরিকেরই মৌলিক অধিকার। এক্ষেত্রে যে কোনো দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। জাতীয় আশা-আকাক্সক্ষা এবং আদর্শের প্রতিফলন ঘটে প্রাথমিক শিক্ষায়। সংগত কারণেই যে দেশে যত সুষ্ঠুভাবে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়, সে দেশ তত উন্নত। নতুন বই ও পোশাকের টাকা পাওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর সুষ্ঠুভাবে প্রাথমিক শিক্ষাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে এবং কোনো শিক্ষার্থীই অকালে ঝরে পড়বে নাÑ এমনটাই প্রত্যাশা।