আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

হাঁপানির সঙ্গে অ্যালার্জির সম্পর্ক

পতঙ্গের কামড়ে গায়ে চুলকানি, স্থানটি ফুলে যাওয়া এমকি হাঁপানি পর্যন্তও হতে দেখা যায়। মশা, বেলেমাছি, মৌমাছি, বোলতা, ভিমরুল প্রভৃতি পতঙ্গের কামড়ে দেহে অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়

ডা. দিদারুল আহসান
| সুস্থ থাকুন

হাঁপানির সঙ্গে অ্যালার্জির গভীর সংযোগ আছে। ফুলের পরাগ, দূষিত বাতাস, ধোঁয়া, কাঁচা রঙের গন্ধ, চুনকাম, ঘরের ধুলা, পুরনো ফাইলের ধুলা দেহে অ্যালার্জিক বিক্রিয়া করে হাঁপানি রোগের সৃষ্টি করে। কাজেই যারা হাঁপানিতে ভুগছেন তাদের এগুলো পরিত্যাগ করে চলতে হবে।
ছত্রাক দেহে অ্যালার্জি তথা হাঁপানি সৃষ্টি করে। ছত্রাক হচ্ছে অতি ক্ষুদ্র সরল উদ্ভিদ। ছত্রাক ২০ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড উত্তাপে জন্মে, ভেজা পদার্থে এ ছত্রাক জন্মাতে দেখা যায়। আবার কোনো কোনো খাদ্য ছত্রাক দ্বারা দূষিত হয়ে থাকে। পনিরে ছত্রাক মিশিয়ে তৈরি করা হয়। কোনো কোনো পাউরুটি এবং কেক তৈরি করতেও ইয়েস্ট জাতীয় ছত্রাক ব্যবহার করা হয়। আলু, পেঁয়াজও ছত্রাক দ্বারা দূষিত হয়। এ ছত্রাক ও অ্যালার্জি হাঁপানি সৃষ্টির একটি অন্যতম কারণ। ঘরের ধুলাতে এটি সচরাচর পরিচিত। এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শতকরা প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে অ্যালার্জি সৃষ্টির জন্য এ ‘মাইট’ দায়ী। সেজন্য যারা হাঁপানিজনিত অ্যালার্জিক সমস্যায় ভোগেন তারা ঘরের ধুলা সবসময় এড়িয়ে চলবেন। ঘরের আসবাবপত্র, কম্বল, পর্দা, তোশক, বালিশ, প্রভৃতিতে যে ধুলা জমে থাকে তা পরিষ্কার করার সময় দূরে থাকতে হবে।
খাদ্যে প্রচুর অ্যালার্জির সম্ভাবনা থাকে; যেমন দুধে অ্যালার্জি, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে গরুর দুধে খুব বেশি অ্যালার্জি হতে দেখা যায়। গরুর দুধে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে গায়ে চুলকানি, হাঁপানি ইত্যাদি হতে দেখা যায়। এছাড়া গম, ডিম, মাছে অ্যালার্জি হতে দেখা যায়। বাদাম, কলা, আপেল, আঙ্গুর, ব্যাঙের ছাতা, তরমুজ, পেঁয়াজ, রসুন, চকোলেট, এমনকি ঠান্ডা পানীয় কোনো কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে অ্যালার্জি সৃষ্টি করে।
পতঙ্গের কামড়ে গায়ে চুলকানি, স্থানটি ফুলে যাওয়া এমকি হাঁপানি পর্যন্তও হতে দেখা যায়। মশা, বেলেমাছি, মৌমাছি, বোলতা, ভিমরুল প্রভৃতি পতঙ্গের কামড়ে দেহে অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়।
জীবজন্তু যেমন বিড়াল, কুকুর, অশ্ব প্রভৃতি গৃহপালিত পশু, অনেক সময় অ্যালার্জি সৃষ্টির জন্য বিশেষভাবে দায়ী। এছাড়া এক ধরনের চর্মরোগ আছে যাকে বলা হয় আর্টিকোরিয়া, বাংলায় কেউ কেউ আমরাতও বলে থাকেন। এক্ষেত্রে ত্বকে চাকা চাকা হয়। আর ফুলে ওঠার পাশাপাশি চুলকাতে দেখা যায়। এটিও হলো অ্যালার্জির অন্যতম প্রকাশ। অধিকাংশ লোকের জীবনেই কোনো না কোনো সময় এ রোগ হতে দেখা যায়। এ আর্টিকোরিয়া শরীরের কোনো অংশে সীমাবদ্ধ থাকতে অথবা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে বিভিন্ন আকারের লালচে চাকা চাকা ফোলা দাগ হতে দেখা যায় এবং সেসঙ্গে থাকে প্রচ- চুলকানি। অনেকগুলো কারণের মধ্যে খাদ্য থেকেও এ অ্যালার্জি হতে পারে। যেমন বাদাম, ডাল, মাংস, ডিম ইত্যাদি। এছাড়া এ রোগ কীটপতঙ্গ থেকেও সৃষ্টি হতে পারে। যেমন পতঙ্গ, মৌমাছি, ভীমরুল, মাকড়সা প্রভৃতির কামড়ে এ অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। এছাড়া ওষুধ ব্যবহারেও অ্যালার্জি হতে পারে। এর মধ্যে পেনিসিলিন ও অ্যাসপিরিন অন্যতম। মোটকথা অ্যালার্জিতে ভুগলে লক্ষ্য করবেন কোনো খাবারে আপনার অ্যালার্জি হয় কিনা। যদি খাবারের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় তবে সে খাবার অবশ্যই পরিহার করতে হবে। মোটকথা যেসব কারণে আপনার অ্যালার্জি হয় সেসব কারণ এড়িয়ে চলতে হবে।

 

ডা. দিদারুল আহসান
চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
আল-রাজী হাসপাতাল, ঢাকা
০১৭১৫৬১৬২০০