আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

দুই দিনে ছয়জনের মৃত্যু

ডেঙ্গুর প্রকোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

ফরিদপুরের ছবি- আলোকিত বাংলাদেশ

  • ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৬৩৪ জন
  • চলতি বছরে আক্রান্ত ৭৮,৬১৭ জন

রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমলেও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। নতুন করে আরও ছয়জন ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে বুধবার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) এক সেমিনারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর হার দশমিক শূন্য শূন্য ২ শতাংশ।  
এদিকে, গেল ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৬৩৪ জন। ১০ সেপ্টেম্বর নতুন করে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৫৩ জন। এ হিসাবে গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত রোগীর হার কমেছে ১৬ শতাংশ বলে কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে। আইইডিসিআরে আয়োজিত সেমিনারে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশ্বের ১২৮টি দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রয়েছে। কোনো দেশই অনুমান করতে পারেনি যে, ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম। আমাদের দেশে যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন, ওই সব রোগী হিসাব করে দেখা গেছে, মৃত্যুর হার হচ্ছে দশমিক শূন্য শূন্য ২ শতাংশ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মৃত্যুর হার হতে হবে ১ শতাংশের কম। সে তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা অনেক ভালো। তিনি বলেন, চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকিনিশিয়ানদের নিরলস প্রচেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট সবার সুন্দর ব্যবস্থাপনার কারণে শতকরা মৃত্যুহার এত নিচে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করাও সম্ভব হয়েছে। 
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় রোগীর সংখ্যা ২২১ এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ৪১৩ জন। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৪১ জন। এর মধ্যে ঢাকার ভেতরে ২৮৫ জন আর ঢাকার বাইরে ২৫৬ জন।
কন্ট্রোল রুম জানায়, সারা দেশে এ মুহূর্তে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি থাকা মোট রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৬৫ জন। এর মধ্যে ঢাকার ১২টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত এবং ২৯টি বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছেন ১ হাজার ৪৩৪ জন আর ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোয় ১ হাজার ৭৩১ জন। সারা দেশে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেওয়া রোগীর সংখ্যা ৯৬ শতাংশ। তবে, ১১ সেপ্টেম্বরের সকাল ৮টা পর্যন্ত চলতি মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৭ হাজার ৫২০ জন। 
এদিকে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ১৯৭টি ঘটনা পর্যালোচনা করার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। এর মধ্যে থেকে ১০১টি ঘটনা পর্যালোচনা করে ৬০টি ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেছে তারা। এ হিসাব অনুযায়ী এপ্রিলে দুইজন, জুনে পাঁচ, জুলাইয়ে ২৮ এবং আগস্টে ২৫ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত হওয়া ভর্তি রোগীর সংখ্যা মোট ৭৮ হাজার ৬১৭ জন আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরা রোগীর সংখ্যা ৭৫ হাজার ২৫৫ জন। গেল ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ৪৯ জন, এসএমসি ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩০, ঢাকা শিশু হাসপাতালে তিন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ জন ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ১১ জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে এক, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চার, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১২ রোগী ভর্তি হয়েছেন।
ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
বরিশাল : ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ফরহাদ হোসেন জিহাদ (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে মারা গেছে।
খুলনা : খুলনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম রহিমা বেগম (৫০)।
যশোর : যশোরে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন জেলার মনিরামপুর উপজেলার আবদুল কাদেরের স্ত্রী জাহিদা বেগম (৩৫) এবং একই উপজেলার মশ্মিমনগর গ্রামের ইনতাজ আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫)।
রাজৈর (মাদারীপুর) : সোমবার রাত ১টার দিকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সিদ্দিকুর রহমান মাতুব্বর (৫৫) নামে এক চৌকিদার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। 
কুষ্টিয়া : মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিনা খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।