আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

আমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেশ চালাই না

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা- পিআইডি

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসন ও আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাস এবং পুড়িয়ে মানুষ হত্যার কঠোর সমালোচনা করে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ মানুষ হত্যার রাজনীতি করে না। প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসীও নয়। সেটি বিশ্বাস করলে এ দেশে বিএনপির অস্তিত্ব থাকত না। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এদিন সংসদের বৈঠকে সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্যের লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, তিনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেশ চালান না। বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের লিখিত জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি সরকারের সময় তাদের হাতে আওয়ামী লীগ যে সংখ্যায় হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তা আর কেউ হয়নি। এ দেশে জঙ্গি সৃষ্টি, অগ্নিসন্ত্রাস, বোমা হামলা, মানি লন্ডারিং, এতিমের টাকা আত্মসাৎসহ হেন অপকর্ম নেই খালেদা জিয়া, তার দুই ছেলে এবং তার দলের নেতারা করেননি। এর আগে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন ছিলÑ ‘দেশে বর্তমানে মানুষ হত্যা থেকে মশা মারা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রয়োজন হয়।’ এ প্রশ্নের তীব্র সমালোচনা করে লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (রুমিন) একটি অনাকাক্সিক্ষত, অসংসদীয় ও অবান্তর প্রশ্ন এনেছেন। তিনি মানুষ হত্যা আর মশা মারাকে একই সমতলে নিয়ে এসেছেন। সংসদ সদস্যের নেত্রী খালেদা জিয়ার মতো দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটালেই কি প্রশ্নকারী খুশি হতেন?’ তিনি বলেন, রাষ্ট্র একটি যন্ত্রের মতো। এ যন্ত্রের বিভিন্ন কল-কব্জা যখন সমন্বিতভাবে কাজ করে, তখনই রাষ্ট্র ভালো থাকে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কারণ রাষ্ট্রযন্ত্র ভালোভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানের অকার্যকর হওয়ার কথা উনি (রুমিন) বলছেন। অকার্যকর রাষ্ট্রের উদাহরণ তো বিএনপিই সৃষ্টি করেছিল। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসত রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, এমন ব্যক্তির কাছ থেকে। প্রধানমন্ত্রী ঘুমিয়ে থাকতেন, সিদ্ধান্ত দিতেন তার পুত্র হাওয়া ভবন থেকে। মন্ত্রী-সচিবরা হাওয়া ভবন থেকে নির্দেশের অপেক্ষায় প্রহর গুনতেন। 
ডেঙ্গুর কিট : জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩ আগস্ট পর্যন্ত সরকার ১ লাখ ৫৭ হাজার এসএস-ওয়ান কম্ব কিটসহ ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২০০ ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণ কিট আমদানি করেছে। ৬ আগস্ট থেকে বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে দেশেই ডেঙ্গু রোগের কিট তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার কিট সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট ঘাটতির কোনো সম্ভাবনা নেই। দেশবাসীকে ডেঙ্গু রোগ মোকাবিলায় নিজ নিজ এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে, বিশেষ করে উষ্ণম-লীয় ১২৭টি দেশে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ ও প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশেও এ বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার চিকিৎসা গাইডলাইন রয়েছে। এ গাইডলাইনের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে। তারা স্থানীয় চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। 
মুজিববর্ষ পালন : গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ১৭ মার্চ ২০২০ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মুজিববর্ষ’-এর আয়োজন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ও মৌলিক চাহিদা পূরণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলাই তার সরকারের মূল লক্ষ্য। নিজের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, দেশের জন্য কী করতে পারলাম সেটাই আমার কাছে মূল লক্ষ্য। বিশ্বনেতা জাতির পিতা, আমি নই। এটি আমার বিনয় নয়, এটাই বাস্তব সত্য কথা।’ 
তিস্তা চুক্তি : জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোনো চুক্তি সম্পাদনের সময় বাংলাদেশের স্বার্থ অক্ষুণœ রেখেই খসড়া প্রস্তুত ও চূড়ান্ত করা হয়। তিস্তাসহ অন্যান্য সব অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। এ চুক্তি সম্পাদনের জন্য সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এসব বিষয় ভারতের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে ভালোভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।’  
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন : সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রুমানা আলীর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের চাপে মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক চূক্তিগুলো স্বাক্ষর করলেও তা বাস্তবায়নে যথেষ্ট গড়িমসি করে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী পরিচিতি যাচাইয়ের জন্য মিয়ানমারের কাছে আমরা এ যাবত তিন দফায় ৫৫ হাজার ৫১১ রোহিঙ্গার তথ্য দিয়েছি। তিনি জানান, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ নিরীক্ষাপূর্ব বিভিন্ন দফায় এসব রোহিঙ্গার ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করেছে। তাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য আমরা দুই দফা প্রস্তুতি নেই। প্রথমবার গত বছরের ১৫ নভেম্বর এবং দ্বিতীয়বার চলতি বছরের ২২ আগস্ট আরেক দফা প্রত্যাবাসনের তারিখ ঠিক করা হয়; কিন্তু সব ধরনের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও কোনো রোহিঙ্গা ফিরে যেতে সম্মত না হওয়ায় প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব হয়নি। কারণ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার প্রশ্নে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। তবে আশা করা যায়, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ শিগগিরই রাখাইন রাজ্যে সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি করবে এবং দ্রুত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করবে।