আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

গাছে মাল্টা, মনে স্বপ্ন

নূরে-আলম রনি, নরসিংদী
| সুসংবাদ প্রতিদিন

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের কৃষক আশরাফ হোসেন। নিজের জমিতে দীর্ঘ বছর ধরে বিভিন্ন কৃষি জাতীয় ফসল চাষাবাদ করছেন। কৃষি অফিসের পরামর্শে ২০১৭ সালে তিনি ২০ শতাংশ জমিতে দেশীয় মাল্টার আবাদ করেছেন। চারা রোপণের মাত্র দুই বছরের মাথায় প্রতিটি গাছে ফলন এসেছে চোখে পড়ার মতো। আর এ মাল্টা চাষের মধ্য দিয়ে নিজের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক আশরাফ হোসেন। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে প্রথমবারের মতো পলাশ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে বারি-১ দেশীয় জাতের মাল্টার চাষ শুরু হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ জাতীয় মাল্টার ২০টি প্রদর্শনী বাগান করা হয়েছে। প্রতিটি বাগানে আশানুরূপ ফলন এসেছে। 
সরেজমিন পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামে কৃষক আশরাফের মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে সবুজ রঙের মাল্টা। মাল্টার আকারও বেশ বড়। কৃষক আশরাফ জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো জমিতে মাল্টার চাষ করেছেন। বাগানে প্রায় ৬০টি মাল্টার গাছ রয়েছে। দুই বছর আগে চারাগুলো কৃষি অফিস তাকে বিনামূল্যে চাষের জন্য বিতরণ করে। প্রতিটি গাছে ১২০ থেকে ১৫০টি করে মাল্টার ফলন এসেছে। ১৫ থেকে ২০ দিনের মাথায় ফলন সংগ্রহ করতে পারবে বলে আশা করছেন কৃষক আশরাফ। তিনি বলেন, এর আগে এ জমিতে কলার আবাদ করেছিলাম। মাল্টার ভালো ফলন পেয়ে এখন এটি বড় আকারে করা চিন্তা করছি। এরই মধ্যে মাল্টায় পাক ধরেছে। সেগুলো খেতে বেশ রসালো ও মিষ্টি। তাই মাল্টা চাষ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছি।
আশরাফের এ বাগান দেখে আশপাশের অনেক কৃষক এখন এ জাতের মাল্টা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। মাল্টা চাষে আগ্রহী ওই গ্রামের রনি পাল জানান, এতদিন লিচু-পেয়ারার বাগান করেছি। এখন মাল্টা বাগান করব বলে চিন্তা করছি। আগে থেকে আমরা এ ফলটির চাষাবাদ নিয়ে তেমন পরিচিত ছিলাম না। কৃষক আশরাফের বাগানের ফলন দেখে এখন এলাকার অনেকেই মাল্টা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছে।
জিনারদী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আ. হালিম মিয়া জানান, দুই বছর আগে বিনামূল্যে বারি-১ জাতের মাল্টার চারাসহ উপকরণ বিতরণ করা হয়েছিল। এ এলাকার মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ায় কৃষকদের মাল্টা চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তারা এ আবাদ নিয়ে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিল। তবে আমরা নিয়মিত তাদের পরামর্শ দিয়েছি। এখন বাগানজুড়ে মাল্টা ফলায় কৃষকরা বেশ খুশি। তিনি আরও জানান, মাল্টার ফলন ভালো হয়েছে। মাল্টা খেতেও বেশ সুস্বাদু। আগামীতে মাল্টার আবাদ অনেক বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম জানান, উপজেলার জিনারদী, চরসিন্দুর ও ডাঙ্গা ইউনিয়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি বাগানে বারি-১ জাতের মাল্টার আবাদ করা হয়েছে। এ জাতীয় মাল্টা পাকা অবস্থায়ও সবুজ রং হয়ে থাকে। বাজারে বিদেশি মাল্টার রং হলুদ রঙের হয়ে থাকে। বিষমুক্ত এ জাতের মাল্টায় কেমিক্যাল ব্যবহার করে হলুদ বর্ণ না করার জন্য কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।