আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

মাস্টার্সের শিক্ষার্থীকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
| শেষ পাতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শরীফা বেগম (২৪) নামে এক শিক্ষার্থীকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে এ অভিযোগ পাওয়া যায়। শরীফা জেলার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকূট ইউনিয়নের বিদ্যাকূট গ্রামের মজিবুর রহমানের মেয়ে। সে চলতি বছর মোহাম্মদপুর কলেজ থেকে মাস্টার্সের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেয়। জানা গেছে, পৌর এলাকার কলেজপাড়ার ১০১৭ নম্বর ডিসেন্ট হাউসের নিচ তলায় অন্য একটি মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকত শরীফা বেগম। ওই মেয়েটি সম্প্রতি অন্য জায়গায় চলে যাওয়ায় শরীফা একা থাকত। শরীফার বড় বোন সোনিয়া বলেন, মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে অজ্ঞাত একটি ফোনে জানানো হয় তোর বোন ফাঁসিতে ঝুলে রয়েছে। খবর নে। শরীফা বেগম মঙ্গলবার দুপুরে তার মায়ের সঙ্গে মোবাইলে সর্বশেষ কথা বলে। গ্রামের বখাটে হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে আমার বোনকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। সে রাজি ছিল না। তাকে সে বিয়ে করবে না হলে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছিল। শরীফার বাবা মজিবুর রহমান বলেন, আমরা তার কক্ষে এসে দেখি পুলিশ লাশ নামাচ্ছে। এ সময় তার পা ঘরের ফ্লোরে লাগানো অবস্থায় রয়েছে। তার ব্যবহৃত ওড়না গলার এক পাশে জড়ানো। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি। ঘরের বিভিন্ন স্থানে পোড়া সিগারেট রয়েছে। আমার মেয়ের ব্যাংকে চাকরি হওয়ার কথা ছিল। তাই সে আগামী মাসে বাসা ছেড়ে দেবে বলে জানিয়েছিল। সদর থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, বাড়ির মালিকের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ ঝুলন্ত অবস্থায় শরীফা বেগমের লাশ উদ্ধার করে। তারা জানায়, সারাদিন কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে অনেক ডাকাডাকি করলে কোনো জবাব না পেয়ে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। সদর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, মেয়ের ব্যবহৃত মোবাইলটি পাওয়া যায়নি। রুমে সিগারেট পাওয়া গেছে। লাশের পা ফ্লোরে লাগানো ছিল। লাশের শরীরে গলায় দাগ ছাড়া আর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মজিবুর রহমান বাদী হয়ে সদর থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।