আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ভূমি নিবন্ধন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সম্পন্ন হয় না

বললেন ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, দুঃখজনকভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারণা রয়েছে। তা হলো ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রম ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সম্পন্ন হয়। বাস্তবতা হচ্ছে ভূমি নিবন্ধনের বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের আওতায় সম্পন্ন হয়। নিবন্ধনের বিষয়টি যেহেতু ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়, সেহেতু আমি এখানে হাত দিতে পারছি না। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আল রবার্ট মিলারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, তুলনা করলে দুর্নীতির বিষয়টি আগের চেয়ে আমরা অনেক পরিবর্তন করেছি। মানুষ কিছুটা হলেও এখন সেবা পাচ্ছে। এখন আমরা অনলাইন ডাটাবেজে সাড়ে তিন কোটি খতিয়ান আপলোড করেছি। এ সবের জন্য মানুষকে আগে অনেক হয়রানি পোহাতে হতো। এখন আর হয়রানি পোহাতে হয় না।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ভূমি নিবন্ধন নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদন পুরোপুরি সত্য নয়, তবে তাদের প্রতিবেদন একেবারে উড়িয়েও দিচ্ছি না। ভূমি নিবন্ধন বিভাগে কিছু দুর্নীতি হয়, তবে এ অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আরও যে সব বিষয়ে উন্নতি দরকার সেগুলো আমরা করব। তিনি বলেন, টিআইবির রিপোর্টটি আমার নজরে এসেছে। তাদের রিপোর্টটিকে পুরোটা সমর্থন করতে পারছি না। তবে ভূমি অফিসের জটিলতা এবং সমস্যা দীর্ঘদিনের। অনেক ক্ষেত্রেই আগের চেয়ে বর্তমানে বেশ কিছু উন্নতি হয়েছে। টিআইবি যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সেটা কখনকার তারা উল্লেখ করেনি।
মন্ত্রী বলেন, টিআইবি ভূমি রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। রেজিস্ট্রেশন বিভাগের অংশটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। তবে তারা যেসব সমস্যা তুলে ধরেছেন তার অনেকগুলোই আমরা উন্নয়ন করেছি। এ উন্নয়নটা আমাদের অব্যাহত রয়েছে। ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমির দলিল নিবন্ধন সেবা জনগুরুত্বপূর্ণ এবং সরকারের রাজস্ব আহরণের অন্যতম উৎস হলেও সেবার যুগোপযোগী মান উন্নয়নে আইনি, পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনটি মনে করে, ভূমি নিবন্ধন সেবার প্রতিটি পর্যায়ে সেবার মান আগের চেয়ে বেড়েছে বরং কমেনি। ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। আর এ ক্ষেত্রে সরকার ও সেবাগ্রহিতা উভয়পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এলাকা বিশেষে ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবায় ধরন অনুযায়ী এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ ও নিয়মবহির্ভূত লেনদেন হয়। দলিল নিবন্ধনে ১ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা, দলিলের নকল উত্তোলনে ১ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা, দলিল নিবন্ধন প্রতি দলিল লেখক সমিতিকে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।