আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ডিগ্রি শেষে আরও দুই বছর ব্রিটেনে থাকার সুযোগ ফিরল

স্টুডেন্ট ভিসা

আলোকিত ডেস্ক
| শেষ পাতা

ব্রিটিশ হোম অফিসের ঘোষণা করা নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর কর্মসংস্থানের জন্য দুই বছর যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। ফলে ২০১২ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে’র নেওয়া সিদ্ধান্তকে পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। থেরেসা মে নিয়ম করেছিলেন, স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার মাসের বেশি ব্রিটেনে অবস্থান করতে পারবেন না। বুধবার বিবিসি এ খবর জানায়। 
অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে ব্রিটেনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় লেখাপড়া করার বিষয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এ কারণে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যাও নিতান্ত কম নয়। নতুন এ নীতিমালা তাদের ক্যারিয়ার গঠন বা ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ, লেখাপড়া শেষ করে তারা ব্রিটেনে থাকবেন, না দেশে ফিরবেনÑ তা ভাবার সুযোগ পাবেন তারা। এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, নতুন পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের নিজেদের সক্ষমতা বুঝতে এবং যুক্তরাজ্যে নিজেদের পেশা গড়ে নিতে সহায়ক হবে। যেসব শিক্ষার্থী আগামী বছর থেকে যুক্তরাজ্যে স্নাতক পর্যায়ে কিংবা তার থেকে উঁচু কোনো ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা শুরু করবেন, তারা এ পরিবর্তিত নিয়মের সুযোগ পাবেন। এখানে শর্ত থাকবেÑ তারা যেনতেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন না। কেবল সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন যাদের ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রে অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ইতিহাস আছে। 
সরকারের এ ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন একই দিনে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি জেনেটিক প্রকল্প চালু করা হলো। এ প্রকল্পটি শুরু হচ্ছে ইউকে বায়োব্যাংক নামে একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক দাতব্য সংস্থার অধীনে, যাদের কাছে অন্তত ৫ লাখ মানুষের জেনেটিক তথ্য ও নমুনা রয়েছে। ইউকে বায়োব্যাংক কয়েক বছর ধরে ৫ লাখ ব্রিটিশ স্বেচ্ছাসেবকের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা এবং তথ্য সংগ্রহ করেছে, যা এখন বিশ্বের সব গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত। রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন ওষুধ আবিষ্কারের জন্য গবেষকরা এ তথ্যভা-ার ব্যবহার করতে পারবেন।
সরকারের ‘বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি’ : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার ‘গর্বিত ইতিহাস’ রয়েছে ব্রিটেনের। তিনি বলেন, ‘এখন বিশ্বের বৃহত্তম জেনেটিক গবেষণা প্রকল্পে কাজ করতে পুরো বিশ্ব থেকে বিশেষজ্ঞদের এক করছি আমরা, যাতে প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় উন্নত পদ্ধতি আবিষ্কার, তথা প্রাণ বাঁচানো সহজ হয়।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বের উজ্জ্বল এবং মেধাবীদের জন্য যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা আর কাজ করার জন্য সুবিধা উন্মুক্ত না হলে এটি অর্জন করা সম্ভব হবে না। আর এজন্যই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের সক্ষমতা চিহ্নিত করা এবং যুক্তরাজ্যে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিতে নতুন রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।’ এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি পাটেল বলেন, এ সিদ্ধান্ত সরকারের ‘বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি’র প্রকাশ। নতুন প্রস্তাবনার আওতায় শিক্ষার্থীরা কি ধরনের কাজ বা কতটি কাজ করতে পারবেন, তার ওপর কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না। 
নতুন এ অভিবাসন নীতিমালা সম্পর্কে বিবিসির মার্ক ইস্টন বলেন, ‘অভিবাসন নিয়ে সরকারের নতুন কোনো পদক্ষেপের প্রমাণ যদি চান, তাহলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের দুই বছর থাকতে দেওয়ার এ সিদ্ধান্তই সে প্রমাণ।’ তিনি বলেন, ‘যেখানে থেরেসা মে অভিবাসন নীতি নিয়ে একটি বৈরী পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল মোট অভিবাসনের সংখ্যা কমিয়ে আনা, সেখানে বরিস জনসন সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে বুদ্ধিদীপ্ত এবং সেরাদের বৈশ্বিক ব্রিটেনে এসে বাস করতে উৎসাহী করছেন।’ ইউনিভার্সিটিজ ইউকের প্রধান নির্বাহী অ্যালেস্টার জারভিস এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে লাভবান করবে এবং উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাজ্যের সুনাম ফিরিয়ে আনবে। অ্যালেস্টার জারভিস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের জন্য ইতিবাচক সামাজিক প্রভাব বয়ে আনে বলে প্রমাণ রয়েছে। সঙ্গে অর্থনীতিতে যোগ করেছে ২৬ বিলিয়ন পাউন্ড। কিন্তু বেশ দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ না থাকায় যুক্তরাজ্য এসব শিক্ষার্থীকে আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।’