আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১২-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

এগোচ্ছে বে-টার্মিনালের কাজ

সাইফুদ্দিন তুহিন, চট্টগ্রাম
| শেষ পাতা
  • ব্যয় হবে ২১ হাজার কোটি টাকা
  • ইয়ার্ড নির্মাণ হলেই কনটেইনার খালাস শুরু
  • ব্যবসায়ীরা চান শিগগিরই কাজ শেষ করতে

চট্টগ্রাম বন্দরে নির্মাণাধীন ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বড় প্রকল্প বে-টার্মিলের প্রাথমিক কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। ইয়ার্ড নির্মাণ শেষ হলেই সীমিত পরিসরে কনটেইনার হ্যান্ডল শুরুর পরিকল্পনা আছে। আর প্রকল্প শেষ করার টার্গেট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২২ সালের মধ্যে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, জমি অধিগ্রহণসহ নানা কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের বাকি কাজগুলোও চলছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে ক্রমবর্ধমান কনটেইনার হ্যান্ডল বাড়াতে বে-টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুরু থেকে নানা বিপত্তি ছিল। একে একে সব বাধা কেটে গেছে। এখন ধীরে ধীরে আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে বে-টার্মিনাল। এরই মধ্যে প্রকল্পের ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা কেটে গেছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন ৬৮ একর জমি অধিগ্রহণ করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। অমীমাংসিত থাকা ৮০৩ একর সরকারি খাস জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি বে-টার্মিনালের জন্য প্রস্তাবিত ৮০৩ একর খাস জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে। 
নগরীর পতেঙ্গা-হালিশহর এলাকায় সাগর উপকূল ঘেঁষে নির্মিত হচ্ছে বে-টার্মিনাল। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে ৮৭১ একর ভূমি। সমুদ্র থেকে রিক্লেইম করা আরও ১ হাজার ৬০০ একর ভূমিসহ ২ হাজার ৫০০ একর ভূমি প্রয়োজন হবে টার্মিনাল প্রকল্পে। আর পুরো প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবকাঠামোর চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বড়। দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরের বর্তমান অবকাঠামো ৪৫০ একর ভূমিতে। চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে বর্তমানে সাড়ে ৯ মিটার গভীরতা ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে বড় জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না। নতুন এ টার্মিনালে ভিড়তে পারবে ১২ মিটার গভীরতা ও ২৮০ মিটার পর্যন্ত  দৈর্ঘ্যরে জাহাজ। ফলে বন্দরে প্রতি বছর যে পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডল হচ্ছে, বে-টার্মিনালেই হ্যান্ডলিং হবে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পণ্য। বড় জাহাজগুলোকে দিনের পর দিন বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকতে হবে না। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতিও সাশ্রয় হবে।
বন্দর সূত্র জানায়, বে-টার্মিনালের ইয়ার্ড হবে বন্দরের বিদ্যমান ইয়ার্ডের এক্সটেনশন। বিদেশ থেকে আসা এলসিএল কনটেইনার সরাসরি ওই টার্মিনালে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেখান থেকে ডেলিভারি দেওয়া গেলে প্রতিদিন ৫ হাজার ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের প্রবেশ প্রয়োজন পড়বে না। প্রাথমিক ধাপে তাই চলছে তিনটি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের মাটি ভরাটের কার্যক্রম।
গেল বছর ১ নভেম্বর টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর বে-টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা কেটে যাওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। সরকার সিদ্ধান্ত নিলেই পুরোপুরি মাঠে গড়াবে নির্মাণ কাজ। তবে প্রাথমিক ও সংশ্লিষ্ট অনেক কাজ শেষ করে বাস্তবায়নের কাজ শেষ পর্যায়ে।
বে-টার্মিনালের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে কনটেইনার হ্যান্ডল হচ্ছে বছরে ২৯ লাখ (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে)। বন্দর ইয়ার্ডে বর্তমান ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০ হাজার কনটেইনার। মাঝেমধ্যেই কনটেইনারের পরিমাণ চলে যায় ধারণক্ষমতার একেবারে কাছাকাছি। এতে বন্দরে দেখা দেয় কনটেইনার জট। চরম ভোগান্তিতে পড়েন ব্যবসায়ীরা। বে-টার্মিনাল পুরোদমে চালু হলে এ সংকট আর থাকবে না।
এ ব্যাপারে একজন বন্দর ব্যবহারকারী জানান, দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন চট্টগ্রাম বন্দর। অথচ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বন্দরের উৎপাদনশীলতা প্রত্যাশিত অবস্থানে উন্নিত করা যায় না। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছি, কবে বে-টার্মিনাল পুরোদমে চালু হয়। এতে শুধু চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা নয়, সারা দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।