আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৮-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ভিকারুননিসায় অধ্যক্ষের যোগদানে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সরকারের নতুন নিযুক্ত অধ্যক্ষ ফওজিয়া রেজওয়ানের যোগদানে কোনো বাধা নেই। তবে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে ফওজিয়া রেজওয়ানের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না এবং ২০০৯ সালের রেজ্যুলেশন ৫১ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে সরকারকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ হিসেবে ফওজিয়া রেজওয়ানের নিয়োগ স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানিতে রিটের পক্ষে রিটকারী আইনজীবী ড. মো. ইউনুছ আলী আকন্দ নিজেই বক্তব্য উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত রুল জারি করেছেন। কিন্তু ফওজিয়া রেজওয়ানের যোগদানে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেননি। এর ফলে ফওজিয়া রেজওয়ানের অধ্যক্ষ হিসেবে ভিকারুননিসায় যোগদান ও দায়িত্ব পালনে বাধা নেই।’
১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার সবুজবাগ সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনরত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফওজিয়া রেজওয়ানকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এ নিয়োগ স্থগিত চেয়ে সোমবার রিট আবেদনটি দায়ের করেন ভিকারুননিসার গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটে বলা হয়, ১৯৭৯ সালের রেগুলেশন ২(এ)(ই), ৩(১) (২) অনুযায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষমতা গভর্নিং বডির এবং ২০০৯ সালের রেগুলেশন ৪১ (২)(খ)(৪) অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা গভর্নিং বডির। কিন্তু সরকার অবৈধ ক্ষমতা ব্যবহার করে মাউশির একজন কর্মকর্তাকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়। সোমবার এ রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট অন্তর্তবর্তীকালীন এক আদেশে মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ভিকারুননিসায় ফওজিয়া রেজয়ানের যোগদানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন।
২০১৮ সালে রাজধানীর বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে ভিকারুননিসার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসসহ তিন শিক্ষককে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব চালিয়ে আসছেন কলেজ শাখার সহকারী অধ্যাপক হাসিনা বেগম। গেল এপ্রিল মাসে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তা বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।