আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৮-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ঢাকায় ধীরগতিতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা
  • শিশুসহ দুইজনের মৃত্যু
  • ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৬১৫ জন
  • চলতি মৌসুমে আক্রান্ত ৮২ হাজার ৪৫৪ জন

রাজধানীতে পাঁচ থেকে সাতজন করে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে ৪৮ ঘণ্টায় ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়লেও গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত ভর্তির সংখ্যা কমে এসেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয় ১৫৬ জন ও ঢাকার বাইরে ৩৭১ জন, ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ১৬৩ জন ও ঢাকার বাইরে ৪৫৬ জন এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ১৯৩ জন ও ঢাকার বাইরে ৪৬০ জন। 
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে নতুন রোগী ১৯৮ জন ও ঢাকার বাইরে ৪১৭ জন, যা আগের দিনের চেয়ে ৪৩ জন কম।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার জানান, গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগী কমেছে ৬ শতাংশ। ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন ভর্তি ও ছাড়পত্রপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা যথাক্রমে ৬১৬ এবং ৬৩৭ জন। এর মধ্যে ঢাকায় নতুন ভর্তি ও ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ১৯৮ এবং ১৮৮ জন। সারা দেশে ছাড়পত্রপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৯৭ শতাংশ। 
মহাখালী রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে ২০৩টি মৃত্যুর তথ্য পাঠানো হয়। তার মধ্যে আইইডিসিআর ১১৬টি পর্যালোচনা করে ৬৮ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ৪৫৪ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৯ হাজার ৭৬৬ জন। বর্তমানে সারা দেশের হাসপাতালে ভর্তি ২৪৮৫ জন।
গেল ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৪৪, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৬, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১, বিএসএমএমইউয়ে ৮, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৭, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১১, কুয়েত মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে একজনসহ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে মোট ১৯৮ জন ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকা শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও নতুনভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৫ জন রোগী। এদের মধ্যে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে পাঁচজন, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইজন, ধানমন্ডি ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইজন, স্কয়ার হাসপাতালে একজন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে একজন, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইজন এবং কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে তিনজন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকা শহর ছাড়া ঢাকা বিভাগে ৯৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৩, খুলনা বিভাগে ১৫৭, রংপুর বিভাগে ৮, রাজশাহী বিভাগে ৩৫, বরিশাল বিভাগে ৬৩, সিলেট বিভাগে ৩ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন গেল ২৪ ঘণ্টায়।
শিশুসহ দুইজনের মৃত্যু : ঢাকায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী শিশু তারিন (১১) ও খুলনায় খবির উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তি ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিতে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিশু তারিনের। শিশুটির ফুপু সাহিদা আক্তার বলেন, অগাস্ট মাসের শেষের দিকে তারিনের জ্বর হলে শরীয়তপুরেই প্রথমে তার চিকিৎসা চলে। পরে ঢাকায় এনে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে আনা হয় ঢামেক হাসপাতালে। 
হাসপাতাল সূত্র জানায়, তারিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ছিল। তবে এটাই তার মৃত্যুর কারণ কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগে বলা যাবে না।
তারিন শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানার পূর্ব মাছুয়াখালী গ্রামের নাসির তালুকদারের মেয়ে। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট তারিন। ৭ নম্বর পূর্ব মাছুয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত সে।
খুলনা ব্যুরো জানায়, ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় মারা যান খবির উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তি। তার বাড়ি যশোরের অভয়নগরে।
হাসপাতালের চিকিৎসক শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত খবির উদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তাকে বঁাঁচানো যায়নি। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। এ বছর খুলনা হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০ জন এবং খুলনা জেলায় ১৩ জন মারা যান বলে জেলার সিভিল সার্জন এএসএম আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন।