আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৮-০৯-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

স্বামী-ছেলের কেলেঙ্কারিতে ডুবছেন জাবি ভিসি

| প্রথম পাতা

বেলাল হোসাইন, জাবি : স্বামী-ছেলের বিতর্কিত কর্মকা-ে ডুবছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। ক্যাম্পাসে টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্যে এখন বাবা-ছেলের পেশায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া ভিসির স্বামী আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডিস ক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নীতি ভঙ্গ করে অর্থ লুটপাটেরও অভিযোগ রয়েছে। মাদকাসক্ত আখতার হোসেন ভিসির বাসভবনে নিয়মিত মদের আড্ডার আসর বসান। সেই আড্ডায় বিশ^বিদ্যলয়ের কিছু শিক্ষকও অংশ নেন। সর্বশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার ছিনতাইয়ের ঘটনা থেকে শুরু করে টাকা লেনদেনের দিন পর্যন্ত ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের ছেলে প্রতীক তাজদীক হোসেন ও স্বামী আখতার হোসেন জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন। ১ কোটি টাকার মধ্যে তিনি নিজেও ২৫ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভিসির ছেলে ও স্বামী এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত। তাদের ফোন কল চেক করলেই দুর্নীতির সব ঘটনা বের হয়ে আসবে।
জানা গেছে, জাবি ভিসি ড. ফারজানা ইসলামকে বিশ^বিদ্যালয় পরিচালনায় সহযোগিতা করেন বেকার স্বামী আখতার হোসেন ও ছেলে প্রতীক তাজদীক হোসেন। বিশ^বিদ্যালরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়েও তারা সিদ্ধান্ত দেন। কে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা বা কর্মচারী পদে নিয়োগ পাবেন সে সিদ্ধান্তও দেন তারা। এজন্য বিভিন্ন তদবির নিয়ে তাদের কাছে ভিড় করেন ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। চাকরি দেওয়ার কথা বলে সর্বশেষ পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরম্যাটিক্স বিভাগ ও লোক প্রশাসন বিভাগে দুই প্রার্থীর কাছ থেকে ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কোনো শিক্ষক দেশের বাইরে গেলে তাকে উন্নত ব্যান্ডের বিদেশি মদ আনার নির্দেশ দেন আখতার হোসেন।
১ হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কমিশন কেলেঙ্কারিতেও তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও জাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের ফোনালাপে সেই তথ্য উঠে এসেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ৯ আগস্ট ভিসির বাসভবনে ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আমি সরাসরি উপস্থিত ছিলাম। ফলে আমিই জানি প্রকল্পের টাকা কীভাবে দুর্নীতি করা হয়েছে। তাছাড়া আমার সঙ্গে এবং ভিসির ছেলের সঙ্গে যে কথা হয়েছে সেটাই যথেষ্ট যে ভিসির ছেলে এবং স্বামী কতটুকু জড়িত। সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের ফোন কল বের করে দেখুক তাহলেই সব প্রমাণ পেয়ে যাবে। আমরা কোনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতে চাই না। সব দুর্নীতির বিচার চাই। শিডিউল ছিনতাইয়ের বিষয়ে বলেন, ভিসির ছেলের মদতে প্রকল্পের শিডিউল ছিনতাই করা হয়েছে। বরং আমরা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ঘোষণা দিয়ে শিডিউল ড্রপ ওপেন করেছি। টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, ফাঁস হওয়া ফোনালাপে স্পষ্ট যে জাবি শাখা ছাত্রলীগকে ‘ঈদ সালামি’ হিসেবে ১ কোটি টাকা দিয়েছেন ভিসি ড. ফারজানা ইসলাম। প্রকল্পের টাকা থেকে শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি টাকা চাঁদা দেওয়া হয়েছে। এর এ দুর্নীতির সঙ্গে ভিসিপুত্র, স্বামী, ব্যক্তিগত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক জড়িত। তবে সব সময় নিজে ও পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভিসির ছেলে প্রতীক তাজদীক হোসেন ও স্বামী আখতার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। 
এ বিষয়ে জাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সোহেল রানা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য টাকা এনে এভাবে ভাগবাটোয়ারা করা খুবই অনৈতিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার জন্য বিব্রতকর। এ ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি শিক্ষক সমিতি থেকে তাদের উদ্বেগের কথা জানান।