আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-১০-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর ভাঙন অব্যাহত

বাড়িঘর ও ফসলি জমি বিলীন

উদয় দাস, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
| দেশ

বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে রাজবাড়ীতে পদ্মার ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ ষ আলোকিত বাংলাদেশ

রাজবাড়ী জেলার পাংশা, কালুখালী, সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলা পদ্মা নদী ঘেঁষে অবস্থিত। তাই পাংশা থেকে গোয়ালন্দ উপজেলা পর্যন্ত একাধিক জায়গায় পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে। শহররক্ষা বাঁধ নদী ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। পদ্মা নদীর ভাঙন চলমান থাকায় দৌলতদিয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকা সিদ্দিক কাজী পাড়া, সাত্তার মেম্বার পাড়া, নতুন পাড়া, নহারী মন্ডল পাড়া, আফসার শেখের পাড়া, ঢল্লাপাড়া, ১নং বেপারি পাড়া এবং দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়ানি, বেথুরী এলাকায় প্রায় সহস্রাধিক পরিবারের বাড়িঘর ও শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও কবরস্থান। দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্য চাম্পা আক্তার বলেন, নদীভাঙনে এবার আমার বাড়িসহ আমাদের পরিবারের সবার বাড়িও চলে গেছে। এলাকার আরও অনেকের বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সরেজমিন ঘুরে এবং ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ নৌরুটে নিয়মিত ১৮টি ফেরি ও ৩৪টি লঞ্চ চলাচল করে। দৌলতদিয়া পারে ৬টি ফেরি ঘাট ও একটি লঞ্চ ঘাট রয়েছে। এদিকে চলতি অক্টোবর মাসের ১ তারিখ থেকে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং নদীভাঙন ও স্রোতের কারণে নৌযান চলাচল কঠিন হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনা এড়াতে ৩ অক্টোবর থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। এদিকে পদ্মা নদীর ভাঙনে ১ ও ২নং ফেরিঘাট বিলীন হয়ে যায়। স্রোতের দাপটে ৩ ও ৪নং ঘাটে ফেরি ভিড়তে পারছে না। ৫ ও ৬নং ফেরি ঘাট ও ৫টি রো রো (বড়) ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। ফেরি সংকটে পড়ে দৌলতদিয়া ঘাট এবং ১২ কিমি. দূরে গোয়ালন্দ মোড়ে ৫ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ রনি বলেন, দৌলতদিয়ায় দুটি ফেরিঘাট সচল রয়েছে। পাঁচটি রো রো ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তবে স্রোতের প্রচ-তায় ফেরি পারাপারে দ্বিগুণ সময় ব্যয় হচ্ছে। রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম শেখ বলেন, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ, সদর, কালুখালী ও পাংশা উপজেলার একাধিক জায়গায় নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এর মধ্যে দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট রক্ষায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ আরিচা বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন পাঠান বলেন, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার ৪ ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ২ কিমি. নদী শাসনের কাজ পাস হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, নদীতে প্রচ- স্রোত থাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শহররক্ষা বাঁধ, দৌলতদিয়া লঞ্চ এবং ফেরিঘাট এলাকায় জরুরিভাবে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধ করতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলছে। নির্ভরযোগ্য ঘাট করার জন্য স্থায়ীভাবে নদী শাসন করার কাজ দ্রুত শুরু হবে। ভাঙনকবলিতদের নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের সব ধরনের সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবে। কাজী কেরামত আলী এমপি বলেন, নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে কাজ করছে। গোয়ালন্দ উপজেলাকে রক্ষা করার জন্য শুকনো মৌসুমে স্থায়ীভাবে নদী শাসন করতে হবে।