আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-১০-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

‘দেশবিরোধী’ চুক্তি ও আবরার হত্যার প্রতিবাদ বিএনপির দুই দিনের সমাবেশ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
| খবর

 

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে স্বাক্ষরিত ‘দেশবিরোধী’ চুক্তি বাতিল এবং এ চুক্তির বিরোধিতার কারণে বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে দুই দিনের সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ সব মহানগরে ও পরের দিন রোববার সারা দেশের জেলা সদরে এ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। 
এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এবং বর্তমান সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ দেশপ্রেমিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। 
তিনি বলেন, ইতিহাসের অমোঘ সত্য এই যে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জয় অবশ্যম্ভাবী।
অসম চুক্তি বাতিল চাই : সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মোশাররফ বলেন, তারাও নিকট প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সমতাভিত্তিক সুসম্পর্ক চান। কিন্তু এ সরকার যা করছে, তাতে দেওয়া-নেওয়ার বিষয় নেই- আছে শুধু দেওয়ার। দেশের স্বার্থ হানিকরÑ এমন অসম চুক্তির অধিকার জনগণ এ সরকারকে দেয়নি। কাজেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফরের সময়ে স্বাক্ষরিত সব চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই এবং দেশের ও দেশের স্বার্থহানিকর সব চুক্তি বাতিল চাই। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, সমালোচনায় ভীত সরকার তার দলীয় লাঠিয়ালদের দিয়ে ফেইসবুকে প্রতিবাদী পোস্ট দেওয়ার জন্য বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে খুন করেছে। কিন্তু এই নৃশংস হত্যাকা- আন্দোলনের আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে মাত্র।
সচিবের বক্তব্য দেশের স্বার্থের বিপক্ষে : ত্রিপুরার সাবরুম শহরকে ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহারের সুযোগ দেওয়া নিয়ে মন্তব্যের জন্য পররাষ্ট্র সচিবের মন্তব্যের সমালোচনা করেন খন্দকার মোশাররফ।
তিনি বলেন, বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, এ পানি না দিলে সাবরুম শহর কারবালা হয়ে যেত। কারবালা কারোরই কাম্য নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের তো প্রথমে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ দেখার কথা। ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশ বিস্তীর্ণ অঞ্চল খরাক্রান্ত হওয়ায় লাখ লাখ মানুষের আহাজারি তাকে স্পর্শ করেনি, তিস্তার পানি ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলের মরুকরণ ও লাখো মানুষের আর্তনাদ তার কানে পৌঁছায় না।
অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।