আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-১০-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

দশ বছর পর দেশে বেকার থাকবে না চৌদ্দগ্রামে অর্থমন্ত্রী

কুমিল্লা প্রতিনিধি
| শেষ পাতা

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি বলেছেন, আগামী ১০ বছর হবে বাংলাদেশের জন্য সোনালী যুদ্ধের সময়। এ সময়ের মধ্যে ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তখন এ দেশে আর কোনো বেকার থাকবে না। তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ সোনালী যুদ্ধে সবাইকে অবতীর্ণ হতে হবে। আমরা ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, আর সোনালী যুদ্ধের মাধ্যমে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক মুক্তি আনা হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার এলাকায় হোটেল ফুড প্যালেস মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের উন্নত ২০টি দেশের কাতারে ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদেরকে পৌঁছাতে হবে। এজন্য দেশকে ভালবেসে দেশের প্রতি মমতা রেখে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় বাংলাদেশকে রূপান্তরের টার্গেট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যমুক্ত করে বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে পৌঁছানো হবে। আর এর মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে। এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রধান যোগানদাতা হলো ছাত্রলীগ। তিনি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও মহিলা লীগ নেতাদের অনুরোধ করে বলেন, কর্মী রিক্র্যুট করার সময় দেখে করবেন। কোনো ডাকাত, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদকসেবীদের দলে প্রয়োজন নেই। সৎভাবে রাজনীতি করলে মানুষ অন্তর থেকে শ্রদ্ধা সম্মান করবে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় এমপি ও সাবেক রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেন, চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের অত্যাচারে একসময় আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল। আমরা সাহস হারাইনি। জনগণের সাথে ছিলাম বলে জনগণ আমাদের আবার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, রাজনীতির পথ অনেক লম্বা। ধৈর্য হারালে চলবে না। মন-প্রাণ ও দরদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করলে দল অনেক কিছু দেয়, তাকে মূল্যায়ন করে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মনে-প্রাণে ধারণ করে তৃণমূলের রাজনীতি করে বর্তমান অবস্থানে এসেছি। যারা পদ-পদবি পাবেন তারা দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করবেন, আর যারা পাবেন না তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই- ভবিষ্যতে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। সম্মেলনে আগামী তিন বছরের জন্য সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুস সোবহান ভূঁইয়া হাছানকে সভাপতি ও রহমত উল্লাহ বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সোবহান ভূঁইয়া হাসানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী ইলিয়াস মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন স্বপন, চৌদ্দগ্রাম পৌর মেয়র মিজানুর রহমান, জিএম মীর হোসেন মিরু, ভ ম আফতাবুল ইসলাম, শাহজালাল মজুমদারসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।