আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১১-১০-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

২০২২ বিশ্বকাপ বাছাই হারলেও মন ভরিয়েছেন জামালরা

শফিক কলিম
| প্রথম পাতা

এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কাতার, ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজক, বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬২ নম্বরে; গত ১০ মাসে এশিয়ার কোনো দেশের কাছে হারেনি, ১০ ম্যাচে গোল করেছে ২৫টি, খেয়েছে একটি; এর মধ্যে কোপা আমেরিকাও খেলেছে। মাত্র চারটি দল তাদের গোল দিতে পারেনিÑ আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কলম্বিয়ার পর ভারত! ১০ সেপ্টেম্বর দোহায় সে ম্যাচটি ‘মিরাকল’ই। বাংলাদেশ? এ বছর ৬ ম্যাচ খেলে

মাত্র একটায় হেরেছেন জামালরা। র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও কাতারের বিপক্ষে গতকাল গোটা দ্বিতীয়ার্ধে আধিপত্য করেছে বাংলাদেশ! ৯০ মিনিট শেষে ফল, কাতার ২, বাংলাদেশ ০! প্রথমটা ৪২ মিনিটে, দ্বিতীয়টা যোগ হওয়া সময়ে। তবে পরের ৪৫ মিনিটে চারবার গোল করার মতো সুযোগও তৈরি করেছিল জেমি ডে শিষ্যরা। হারলেও  পাঁচদিন পর ভারতের বিপক্ষে কলকাতায় ভালো খেলার রসদ পেয়ে গেলেন জামাল-ইয়াসিন-বিপলুরা।
গোলটা প্রথমার্ধেই শোধ হয়ে যেতে পারত; দুর্ভাগা স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন ও বিপলু আহমেদ, দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের। সেটি ছিল ম্যাচে স্বাগতিকদের তৃতীয় কর্নার, তখন পর্যন্ত কাতার পেয়েছিল দুটি! জামাল ভুঁইয়ার কর্নারের বল সেভ করেন ডিফেন্ডার আবদেল করিম, তবে বল বক্সের ভেতরেই ঘুরছিল। জটলায় দাঁড়িয়ে পোস্টে শট নেন জীবন, গোললাইন থেকে শুয়েপড়ে ঠেকান মুসাব খিদির। ফিরতি বল বিপলুর নেওয়া শট গোললাইন থেকে ঠেকান আবদেল করিম। বিপদ কাটায় হাসি কাতারিদের মুখে। হতাশায় মাথায় হাত জীবন-বিপলুর।
অতীত রেকর্ড, বিশ্ব ফুটবলের র‌্যাঙ্কি, শক্তি-সামর্থ্য, স্কিল, টেকনিক, ট্যাকটিসÑ সব কিছুতেই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে কাতার; এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন তারা। যে কারণে প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের বিপক্ষে ড্রিবলিং করে বেরিয়ে যেতে পারেননি। ঘরের মাঠ হলেও এমন দলের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক খেলা যাবে না, আগেই বলে রেখেছিলেন স্বাগতিক দলের কোচ জেমি ডে। জীবনকে সামনে রেখে সোহেল রানা-বিপলু-ইব্রাহিম-সাদ উদ্দিনকে খেলানো হয়েছে মধ্যমাঠে। রায়হান হাসান-ইয়াসিন খান-রিয়াদুল হাসান-রহমত মিয়ার ঠিক উপরে ভারি মাঠেও পরিশ্রমী ফুটবল খেলেছেন অধিনায়ক জামাল; রক্ষণ সামলানো থেকে আক্রমণে ওঠাÑ সর্বত্র বিচরণ ছিল তার। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জে বারবার জিতেছেন তিনি, ম্যাচেরই নায়ক।
তবে প্রথমার্ধে যেভাবে শুরু করেছিল বাংলাদেশ, ছন্দ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি জামালরা। বরং ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিয়ে স্বাগতিকদের ওপর চাপ বাড়ায় কাতারিরা, অবশ্য স্বাগতিক গোলমুখে সেভাবে শট নিতে পারেননি। ২০২২ বিশ্বকাপ স্বাগতিকদের আক্রমণগুলো গড়ে উঠছিল দুই প্রান্ত দিয়ে, ডানে ইউসুফ আবদুরিসাগ ও বামে হাসান আল আইদস। স্বাগতিক ডেঞ্জার জোনে বারবার বল ভাসিয়েছেন তারা। রক্ষণ দেয়াল, কিংবা গোলরক্ষক আশরাফুল রানার হাতে গেছে। ৯০ মিনিটে শুধু গোলটা ছাড়া কঠিন কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি রানাকে!
গোলের দায় অবশ্য গোলরক্ষকের না, রক্ষণের দেওয়া যেতে পারে। তবে কৃতিত্বটা গোলদাতা আবদুরিসাগের; ঠিক পেনাল্টি স্পটের উপর জটলা থেকে বল পেছনে ঠেলে দেন আলমোয়েজ আবদুল্লাহ। গোলরক্ষককে প্রথম পোস্টে দেখে আবদুরিসাগ বাঁকানো শটে দূরের পোস্টে পাঠান। অবিশ্বাস্য হলেও এই গোলটা ছাড়া  বাংলাদেশ পোস্টে আর ভালো আক্রমণই নেই!
দ্বিতীয়ার্ধের গল্প স্বাগতিকদের! জীবন, বিপলু, ইব্রাহিম, ইয়াসিন, বদলি সুফিল, জামাল পুড়েছেন গোল না পাওয়ার বঞ্চনায়। পা ছোঁয়াতে পারেননি জীবন, বিপলু ও ইব্রাহিমের শট পোস্ট ঘেষে বাইরে গেছে, ইয়াসিনের হেড ও বিপলুর শটের বল গোলরক্ষক রুখেছেন, সুফিলের দুর্বল হেডের বল গেছে গোলরক্ষকের হাতে।    
অবশ্য সবাই যখন শেষ বাঁশির ক্ষণ গুনছিল, তখনই ২-০ করা গোল। যোগ হওয়া সময় প্রতি আক্রমণে বল বাংলাদেশের ছোট বক্সের ঠিক ওপরে ঘোরাঘুরি করছিল। এর মধ্যেই ফাঁকায় দাঁড়িয়ে পোস্টে ঠেলে দেন করিম বাউদিয়াফ। অবশ্য টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা গেছে তিনিসহ আরও দুই ফুটবলার অফসাইডে ছিলেন।
ঘরের ছেলেদের হার দেখলেও খেলায় মুগ্ধ দর্শকরা। প্রায় ২৫ হাজার দর্শক ঘরে ফিরেছেন উপভোগ্য ফুটবল খেলা দেখে, পয়সা উসুলই। ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপে শীর্ষে কাতার; ২ ম্যাচে এখনও জয় কি গোলেরও দেখা পায়নি বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ন্যূনতম ব্যবধানে হেরেছিল আফগানিস্তানের কাছে।