আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-১২-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

বড়াইগ্রামে বিনা চাষে রসুন রোপণে ব্যস্ত কৃষক

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
| দেশ

নাটোরের বড়াইগ্রামের রয়না বিলে বিনা চাষে রসুন বীজ বপন করছেন নারী শ্রমিক- আলোকিত বাংলাদেশ

গেল মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ায় বড়াইগ্রামের চাষিরা নিজেদের উদ্ভাবিত বিনা চাষে রসুন আবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কৃষক বর্তমানে উপজেলার মাঠে মাঠে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে রসুন চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এদিকে, ব্যাপক হারে রসুন বোনার ধুম পড়ায় শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে উপজেলার রয়না ভরট হাটে প্রতিদিন সকালে নাটোরসহ পাশর্^বর্তী পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে আসা শ্রমিকের হাট বসছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গেল বছর উপজেলায় ৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছিল। তবে এবার ১১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গতবারের চেয়ে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর বেশি। দোআঁশ ও এঁটেল দোআঁশ মাটি রসুন চাষের জন্য বেশি উপযোগী হওয়ায় এ উপজেলায় বরাবরই সর্বাধিক জমিতে রসুন চাষ হয়। গেল মৌসুমে প্রতি মণ রসুন তিন হাজার থেকে সর্বোচ্চ আট হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বাদে কৃষক  আর্থিকভাবে যথেষ্ট লাভবান হয়েছেন। তাই এবারও চাষি ব্যাপক হারে রসুন আবাদে ঝুঁকেছেন। কৃষক জানান, এ পদ্ধতিতে রসুন আবাদে জমি চাষ করতে হয় না। সাধারণত কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে বর্ষার পানি নেমে গেলে ধান কাটার পর নরম জমিতে বিনা চাষে রসুনের কোয়া লাগানো হয়। এ পদ্ধতিতে আগাছা কম জন্মে এবং সার কম লাগে। এছাড়া ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, রোগবালাই দমন ও অন্যান্য পরিচর্যা স্বাভাবিক রসুনের মতোই। এ পদ্ধতিতে ফলন বেশি হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ২০-২৫ মণ হারে রসুন পাওয়া যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল আহমেদ বলেন, গেল মৌসুমে রসুনের ভালো দাম থাকায় উপজেলার রসুন চাষি বেশ লাভবান হয়েছেন। এবারও সবাই রসুন চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।