আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-১২-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

পাঁচ জেলা ও দুই উপজেলামুক্ত দিবস আজ

বরিশাল পিরোজপুর নোয়াখালী চুয়াডাঙ্গা সাতক্ষীরা ভালুকা ও লোহাগড়া

আলোকিত ডেস্ক
| দেশ

সাতক্ষীরামুক্ত দিবস উপলক্ষে শনিবার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে বিজয় মিছিল- আলোকিত বাংলাদেশ

নানা আয়োজনে যথাযথ মর্যাদায় শনিবার পালিত হয়েছে বরিশাল, পিরোজপুর, নোয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, ভালুকা ও লোহাগড়া হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিসেনারা পাকিস্তানি বাহিনীদের হটিয়ে বাংলার মাটিতে প্রথম উড়িয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। এছাড়া আজ ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুরমুক্ত দিবস। ’৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর কবল থেকে পিরোজপুর মুক্ত হয়। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
বরিশাল : আজ ৮ ডিসেম্বর বরিশাল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এদিনে পাক হানাদারদের কবল থেকে বরিশাল মুক্ত হয়েছিল। ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিয়ে সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা আকাশ-বাতাস মুখরিত করেছিল। এ উপলক্ষে বরিশালে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
নোয়াখালী : আজ ৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিসেনারা জেলা শহর মাইজদী পিটিআইতে রাজাকারদের প্রধান ঘাঁটির পতন ঘটিয়ে মুক্ত করেন নোয়াখালী। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের উদ্যোগে র‌্যালি, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
চুয়াডাঙ্গা : দিবসটি উপলক্ষে শনিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছার ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 
সাতক্ষীরা : দিবসটি উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। পরে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার এসএম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশারফ হোসেন মশু, সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মীর মাহমুদ হাসান লাকী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদুর রহমান প্রমুখ। 
পিরোজপুর : আজ ৮ ডিসেম্বর পিরোজপুরমুক্ত দিবস। ’৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদারদের কবল থেকে পিরোজপুর স্বাধীনতা লাভ করে। মুক্ত দিবস উপলক্ষে পিরোজপুরমুক্ত দিবস উদযাপন পরিষদের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আনন্দ শোভাযাত্রা, স্বাধীনতা মঞ্চের উদ্বোধন, গণসংগীত পরিবেশন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।
ভালুকা : আজ ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ এর এই দিনে আফসার বাহিনীর আক্রমণে পাক ও রাজাকার বাহিনী ভালুকা ঘাঁটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। ফলে এ  দিনটিকে ভালুকার মুক্তিকামী জনতা ভালুকামুক্ত দিবস হিসেবে উদযাপন করে আসছে। ’৭১ এর ৭ ডিসেম্বর মধ্যরাতে আফসার বাহিনীর অধিনায়ক মেজর আফসার উদ্দিন আহমেদের ভালুকা সদরে পাক ও রাজাকার বাহিনীর ঘাঁটির তিন দিক থেকে প্রচ- আক্রমণ শুরু করলে পাক সেনারা এক পর্যায়ে ভালুকা ঘাঁটি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা ভালুকা থানা প্রাঙ্গণে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। 
লোহাগড়া : আজ ৮ ডিসেম্বর নড়াইলের লোহাগড়ামুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ  দিনে লোহাগড়ার মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে লোহাগড়া থানাকে পাক হানাদারমুক্ত করেন। লোহাগড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে লোহাগড়া ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের অধীন। নভেম্বরের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা সমগ্র উত্তরাঞ্চল শত্রুমুক্ত করেন। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশ দ্বার লক্ষ্মীপাশায় অবস্থিত থানা আক্রমণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেন। ৮ ডিসেম্বর তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ ইউনুস আলী, মুজিব বাহিনীর প্রধান সাবেক এমপি শরীফ খসরুজ্জামান, আবুল হোসেন খোকন, কবির হোসেন ও শেখ আঃ রউফের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গেরিলা কায়দায় পশ্চিম দিক দিয়ে থানা আক্রমণ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পরিকল্পিত আক্রমণে হতচকিত হয়ে পাকবাহিনীর রেঞ্জার সদস্যরা। এ সময় থানায় অবস্থানরত রেঞ্জার বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলে থানার পূর্ব দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধা ও পাক বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ। বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রউফ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে লোহাগড়ায় ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।