আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৮-১২-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

কালিয়াকৈরে স্বস্তির সেই ব্রিজেই এখন অস্বস্তি

সাগর আহম্মেদ, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)
| দেশ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু- আলোকিত বাংলাদেশ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক সময়ের স্বস্তির সেই ব্রিজটি এখন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরু, জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ দিয়ে ছোট ছোট যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলারও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের সাধারণ মানুষ। অতি দ্রুত নতুন করে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ করার দাবি এসব এলাকার মানুষের। এলাকাবাসী ও উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াকৈর-বাঁশতলী প্রায় ৭ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক। এটি বহু বছরের পুরোনো একটি সড়ক। এই ব্রিজ দিয়ে অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ চলাচল করে আসছে। পুরো বর্ষায় এ সড়কটি অচল থাকলে শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে পায়ে হেঁটে চলাচল করত এসব গ্রামের মানুষ। কিন্তু এ সড়কের মুখে কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় তুরাগ নদী শাখা ঘাটাখালী নদী হওয়ায় নৌকায় করে পারাপার করতে হতো। কখনও কখনও ঘটত ছোট-বড় দুর্ঘটনা। জনদুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে ২০০০ সালে সেখানে ওই নদীর ওপর ৬৬ ফুট দীর্ঘ একটি ফুটব্রিজ নির্মাণ করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। সর্বশেষ বছর দুয়েক আগে প্রায় ১৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়। অথচ সড়কের মুখে ঘাটাখালী নদীর ওপর সরু, জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত সেই ফুটব্রিজই রয়ে গেছে। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২৪ ফুট প্রস্থের নতুন সড়কের দুই পাশে সবুজের সমারোহ ও আলোকবাতিসহ বিভিন্নরূপে সেজেছে। সড়ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিদ্যুতের সাবস্টেশন, বহুতল ভবন, চিত্র-বিনোদনের জন্য জলকুটিরসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে ঘটেছে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নও। অথচ সড়কের মুখে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২০ বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেই সরু ব্রিজটি। এক সময়ের স্বস্তির সেই ব্রিজটি  এখন অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিজটির কোথাও কোথাও ভেঙে পড়ছে। ব্রিজের একপাশে একটি রিকশা বা ভ্যান উঠলে অপর পাশের রিকশা-ভ্যানগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এমনকি রিকশা ব্রিজে উঠলে সাধারণ জনগণও চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বছর দুয়েক আগে এক বর্ষায় বালুবাহী একটি ট্রলারের ওই ব্রিজের মাঝের অংশে প্রায় এক ফুট সরেও গেছে। যার কারণে বিভিন্ন যানবাহন প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করে। স্থানীয় বিপুল রায়হান বলেন, প্রায় ২ বছর আগে বর্ষার মৌসুমে বালুবাহী একটি ট্রলারের ধাক্কায় ফুটব্রিজের মাঝখানের অংশে প্রায় এক ফুট সরেও গেছে। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এই জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজের কারণে কালিয়াকৈর-বাঁশতলী যে নতুন সড়ক সেটা তেমন কাজে আসছে না। ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া বলেন, এ ব্রিজে এক সঙ্গে দুটি রিকশা চলতে পারে না, অপর পাশে একটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাহলে গাড়ি কীভাবে যাবে এখন একটি মাত্র নতুন ব্রিজের অভাবে অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষের যেন দুর্ভোগের শেষ নেই। ওই নতুন সড়ক পেয়ে আনন্দিত কালিয়াকৈর বাজার এলাকার লাবনী ফার্মেসির মালিক লাবিব হোসেন। তিনি বলেন, নতুন সড়ক হওয়ায় এলাকায় উন্নয়নের ছুয়া গেছে। এরই মধ্যে জমির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই ধরনের কথা বললেন স্থানীয় মজিদ মিয়া, রিকশাচালক নুরু মিয়াসহ আরও অনেকেই। অতি তাড়াতাড়ি নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি গ্রামবাসীর। এখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণ হলে এলাকায় আরও উন্নয়নের বিকাশ ঘটবে বলেও জানান তারা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী সরকার সাজ্জাদ কবীর জানান, কালিয়াকৈর-বাঁশতলী সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু সড়কের মুখে কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় ৬০০ মিটারের একটি পুরাতন ব্রিজ যান চলাচলের উপযোগী নয়। এখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য সাপোর্টিং রোরালা ব্রিজ প্রকল্প থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সার্ভে কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে, ডোন সার্ভে করার পর এখন ব্রিজের ডিজাইনের কাজ চলছে।