আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০১-২০২০ তারিখে পত্রিকা

প্লাস্টিক দূষণ

তরুণদের সচেতন হতে হবে

| সম্পাদকীয়

দূষণের সর্বগ্রাসী বিস্তারে আমাদের পরিবেশ বিপর্যস্ত। এতে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ। ইদানীং প্লাস্টিক ব্যবহারের ব্যাপক প্রচলনের ফলে প্লাস্টিক দূষণ নতুন উপসর্গ হয়ে নানা সমস্যার সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক পরিবেশকে রীতিমতো রোগাক্রান্ত করে তুলছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীনালা, জলাশয় ও মাটি। মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনকে করে তুলছে শঙ্কাগ্রস্ত। প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ে এক গবেষণায় দেখা যায়, তরুণ ও যুব জনগোষ্ঠী একবার ব্যবহার করা হয় এমন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক পণ্য বেশি ব্যবহার করে। বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের গবেষণা জরিপে প্রকাশ, বাংলাদেশে যত সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার হয়, তার ৩৫ শতাংশ ব্যবহার করে ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সি জনগোষ্ঠী, আর এ ধরনের প্লাস্টিকের ৩৩ শতাংশ ব্যবহার করে ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সিরা। অর্থাৎ বাংলাদেশে তরুণ এবং যুবকরাই সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী, কারণ মোট সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ৬৮ শতাংশ ব্যবহার করছে এ জনগোষ্ঠী। এ অবস্থায় প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক নিয়ে তরুণদের আরও সচেতন হওয়ার বিষয়টি আমলে আনা উচিত। 
প্লাস্টিক বর্তমানে আমাদের জীবনশৈলীর সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে, সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের জীবনে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার ব্যাপক। দিনে প্রতিটি খাবার এবং জীবনযাত্রায় প্লাস্টিক পণ্য এখন অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, আবর্জনার মধ্যে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের পরিমাণ ছিল মাত্র তিন শতাংশ। অথচ ২০১৯ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ শতাংশে। দেশীয় সংস্কৃতিতে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পাশাপাশি ফাস্টফুড জাতীয় খাবারের প্রসার ঘটছে, আর এসবের বড় ভোক্তা তরুণ-তরুণীরা। ফলে পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণের বড় দায় তাদের ওপর এসে বর্তায়। আবার আবাসিক হোটেল থেকে আসছে ব্যাপক প্লাস্টিক বর্জ্য, যেমনÑ শ্যাম্পুর বোতল ও মিনিপ্যাক, কন্ডিশনার প্যাকেট, টুথপেস্ট টিউব, প্লাস্টিক টুথব্রাশ, টি-ব্যাগ এবং বিভিন্ন খাবারের প্যাকেট। এয়ারলাইন্স থেকে আসে প্লাস্টিকের চামচ, স্ট্র, প্লেট, কাপ, গ্লাস এবং আরও নানা ধরনের প্লাস্টিকের মোড়ক।
প্লাস্টিক যেহেতু পচনশীল নয়, তাই ব্যবহারের পর যেসব প্লাস্টিক পণ্য ফেলে দেওয়া হয়, তার অধিকাংশই যুগের পর যুগ একইভাবে পরিবেশে টিকে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এক গবেষণায় বলেছে, মুদি দোকান থেকে কেনা পণ্য বহন করার জন্য যেসব ব্যাগ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো প্রকৃতিতে মিশে যেতে ২০ বছর সময় লাগে। চা, কফি, জুস কিংবা কোমল পানীয়ের জন্য যেসব প্লাস্টিকের কাপ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো ৫০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। আর ডায়াপার এবং প্লাস্টিক বোতল ৪৫০ বছর পর্যন্ত পচে না। এগুলো টিকে থাকা মানে পরিবেশের স্বাভাবিকত্ব নষ্ট করা। আরেকটি তথ্য হলো, প্লাস্টিক দূষণে বিশ্বের মধ্যে দশম বাংলাদেশ। তাই বলতে হবে প্লাস্টিক দূষণ আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই দূষণ থেকে এখনই পরিত্রাণের ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বেঁচে থাকাই দুরূহ হয়ে পড়বে। তাই এখনই সময় সবাই মিলে প্লাস্টিকদূষণ রোধ করা। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ-তরুণীদের অবশ্যই অগ্রকাতারে থাকতে হবে। হ