আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০১-২০২০ তারিখে পত্রিকা

ইরান ইস্যুতে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য

| সম্পাদকীয়

রায়হান আহমেদ তপাদার লেখক ও কলামিস্ট [email protected]

ইরানের মিত্ররা এখন ইরাকে বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টা সামনে নিয়ে আসবে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিদ্যমান জোট থেকে বের হয়ে এসে ইরাকে থাকা আমেরিকান সৈন্য সরিয়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে ইরানি সমর্থক ইরাকিরা। এটা ইরাককে সিরিয়া ও লেবাননের পাশাপাশি ইরানের শিবিরকে আরও শক্তিশালী করবে, যেমনটা জেনারেল সোলাইমানির লক্ষ্য ছিল। অন্যদিকে সিরিয়া এবং ইরাকে থাকা আমেরিকান সৈন্যরা প্রতিশোধমূলক ইরানিদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হতে পারে

ইরাকের বাগদাদে আমেরিকার হামলায় ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর জেনারেল বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর এলিট কুদস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানিসহ পাঁচজন নিহত হন। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তার গাড়িবহরকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। দুটি আমেরিকান এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন দিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়ের ফাঁস হওয়া আইনি নথিতে দেখা যায়, উপস্থিতি অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে হোয়াইট হাউস সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যার নির্দেশ দিতে পারে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে গাড়িবহর বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যাকাণ্ড নিয়ে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়া এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্সও।
বিশ্ব রাজনীতির মোড়লরা মাঝেমধ্যে এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করে বসেন, যা বিশ্বশান্তির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তারা ভালো করেই জানেন, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে মোড়লের কোনো কাজ থাকবে না। ৩ জানুয়ারি শুক্রবার তেমন এক কর্ম করে বসলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সব ধরনের আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার, নিয়ম-রীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সন্ত্রাসী কায়দায় হত্যা করেছেন ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে। শতাব্দীকাল ধরে অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে এ বর্বর হামলা জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে কোটি কোটি ব্যারেল পেট্রল ঢেলে দেওয়ার মতো ঘটনা। আমেরিকা অস্বাভাবিক-আচমকা হামলা চালিয়ে একজন শীর্ষ জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করায় ইরানে এর প্রতিক্রিয়া হয়েছে অত্যন্ত প্রবল ও ব্যাপক।
এ আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ড বিশ্ববাসীকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে এ কারণে যে, দেশ দুটির মধ্যে এমনিতেই প্রক্সিযুদ্ধ চলে আসছে মূলত ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই। দীর্ঘ এ সময়কালের বৈরিতার মধ্যে দেশ দুটি সামনাসামনি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ারও অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল; তবে সেটা হয়নি যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য, প্রক্সিযুদ্ধ থামেনি কখনও। এরূপ এক বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান থাকা অবস্থায় শীর্ষস্থানীয় জেনারেলকে হত্যা করার ঘটনা ইরান বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে এবং তাই যদি হয়, সে ক্ষেত্রে তার পরিণতি সম্মুখ কনভেনশনাল যুদ্ধের দিকে ধাবিত হবেÑ যার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড ইরানের ওপর কী বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করেছে এবং ইরানিরা সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডকে কীভাবে দেখছে বা মূল্যায়ন করছে, তা অনুধাবন করা যায় ইরানি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি, যাকে ইরানের শীর্ষ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে সরকারিভাবে, সেই শীর্ষনেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড আমার ওপর আক্রমণ।’
আয়াতুল্লাহ খামেনির এরূপ মন্তব্যের মধ্যে সোলাইমানির গুরুত্ব ইরানে কতটুকু, সেটা প্রকাশিত হয়েছে। আবার এটাও অনুমিত হয়েছে, ইরান কী পরিমাণ গুরুত্ব দিয়ে সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড গ্রহণ করেছে। ইরান-আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদে চলে আসা সংঘাতপূর্ণ অবস্থা বিরাজমান থাকাবস্থায় আমেরিকান সশস্ত্র বিমান হামলায় নিহত ইরানি এলিট ফোর্স আল কুদস কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি, যাকে ইরানের শীর্ষনেতা খামেনির পরই শক্তিশালী নেতা হিসেবে ইরানে গণ্য করা হয়ে থাকে, সেই শক্তিমান জেনারেলকে হত্যা করে আমেরিকা যেমন ন্যক্কারজনক, অমানবিক ও আন্তর্জাতিক নীতিনৈতিকতার পরিপন্থি কাজ করেছে, তেমনি এর মধ্য দিয়ে উভয় দেশের চলমান বৈরিতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
ইরানের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড মানে শীর্ষনেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির ওপর আক্রমণÑ এ ধরনের মন্তব্যের মধ্য দিয়ে এ অনুভূতিই প্রকাশিত হয়েছে যে, এ ধরনের আক্রমণ এবং হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আমেরিকা ইরানের জাতীয় মর্যাদার ওপর আঘাত করেছে, ফলে ইরানের রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। আমেরিকানদের এরূপ আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ইরানের শক্তিমত্তা ও সশস্ত্র বাহিনী এবং এলিট ফোর্সের শক্তি সামর্থ্যরে বিষয়টাকে প্রশ্নের মুখে, সন্দেহের দিকে ঠেলে দিয়েছে; ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টা হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তাই ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা, এলিট ফোর্স ও সশস্ত্র বাহিনী এবং সামরিক শক্তির বিষয়টি গুরুত্বহীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের এতদিনকার কথাবার্তা, হুমকি-ধমকি বাগাড়ম্বরপূর্ণ মনে হতে পারে বিশ্ব পরিমণ্ডলে।
সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলে ইরানের বন্ধুরাষ্ট্র ও শত্রুরাষ্ট্র, সবার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বন্ধুরাষ্ট্রের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান এবং এগুলো ইরানের শক্তিমত্তা সম্পর্কে আস্থাশীল। অন্যদিকে ইরানের বৈরী রাষ্ট্রগুলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা পোষণ করছে। সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড ইরানের সামরিক শক্তিমত্তা সম্পর্কে এক নতুন অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। যদি ইরান অত্যন্ত তীব্রতার সঙ্গে আমেরিকান আক্রমণের জবাব দিতে পারে, সেক্ষেত্রে ইরানের বন্ধুরাষ্ট্রগুলোকে আশ্বস্ত করতে পারে; পক্ষান্তরে শত্রু রাষ্ট্রগুলো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের একক প্রভাব কায়েম হবে এবং যদি সেটা করতে ইরান সক্ষম হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব শূন্যের কোঠায় নেমে আসার সম্ভাবনা ও আশঙ্কা বিদ্যমান রয়েছে।
এসব বিষয় বিবেচনায় ইরানের জন্য আমেরিকান আক্রমণ ও শীর্ষ জেনারেলকে হত্যাকাণ্ড ইরানের জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাব-প্রতিপত্তি সম্পর্কে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মধ্যে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইরানিদের কাছে কাসেম সোলাইমানি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, সেটাও আলোচনায় এসেছে বিশ্বপরিমণ্ডলে। এর জবাব হলোÑ সোলাইমানিকে মনে করা হয় ইরানের দ্বিতীয় শীর্ষনেতা, প্রধান শীর্ষনেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির পরই তার স্থান। তিনি ইরানের, এমনকি বিশ্ব পরিমণ্ডলে আর মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিমান হিসেবে গণ্য ইরানের মর্যাদাবান এলিট ফোর্স আল কুদস বাহিনীর প্রধান কমান্ডার। এ ফোর্সের প্রধান হিসেবে ইরানের শীর্ষনেতা খামেনির কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ থেকে তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ইরানের সরকার, সশস্ত্র বাহিনী বা অন্য কারও কাছে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে তিনি জবাবদিহি বা দায়বদ্ধ নয়। এর থেকেই সোলাইমানির গুরুত্ব ও মর্যাদার বিষয়টি পরিমাপ করা যায়। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিকবিষয়ক বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন চ্যাথাম হাউসের গবেষণা সহযোগী রেনাদ মনসুরের মতে, ‘ইরাকি ভূমি থেকে আমেরিকান সেনাদের বহিষ্কার করা সম্ভবত তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।’ ‘আমি মনে করি, কোনো ইরাকি সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষে আমেরিকান সেনা রাখার দাবি করাটা কঠিন হবে’, বলেন মনসুর। উল্লেখ্য, ইরাকে এখন ৫ হাজার ২০০ আমেরিকান সৈন্য রয়েছে। সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের ফলে ইরাকে ইরান সমর্থিত শক্তি ও রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
ইরানের মিত্ররা এখন ইরাকে বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টা সামনে নিয়ে আসবে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিদ্যমান জোট থেকে বের হয়ে এসে ইরাকে থাকা আমেরিকান সৈন্য সরিয়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে ইরানি সমর্থক ইরাকিরা। এটা ইরাককে সিরিয়া ও লেবাননের পাশাপাশি ইরানের শিবিরকে আরও শক্তিশালী করবে, যেমনটা জেনারেল সোলাইমানির লক্ষ্য ছিল। অন্যদিকে সিরিয়া এবং ইরাকে থাকা আমেরিকান সৈন্যরা প্রতিশোধমূলক ইরানিদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হতে পারে। আবার একই সঙ্গে ইরান তার মিত্রদের দ্বারা লেবানন, ইয়েমেন বা গাজা উপত্যকায় আমেরিকান স্বার্থের ওপর আক্রমণ পরিচালনা করতে পারে। ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ জঙ্গিগোষ্ঠী ইসরাইলে হামলা করারও আশঙ্কা রয়েছে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমেরিকান সাইবার ট্যাকগুলো সম্ভবত ইরানের প্রতিশোধের অংশ হতে পারে। মার্কিনিদের পাওয়ার গ্রিড বিকল্প করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে পারে ইরানিরা। স্ট্যাটেজিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকান মিত্র ও তাদের তেল অবকাঠামোকে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। সে ক্ষেত্রে তেল উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রি প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করবে ইরান। নানামুখী প্রক্রিয়ায় বা পন্থায় ইরান আমেরিকানদের ওপর, আমেরিকান সেনাদের ওপর বা আমেরিকান স্বার্থের ওপর হামলা করতে পারে তার নিজের মর্যাদা, ভাবমূর্তি বা স্বার্থ রক্ষার জন্য। আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তার প্রভাব বজায় রাখার জন্যও ইরানিরা আমেরিকান হামলার জবাব দেবেÑ এটা প্রায় নিশ্চিত। আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার জন্যও ইরানের একটা প্রতিশোধমূলক জবাব পাবে আমেরিকাÑ এটা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। 
এসব ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যেও এমন আশাও অনেক বিশ্লেষক করেন যে, হয়তো আপাতত ইরান আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপই নেবে না। 
তেল আবিবের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল স্ট্র্যাজেটিক স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের ইরান বিশেষজ্ঞ গুজানস্কি বলেছেন, ‘আমি মনে করি ইরানিরা এখন হতবাক হয়ে গেছে। ইরানিরা এর আগেও কয়েকজন কমান্ডার হারিয়ে আমেরিকার ওপর প্রতিশোধ নেবার অঙ্গীকার করেছিল সময় মতো প্রতিশোধ নেবে; কিন্তু প্রতিশোধ নিতে পারেনিÑ এগুলো ছিল শুধু ফাঁকা বুলি; এবারও তাই হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ক্রাইসিস গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য প্রোগ্রামের পরিচালক জুস্ট হিল্টারম্যান বলেছেন, আমরা একটা যুদ্ধ দেখতে পাচ্ছি। তারা একটা কোনায় দাঁড়িয়ে আছে; কাজেই তারা এর জবাব দেবে, বলেন হিল্টারম্যান। এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মাইকেল মোরেল বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের কঠোর জবাব দেবে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হবে চরম মূল্য। ফলে অনেক আমেরিকান, এমনকি বেসামরিক আমেরিকানদের জীবন দিতে হতে পারে। এ ঘটনার পর থেকে আমেরিকানরা আর ইরাক, লেবানন, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানে নিরাপদ নন। ইরান হয়তো সরাসরি যুদ্ধে যাবে না। কিন্তু তারা ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা কিংবা সমপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে প্রতিশোধ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের জাতীয় সংসদের ১৭০ সদস্য ইরাক থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের খসড়া প্রস্তাবে সই করেছেন। চূড়ান্তভাবে বিলটি পাস হলে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হবে। 
কিন্তু এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে আমেরিকা। সরিয়ে নিয়েছে ইরাকে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূতকে। ইরান অলরেডি অ্যালার্মিং অ্যাটাক শুরু করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকড করেছেন ইরানিয়ান সাইবার কর্মীরা। ইরান সমর্থিত ইরাকের আধাসামরিক বাহিনী গত শনিবার থেকেই মার্কিন দূতাবাস ও সেনাছাউনিতে উপর্যুপরি আঘাত করছে। ইরাকের মসুলে আল-কিন্দি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরানের বিমানবাহিনী। এ ঘাঁটিতে বহু মার্কিন সেনা ছিল। এমনকি রাখা রয়েছে বহু যুদ্ধাস্ত্রও। সেজন্য এ ঘাঁটিকেই টার্গেট করেছে ইরান এয়ারফোর্স। কয়েক ঘণ্টায় মোট তিনবার অতর্কিতে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে ইরান। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা আছে ইরানের। বিশ্ব অর্থনীতির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ইরানের শক্তিশালী নৌবাহিনী। বিশ্ব নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ন্যক্কারজনক কুকীর্তির প্রতিবাদ না জানালে একটি অন্ধকার পৃথিবী তাদের জন্য অপেক্ষা করবে। হ