আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০১-২০২০ তারিখে পত্রিকা

বান্দরবানের রুপালি ঝরনা পর্যটকদের কাছে টানে

মো. জমির উদ্দিন, বান্দরবান
| শেষ পাতা

বান্দরবান শহর থেকে অদূরে সবুজ পাহাড়ে ক্ষদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাসের একটি পাড়া। এ পাড়াটিকে সিনিয়রপাড়া হিসেবে এলাকাবাসী জানত। কিন্তু কয়েক বছর আগে এলাকাবাসী দেখতে পান, পাহাড় থেকে ঝম ঝম করে পানি নামছে একটি ঝিরিতে। এলাকাবাসী এর নাম দিলেন রুপালি ঝরণা। রুপালি ঝরনা আবিষ্কারের পর থেকে স্থানীয়দের ভিড় বাড়তে থাকে। আস্তে আস্তে এখন প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ছুটে যাচ্ছে সেখানে। 

জেলা শহরের অদূরে বান্দরবান-করানীহাট সড়কে রেইচা বাজার। শহর থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে রেইচা বাজারের পাশেই নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্ট সংলগ্ন ইট বিছানো রাস্তা ধরে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে রুপালি ঝরনার অবস্থান। এ ঝরনার খবর দুই-তিন বছর আগেও বাইরের মানুষের কাছে ছিল অজানা। সিনিয়র পাড়ার বাসিন্দারাই পর্যটন স্পটটি আবিষ্কার করেন। প্রথমে স্থানীয় পর্যটকরা রুপালি ঝরনা দেখতে ভিড় জমায়। এরপর চট্টগ্রাম-ঢাকা সারা দেশ থেকেই পর্যটকরা ছুটে যাচ্ছে স্বচ্ছ ঠান্ডা পানির ছোঁয়া পেতে এ ঝরনায়। এটি এখন জেলার সবচেয়ে কাছের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হয়ে উঠেছে। রুপালি ঝরনার অপূর্ব শোভা দেখতে ছুটে আসছেন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু।
ঝরনার পাশেই চায়ের দোকানদার মো. জাফর আলম জানান, কয়েক বছর আগেও এই ঝরনার খবর বাইরের মানুষ জানতই না। এখন প্রতিদিন শত শত পর্যটকের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে এলাকাটি। ঝরনা এলাকা জমজমাট হয়ে ওঠায় তার বিক্রি বেড়েছে বহুগুণ। তিনি জানান, পর্যটকদের সুবিধার্থে দোকানে বিস্কিট-চায়ের পাশাপাশি ফরমালিন মুক্ত স্থানীয় নানা ধরনের ফল রেখেছেন।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা মো. আলী হোসেন জানান, শহরের কাছাকাছি এত সুন্দর ঝরনা দেখে তার খুব ভালো লাগছে। ঝরনার হিমশীতল পানিতে মনপ্রাণ জুড়িয়ে গেল। ময়মনসিংহ থেকে আসা শাহআলম জানান, বান্দরবান শহরের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন স্পটের কথা বলতে গেলে রেইচা এলাকার রুপালি ঝরনার কথা বলতে হয়। এ ঝরনা খুবই সুন্দর। 
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত জানান, পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে উন্নয়ন বোর্ডে টাইগারপাড়া-সিনিয়রপাড়া ও রুপালি ঝরনা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ করছেন। এ সড়ক পুরোপুরি নির্মাণ হলে রুপালি ঝরনায় পর্যটকের ভিড় আরও বাড়বে এবং স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান অনেকটাই এগিয়ে যাবে। তিনি জানান, সড়কের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে নান্দনিক বেশ কিছু করার চেষ্টা করবেন যাতে পর্যটকরা আরও বেশি বিমোহিত হয়।
বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শামীম হোসেন জানান, বান্দরবানে যে ক’টি ঝরনা রয়েছে তার মধ্যে রুপালি ঝরনা বেশ সুন্দর। আগামীতে এ ঝরনাকে আরও সুন্দররূপে পর্যটকদের কাছে উপস্থাপন করব।