আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০১-২০২০ তারিখে পত্রিকা

জুতার কারখানায় উজ্জ্বল সম্ভাবনা

আবদুর রহমান মিন্টু ও দিপক রায়, রংপুর
| শেষ পাতা

মাস কয়েক আগের কথা। স্বামীর একার আয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিমে পড়তে হতো। কিন্তু এখন আর ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠাতে অর্থ কষ্টে পড়তে হয় না রহিমা বেগমকে। নিজ গ্রামে সদ্য গড়ে ওঠা ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড নামের জুতার কারখানায় কাজ করে দিনমজুর স্বামীকে অর্থ জোগান দিয়ে সহযোগিতা করছেন তিনি। গল্পটি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর বেলতলী গ্রামের রহিমা বেগমের। শুধু রহিমা বেগমই নয়, উপজেলা সদর তথা কুর্শা ইউনিয়নের অনেকেই এখন এ কারখানায় কাজ করে নিজেদের অসচ্ছল পরিবারে অর্থ জোগান দিচ্ছেন।

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের পাশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে মহাসড়ক থেকে মাত্র ৭০০ মিটার দূরে ঘনিরামপুর গ্রামে গড়ে তোলা হচ্ছে ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড নামের জুতার কারখানা। প্রায় আট একর অনাবাদি জমিতে ২০০ কোটি টাকা যৌথ বিনিয়োগে অত্যাধুনিক এ জুতার কারখানাটি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন নীলফামারী জেলা শহরের বাবুপাড়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা আপন দুই ভাই মো. সেলিম হোসেন ও মো. হাসানুজ্জামান। বড় ভাই সেলিম প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এক সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকতেন। বেশ কয়েক মাস আগে তিনি দেশে ফিরে ব্যবসা করছেন। আর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন ছোট ভাই হাসানুজ্জামান। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খাতের ব্যবসায়ী। প্রতিষ্ঠানটিতে দুই ভাইয়ের ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পাশাপাশি আরও ৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক লিমিটেড। এখানে তাইওয়ান থেকে আনা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি। পরীক্ষামূলকভাবে দেশীয় বাজারে বাজারজাত করার লক্ষ্যে বর্তমানে প্রায় দুই শতাধিত শ্রমিক নিয়ে কাজ শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলে সর্বপ্রথম গড়ে ওঠা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এ প্রতিষ্ঠানটি। আরও প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক রয়েছেন প্রশিক্ষণরত। পুরোদমে উৎপাদনমুখী কার্যক্রম শুরু করতে আরও কয়েক মাস লাগবে জুতার কারখানায়
বলে জানা গেছে প্রতিষ্ঠান সূত্রে। আর পুরোদমে কারখানাটি থেকে উৎপাদন শুরু হলে এখানে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে অন্তত ৯০ শতাংশই হবে নারী শ্রমিক। যাদের নিয়োগদানের পর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, কারখানার মূলভবনের দ্বিতীয়তলা পর্যন্ত আনুষঙ্গিক কাজ করা হয়েছে। তৃতীয়তলাসহ আরও কয়েকটি ভবনের কাজ শেষের দিকে। মূল ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয়তলায় তাইওয়ান থেকে নিয়ে আসা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতিগুলো বসিয়ে শুরু করা হয়েছে প্রাথমিক কার্যক্রম। 
কারখানার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড নামের এ প্রতিষ্ঠানটি রপ্তানিমুখী একটি প্রতিষ্ঠান। মূলত চামড়াজাত ও সিনথেটিক জুতা এবং চামড়া জাতীয় অন্যান্য পণ্য এখানে তৈরি করে রপ্তানি করা হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে। এখানে সিনথেটিক জুতা, চামড়াজাত জুতা, বেল্ট ও ওয়ালেট তৈরি করা হবে। কারখানাটি থেকে দৈনিক প্রায় ২২ হাজার জোড়া জুতা উৎপাদন করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন উদ্যোক্তারা। 
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আশা করছি এ বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পুরোপুরিভাবে উৎপাদন শুরু করা যাবে। ইউরোপ, আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের প্রতিনিধিরা এসে কারখানা ঘুরে দেখে গেছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলমান। আশা করছি শিগগিরই তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি চূড়ান্ত হবে। আর চুক্তি চূড়ান্ত হলেই আমরা পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করতে পারব।