আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২০-০১-২০২০ তারিখে পত্রিকা

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড

মরণ ফাঁদে ভোগান্তি চরমে

সংস্কারের নামে ৫ বছরে ব্যয় ৩০ কোটি টাকা

শরীফ সুমন, নারায়ণগঞ্জ
| শেষ পাতা

মাত্র দেড় বছর আগে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানেই সড়কটির বিভিন্ন স্থানের পিচ ‘টিউমারের’ মতো ফুলে ফেঁপে ওঠে অসংখ্য মরণফাঁদ সৃষ্টি হয়েছে। দিনের বেলা এ মরণ ফাঁদগুলো পাশ কাটিয়ে চলতে পারলেও রাতের অন্ধকারে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে। লিংক রোডের চাঁদমারি, সস্তাপুর, শিবু মার্কেট, স্টেডিয়াম, কাজীপাড়া, ভূইগড়ে সড়কের উভয় পাশে এমন অসংখ্য মরণ ফাঁদের সৃষ্টি হয়েছে। ৮ কিলোমিটার এ সড়ক সংস্কারে ৫ বছরের ব্যবধানে ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি টাকার বেশি।

জানা যাায়, গেল এক বছরের ব্যবধানে সড়কটিতে ফুলে ফেঁপে ওঠা পিচের স্থান (টিউমার) অপসারণে এরই মধ্যে ডজনখানেক অপারেশন করা হয়েছে। এত অপারেশন শেষে এখন সড়কটি ক্ষতবিক্ষত অঙ্গে পরিণত হয়েছে। লিংক রোডের টিউমার যেন ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। সর্বশেষ দেড় বছর আগে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল এই সড়কটি। 

জানা গেছে, উড়াল সেতুর (যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার) কারণে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ যাতায়াতের অন্যতম রুট হলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। শহরের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দৈর্ঘ্য ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার। এ সড়কটি মেরামতে গেল ৫ বছরে অন্তত ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল ১২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডটির সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

২০১৮ সালের জুনে শুরু হয় ৮ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ। ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথের অধীনে সংস্কার কাজের দায়িত্ব দেওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি মরণ ফাঁদে ভোগান্তি 

কাজের শুরুতেই কাদাপানিতে পিচ ঢালাই ফেলে নিজেদের অনিয়মের কার্যক্রম তুলে ধরে। সে সময় গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সংস্কার কাজের টেন্ডার পাওয়া এ প্রতিষ্ঠানটি। যদিও এর আগে সড়কটির সংস্কার কাজ পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ওই সময় সংবাদকর্মীদের বলেছিলেন, ‘রাস্তাটি ভালোভাবে করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। কোথাও কাজের মান খারাপ হলে সেখানের ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট সবাইকেই জবাবদিহিতা করতে হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার আর খারাপ কাজ হলে শাস্তিভোগ করতে হবে।
এদিকে মন্ত্রীর নির্দেশনার পরও দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ করে মন্থর গতিতে সম্পন্ন করে ৮ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ। তবে কাজ শেষ হতে না হতেই পিচ ফুলে ফেঁপে ওঠে সাইনবোর্ডগামী সড়কের আর্মি মার্কেটের সামনের অংশ। সড়কের বেহাল অবস্থা দেখে নতুন করে সেখানে ঢালাই মেরামত করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। সড়কের উভয় পাশে বেশ কয়েকস্থানে ফুলে ওঠে সড়কের পিচ। দিনের বেলা সেই পিচ পাশ কাটিয়ে চলতে পারলেও রাতের অন্ধকারে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাঁদমারি, সস্তাপুর, শিবু মার্কেট, স্টেডিয়াম, কাজীপাড়া, ভূঁইগড়ে সড়কের উভয় পাশে পিচ ফুলে টিউমারের আকার ধারণ করে। গেল রমজান মাস শুরুর আগে সড়কটির কিছু অংশ সংস্কার করা হলেও আবারও সড়কটির বিভিন্ন অংশে ফুলে ফেঁপে উঠছে ‘টিউমার’। অভিযোগ রয়েছে, সড়কটির নির্মাণ কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সড়কটিতে অসংখ্য টিউমারের সৃষ্টি হচ্ছে। অথচ সড়কটি সংস্কারের আগে এমনটি ছিল না। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে সড়কটির দুই পাশে চাষাঢ়া থেকে সস্তাপুর পর্যন্ত নির্মিত ড্রেন মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার।
এদিকে গেল এক বছরের ব্যবধানে ‘টিউমার’ অপসারণে কমপক্ষে ডজনখানেক অপারেশন হলেও এখনো সড়কটিতে অসংখ্য টিউমার রয়েই গেছে। আবার কোনো কোনো স্থানে বারবার অপারেশন করায় পিচ উঠে মাটির সড়কে পরিণত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কোনো রকমের দায়সারা কাজ করার কারণে সড়কটি ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পরিণত হয়েছে। চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সড়কটি যে পরিমাণ ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, তাতে আগামী বর্ষা মওসুমে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। 
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ নারায়ণগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লিংক রোডের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ডমুখী ২ কিলোমিটার পর্যন্ত নিচের ভিত ঠিক না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে সড়কটিতে একাধিকবার সংস্কার করা হলেও সুফল মেলেনি। আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি প্রকল্প বরাদ্দের জন্য চিঠি দিয়েছি। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।